সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

দিল্লি না পিন্ডি

পিন্ডিতে কেউ পালায় নাই বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে। দিল্লীতে তো চোখের সামনেই একটা পুরা দল পালিয়ে আছে। কিন্তু পিন্ডি কোনোভাবেই দিল্লীর সমপর্যায়ের তো নয়, ইভেন সেরকমভাবে প্রাসংগিকও না স্বাধীনতার পর থেকে আর।  যাদেরকে ইংগিত করে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, সেই দলের নেতাদের ছেলে-মেয়েরা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রয়োজনে ঝাঁকে ঝাঁকে ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, অষ্ট্রেলিয়াতে আছে। কিন্তু পাকিস্তানে আসলে কেউই নাই।  তার উপর জিওগ্রাফিক্যালি দেখলে পাকিস্তানের আসলে এদেশের উপর প্রাধান্য বিস্তারের কোনো সুযোগও নাই। তারা আমার দেশের অভিন্ন নদীতে বাঁধ দিয়ে মরুভূমি বানাতে পারে না। ট্রানজিটের নামে ট্যাক্সবিহীন চলাচল আর করিডোর নিতে পারে না। আমাদের দেশে গ্রেফতার বা গুমকৃত লোকজন,  যেমন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন সাহেব বা সাঈদীর মামলার সাক্ষী সুখরঞ্জন বালির মত কাউকে পাকিস্তানে পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেছে ভারতের কারাগারে। আমাদের দেশটাকে তাদের পণ্যের বাজার একতরফাভাবে বানিয়েছে ভারত, পাকিস্তান না। আমাদের সাথে হিউজ বাণিজ্য ঘাটতি ভারতের, পাকিস্তানের না। আমাদের টেক্সটবুক চেইঞ্জ করতে চেয়েছে এক...
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

সুদ

 সুদ হালাল না হারাম? **************** আমাদের দেশে ওয়াজ করা হুজুররা দুর্নীতি, ঘুষ,ধর্ষণ ইত্যাদির চেয়ে সুদ নিয়েই কথা বেশি বলেন।  দেখি সুদ সম্পর্কে ইসলাম কি বলেছে। কুরআনে সুদকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এর ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে, যেমন সূরা বাকারার ২৭৫-২৭৯ আয়াতে সুদখোরদের শয়তান-তাড়ানো পাগলের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে আল্লাহ ব্যবসা হালাল করেছেন কিন্তু সুদ হারাম করেছেন; একইসাথে, সূরা আলে-ইমরানের ১৩০ আয়াতে চক্রবৃদ্ধিহারে সুদ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে এবং সূরা আর-রুমের ৩৯ আয়াতে সুদের মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি আল্লাহর কাছে বাড়ে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সুদের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও এর বিরুদ্ধে আল্লাহর যুদ্ধ ঘোষণার (সূরা বাকারার ২৮০) ইঙ্গিত দেয়।  সুদ সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ কুরআনের আয়াত: সূরা আল-বাকারাহ (২:২৭৫): "যারা সুদ খায়, তারা (কিয়ামতের দিন) এমনভাবে দাঁড়াবে, যেন শয়তান তাদের স্পর্শ করে পাগল করে দিয়েছে। এটা এ কারণে যে, তারা বলে: কেনাবেচা তো সুদেরই মতো। অথচ আল্লাহ কেনাবেচাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম।" সূরা আল-বাকারাহ (২:২৭৬):...

মাওলানা মওদুদী

 সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদী (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯০৩ – ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯) ছিলেন একজন ইসলামী পণ্ডিত, ইসলামপন্থী মতাদর্শী, মুসলিম দার্শনিক, আইনবিদ, ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক, কর্মী এবং গবেষক, যিনি ব্রিটিশ ভারত এবং পরবর্তীতে দেশভাগের পর পাকিস্তানে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর অসংখ্য রচনা, যা "কুরআন ব্যাখ্যা, হাদিস, আইন, দর্শন এবং ইতিহাসের মতো বিভিন্ন শাখা আবৃত করে, যেগুলো উর্দুতে লেখা হয়েছিল। কিন্তু পরে বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয। তিনি ইসলামকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং "প্রকৃত ইসলাম" বলতে তিনি যা বুঝেছিলেন তা প্রচার করতে চেয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে ইসলাম রাজনীতির জন্য অপরিহার্য এবং শরিয়া প্রতিষ্ঠা করা ও রাশেদুন খলিফাদের শাসনের সময়কার মতো ইসলামিক সংস্কৃতি সংরক্ষণ করা এবং ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্রের মতো পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদের প্রভাব থেকে উদ্ভূত অনৈতিকতা পরিত্যাগ করা প্রয়োজন। তিনি ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠা করেন।   উনি মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৭ বছর আগে। ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ সালে। এই সময়ে পৃথিবী কতোটা পরিবর্তন হয়েছে তা তিনি দেখে যেতে পারেননি। বেঁচে থাকলে হয়তো তিনি কিছু...

পাগল

 পাগল ***** অনেক না বলা কথা মুখবইতে লিখে যাই। ছাত্রজীবনে ডায়েরি মেনটেইন করতাম। প্রতিদিনই কিছু না কিছু লিখে রাখতাম উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এখন মুখবই আছে। তাই এখানেই লিখে রাখি। ছাত্রজীবনের কথা। আমি মেজো আপার বাসা কান্দিরপাড় থাকি। দুলাভাই টঙ্গী অলিম্পিয়া টেক্সটাইল মিলে চাকরি করেন। একদিন দুপুরবেলা খেয়ে আমি আমার রুমে শুয়ে ইত্তেফাক পত্রিকা পড়ছিলাম। জানালা দিয়ে দেখলাম একজন ভদ্রলোক এলেন বাসায়। কাপড়চোপড় খুব একটা দামি বা আকর্ষণীয় নয়। লুঙ্গি পরা। ভাবলাম, দুলাভাইয়ের গ্রামের বাড়ি থেকে কেউ এসেছেন হয়তো। আমি আমার মতো করে পত্রিকা পড়ছি। একটু পরে ঘুমিয়ে যাবো। আমি প্রায় সারা জীবন দুপুরে ঘুমাই।  আপার সঙ্গে ভেতরে কি কথা বলেছে তা আমার জানা নেই। কিছুক্ষণ পর ভদ্রলোক আমার রুমে এলেন। আমি ড্রয়িং রুমে থাকতাম। একটা খাট, আমার পড়ার টেবিল আর দুই সেট সোফা। রুমে এসে তিনি আমাকে সালাম দিলেন। আমি শুয়ে থেকেই কাত হয়ে ওয়ালাইকুম আসসালাম বলে বসতে বললাম। তিনি সোফায় বসলেন। আমি পত্রিকাটা বুকের উপর রেখে জিজ্ঞেস করলাম, আপনাকে চিনলাম না। আমাকে কি কিছু বলবেন? তিনি বললেন আপনার বোন বলেছে আপনার সঙ্গে  কথা বলতে। আমি...

আমেরিকার আদালতে একদিন

 আমেরিকার আদালতে একদিন --------------------------------- ২০০০ সালের একদিন। চাকরি করতাম ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্স সিটির এক শেল (Shell) গ্যাস স্টেশনে। পদবি শিফট ম্যানেজার। অনেকেই জানেন, আমেরিকা-ইউরোপে রাত ২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত যে কোনো প্রকার অ্যালকোহল, বিয়ার, হুইস্কি, কনিয়াগ ইত্যাদি বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সব বার, নাইট ক্লাব, ডিসকো রাত ২টায় বন্ধ হয়ে যায়। অনেক কনভিনিয়েন্ট স্টোর ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে। গ্যাস স্টেশন তো বটেই। এসব স্টোরে মদ, বিয়ার পাওয়া গেলেও রাত ২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত বিক্রি নিষিদ্ধ। যদিও ফাঁকফোঁকর দিয়ে কিছু বিক্রি হয় তবে তা সামান্য। খুব সাবধানে।  আবার ২১ বছরের নীচের ছেলেমেয়েদের কাছে অ্যালকোহল বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ। যেমন অপরাধ ২১ বছরের নীচে ছেলেমেয়েদের কাছে সিগারেট বা যে কোনো টোবাকো প্রোডাক্ট বিক্রি। এটি ফেডারেল ক্রাইম। সব সিগারেটের প্যাকেটে লেখা থাকে Underage Sale Prohibited. যদিও ২১ বছরের নীচে অনেক ছেলেমেয়ে সিগারেট ও অ্যালকোহল খায়। কখনো নিজেরাই সেলস এসোসিয়েটদের সঙ্গে খাতির জমিয়ে কেনে বা সিনিয়র কাউকে অনুরোধ করে কেনায়। পুলিশ বা অ্যালকোহল কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্টের লো...

বেঁচেই আছি হারাম খেয়ে

 বেঁচেই আছি হারাম খেয়ে- ------------------------- আমার কিছু কিছু স্মৃতিচারণ অনেকের ভালো লাগবে না জেনেও আমি লিখি। ১৮/১৯ বছর ইউরোপ আমেরিকায় ছিলাম বলে আমার লেখায় পশ্চিমা কালচার আসে। যা আমাদের ধর্মের সঙ্গে যায় না।  লেখালেখির সঙ্গে ধর্মকে না মেশানোই ভালো। আমি আমার অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিকথা লিখে আনন্দ পাই। যারা পড়েন তারা কিছু তথ্যও পান।  আমি আমার জন্য লিখি এবং আমার  টাইমলাইনে লিখি। আমি আমার অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিকথা লিখে আনন্দ পাই। ইনিয়ে বিনিয়ে ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে কথা বলতে পারি না। আমি স্ট্রেইট কথা বলতে ভালোবাসি। আমি আমার দোষের কথা, বদভ্যাসের কথাও লিখি।  এক সময় আমি বেশ ডৃংক করতাম। দেশে আসার পরও কয়েক বছর অভ্যাস ছিলো। আজ অনেক বছর আমি আর অ্যালকোহল ছুঁই না।  ঢাকা সাকুরা বার-এ বেশি যাওয়া হতো। মাঝে মধ্যে পিকক, নাইটিংগেল, শেরাটন, সোনারগাঁও বারেও যাওয়া হতো। ২০০৯ সালে সাকুরা বারে গিয়ে বসেছি। মুসলিম অধ্যুষিত  বাংলাদেশে কতো মানুষ ডৃংক করে তা ওইসব বারে গেলে বুঝা যায়। সাকুরা বার শাহবাগ। হোটেল শেরাটনের ঠিক উল্টো দিকে। দোতলায়। লোকেশনটাও সুন্দর। শাহবাগ এলাকা। সাকুরার পেছনে পিকক। ঢাকায় শ...

জুলাই ঘোষণাপত্র

 জুলাই ঘোষণাপত্র ১। যেহেতু উপনিবেশ বিরোধী লড়াইয়ের সুদীর্ঘকালের ধারাবাহিকতায় এই ভূখণ্ডের মানুষ দীর্ঘ ২৩ বছর পাকিস্তানের স্বৈরশাসকদের বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং নির্বিচার গণহত্যার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করে জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল; এবং ২। যেহেতু, বাংলাদেশের আপামর জনগণ দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই ভূখণ্ডে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বিবৃত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে; এবং ৩। যেহেতু স্বাধীন বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন পদ্ধতি, এর কাঠামোগত দুর্বলতা ও অপপ্রয়োগের ফলে স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের জন আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল এবং গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করেছিল; এবং  ৪। যেহেতু স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতার মূলমন্ত্র গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিপরীতে বাকশালের নামে সাংবিধানি...