সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদী (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯০৩ – ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯) ছিলেন একজন ইসলামী পণ্ডিত, ইসলামপন্থী মতাদর্শী, মুসলিম দার্শনিক, আইনবিদ, ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক, কর্মী এবং গবেষক, যিনি ব্রিটিশ ভারত এবং পরবর্তীতে দেশভাগের পর পাকিস্তানে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর অসংখ্য রচনা, যা "কুরআন ব্যাখ্যা, হাদিস, আইন, দর্শন এবং ইতিহাসের মতো বিভিন্ন শাখা আবৃত করে, যেগুলো উর্দুতে লেখা হয়েছিল। কিন্তু পরে বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয। তিনি ইসলামকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং "প্রকৃত ইসলাম" বলতে তিনি যা বুঝেছিলেন তা প্রচার করতে চেয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে ইসলাম রাজনীতির জন্য অপরিহার্য এবং শরিয়া প্রতিষ্ঠা করা ও রাশেদুন খলিফাদের শাসনের সময়কার মতো ইসলামিক সংস্কৃতি সংরক্ষণ করা এবং ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্রের মতো পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদের প্রভাব থেকে উদ্ভূত অনৈতিকতা পরিত্যাগ করা প্রয়োজন।
তিনি ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠা করেন।
উনি মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৭ বছর আগে। ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ সালে। এই সময়ে পৃথিবী কতোটা পরিবর্তন হয়েছে তা তিনি দেখে যেতে পারেননি। বেঁচে থাকলে হয়তো তিনি কিছু চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করতেন। তিনি সমাজতন্ত্রের পতন দেখেননি। তিনি ওয়ার অন টেরর দেখেন নি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তার মতবাদে পরিচালিত একটি রাজনৈতিক দল। জামায়াতে ইসলামীর উচিৎ বর্তমান পৃথিবীর আলোকে চিন্তাভাবনার কিছু পরিবর্তন ও পরিমার্জন করে এগিয়ে যাওয়া। বাংলাদেশের মতো দেশে শরিয়া আইন বাস্তবায়ন অত্যন্ত কঠিন। মানুষকে মেরে পিটে বেশিদিন দমিয়ে রাখা যায় না। সৌদি আরবসহ অনেক আরব দেশ অনেক কিছু পরিবর্তন করেছে। ওইসব দেশে মেয়েরা এখন গাড়ি চালায়। তালেবান স্টাইলের ইসলাম বাংলাদেশে বাস্তবায়ন অসম্ভব। জামায়াতে ইসলামী যদি তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ার মতো রাষ্ট্র গঠনের চিন্তা করে জনগণকে জানান তবে ভালো হবে। শিক্ষিত আধুনিক মুসলমানরা নিকাবের পরিবর্তে হিজাবই বেশি পছন্দ করে। এবং তা প্রয়োজন।
একটা মানুষকে চিনতে হবে, সে কে? ১৪শ বছর আগে পাসপোর্ট এর প্রয়োজন ছিলো না। এখন আছে। ব্যাংক একাউন্ট খোলার প্রশ্ন ছিলো না। এখন আছে। ন্যাশনাল আইডি কার্ডের প্রয়োজন ছিলো না। এখন আছে। মেয়েদের চাকরি করার বিষয় ছিলো না। এখন আছে। সবগুলোতেই মুখ খোলা ছবি দিতে হবে। মুখ ঢাকা ছবি নয়। ১৪শ বছর আগের আরব দেশের প্রেক্ষাপট আর বর্তমান পৃথিবীর প্রেক্ষাপট এক নয়।
ওই সময় যুদ্ধ হতো তরবারি দিয়ে। এখন যুদ্ধ হয় F-16, F-35, B-52 বোমারু বিমান দিয়ে। চিনুক, ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার দিয়ে। টমা হক ক্রুইজ মিসাইল, সাবমেরিন,পারমাণবিক বোমা। আরো কতো কি! ১৪শ বছর আগে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিলো প্রায় ২০ থেকে ২২ কোটি (২০০ থেকে ২২০ মিলিয়ন)।
এখন পৃথিবীর জনসংখ্যা প্রায় ৮১০ কোটি (৮.১ বিলিয়ন)।
পৃথিবীতে বিভিন্ন অপরাধ সৃষ্টি হয়েছে। নারী পুরুষ উভয়ই এইসব অপরাধে জড়িত। মনে আছে ২০১২ সালে বিএনপির মহাসচিবসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতা গ্রেফতার এড়াতে মুখ ঢাকা বোরকা পরে মহিলা সেজে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে হাইকোর্টে গিয়েছিলেন জামিন নেওয়ার জন্য। নিকাবের সাহায্য নিয়ে তারা নারী হয়ে গিয়েছিলেন।
ইসলাম ধর্মে ইজমা, কিয়াস সেজন্যই রাখা হয়েছে। নতুন নতুন সমস্যা দেখা দিলে (যা ওই সময় ছিলো না।) আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধান বর্তমান কালের পণ্ডিতরা দেবেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন