ইমাম **** আমরা যখন প্রাইমারি স্কুলে পড়তাম তখন আমাদের গ্রামের মসজিদে কোনো বেতনভুক্ত ইমাম ছিলো না। মসজিদে ইমামতি করতেন সহজ-সরল মুরব্বিরা। বেশিরভাগ সময় নামাজ পড়াতেন শ্রদ্ধেয় আফতাব উদ্দিন মাস্টার। উনি আমাদের গ্রামের। বেশিরভাগ সময় তিনি সুরা হাসর, সুরা কদর পড়তেন। উনার পেছনে নামাজ পড়তে পড়তে প্রাইমারি স্কুল জীবনেই এই দুটো সুরা আমার মুখস্থ হয়ে গিয়েছিলো। অনেক দিন মাগরিব এবং এশার নামাজের সময় আমি আজান দিতাম। তখন ফোর ফাইভে পড়তাম। এরপর দীর্ঘ সময় আমাদের মসজিদে ইমামতি করেছেন জনাব আবদুল হামিদ খন্দকার। তিনিও আমাদের গ্রামের। তিনিও আমাদের প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। সেই কালেই তিনি গ্র্যাজুয়েট ছিলেন। তাকেও কোনো বেতন দেয়া হতো না। শুক্রবার জুমার নামাজে মুসুল্লিরা চার আনা, আট আনা দিলে সেগুলো নিতেন। অনেকের আত্মীয় মারা গেলে বা কেউ অসুস্থ হলে নামাজের পর ইমাম সাহেবের হাতে এক টাকা বা দুই টাকা দিয়ে মিলাদ পড়াতে বলতেন। একদিন স্কুলে দুষ্টুমি করায় এই হামিদ স্যার আমাকে মেরেছিলেন। তিনি ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল ছাড়া বাকি চার আঙুলে মোট করে ধরে জালি বেত দিয়ে হাতের তালুতে পেটাতেন। উনি এক জায়গা...
ওয়াকারিমাসেন ************ উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে জাপান গিয়েছিলাম স্টুডেন্ট ভিসায়। রেজাল্ট ভালো ছিলো। এসএসসি, এইচএসসি দুটোই ফার্স্ট ডিভিশন। কম বয়স। দেশে থাকতে কোন কাজকর্ম করিনি। দেশ থেকে টাকা নিয়ে জাপানে পড়াশোনা করা সম্ভব ছিল না। টোকিও পৌঁছে শুনলাম এখানে পার্ট টাইম কাজ করতে হবে নিজের খরচ চালানোর জন্য। পরিচিতজনদের জিজ্ঞেস করে জানলাম পার্ট টাইম কাজ কি? তারা জানালো হোটেলে কাজ করতে হবে। আমি আকাশ থেকে পড়লাম। আরে কয় কি? কান্দিরপাড় বন্ধুদের নিয়ে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে চা খেতে গেলে ওয়েটারকে ধমক দিয়ে বলতাম, এই, গরম পানি দিয়ে কাপগুলো ধুয়ে চার কাপ চা দে আর চারটা খালি কাপ দে। ছাত্র জীবনে চা ভাগাভাগি করে খেতাম। সেই আমি এখন টোকিওতে হোটেলে কাজ করবো?! দুই তিন দিন গভীরভাবে চিন্তা করলাম। গোপনে একটু কাঁদলামও। কয়েকদিন পর আমার কাজ হলো 'আলহাম্বরা' নামের একটা স্প্যানিশ রেস্টুরেন্ট কাম বারে (Bar)। টোকিওর গুরুত্বপূর্ণ সিটি রেলওয়ে স্টেশন UNO নেমে দুই মিনিটে হেঁটে যাওয়া যায়। রেস্টুরেন্ট কাম বারটি ছিলো ১২ তলায়। Alhambra Spanish Bar most commonly refers to either a renowned traditio...