সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বিএনপির সঙ্গে আমার বিরোধ

 ইদানীং আমার কিছু পোস্ট দেখে এক বন্ধু কমেন্টে আমাকে জামায়াতে ইসলামী দলে যোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আমিও কমেন্টে তাকে উত্তর দিয়েছি এভাবে.....

"আমি কোনো দলেই কখনো যোগ দিইনি। আমার ইচ্ছা ছিলো, আমি পলিটিক্যাল সাইন্স পড়বো, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পড়বো, ইতিহাস পড়বো। রাজনীতি সচেতন হবো। ক্রিটিক হবো। কিন্তু কোনো দলীয় রাজনীতি করবো না। নিরংকুশ আনুগত্য পাবার মতো নেতা বাংলাদেশে নেই। তুমি জানো, আমার প্রায় সব বন্ধুরাই ছাত্রলীগ, যুবলীগ,আওয়ামী লীগ করতো। কিন্তু আমি কখনো ওই পথে পা বাড়াইনি। জিয়াকে কিশোর বয়সে দেখে বিএনপি সমর্থন করতাম। তুমি নিশ্চয়ই দেখেছো, হাসিনার আমলেও আমি বিএনপির পক্ষে লিখেছি। কিন্তু কোন দিন মিছিলেও যাইনি। 

দেশকে ভালোবেসে, দেশের কল্যাণে এদেশে কেউ রাজনীতি করে না৷ জাতীয় পর্যায় বাদই দিলাম। স্থানীয় পর্যায়ে যারা রাজনীতি করে তারা নিজের লাভের জন্য রাজনীতি করে। কেউ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করবে। এলাকার 'ভাই' হবে। কেউ বাড়িটাড়ি করলে তার অনুমতি লাগবে। অনুমতির পেছনে থাকবে টাকা। 

কেউ ব্যবসায়িক সুবিধা নিবে। কেউ টেন্ডারবাজী করবে। কেউ চাঁদাবাজি করবে। কেউ বিচার আচার করে টাকা খাবে। এই হলো রাজনীতি করার প্রধান উদ্দেশ্য। 

কাছেই কয়েকটা উদাহরণ দিই। কোকা কোলা কোম্পানি আগে নিয়ন্ত্রণ করতো আওয়ামী লীগ। ৫ আগস্টের পর নিয়ন্ত্রণ করে বিএনপি। এখানে অনেক বড় অংকের টাকা উপার্জন হয় মাসে। শাসনগাছা বাস স্ট্যান্ড আগে নিয়ন্ত্রণ করতো আওয়ামী লীগ। এখন করে বিএনপি। দিঘির পাড়- দুর্গাপুর রাস্তাটায় হাঁটা যায় না গোমতীর বালু আর মাটির ট্রাকের অত্যাচারে। গোমতীর বালু এবং মাটি নেয়া সরকারিভাবে নিষেধ। আমি চেয়ে চেয়ে দেখি। আগে এই কাজ করতো আওয়ামী লীগ। এখন করে বিএনপি। সারা বাংলাদেশে এই চিত্র। 

সবাই রাজনীতি করে ব্যক্তিগত লাভে। বড় বড় ঠিকাদাররাও এইজন্যই রাজনীতিতে আসে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির এজেন্ট পাওয়া যায়নি। স্থানীয় এক বিএনপি নেতা আমাকে অনুরোধ করেন এজেন্ট হতে। আমি হই। সারাদিন ভোট কেন্দ্রে বসে দায়িত্ব পালন করেছি। নিজের পকেট থেকে ৫০০ টাকা খরচ হয়েছে। তখন আমার আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত ভালো। দলীয় কারো কাছ থেকে চেয়ে টাকা নেবো এটা আমার দ্বারা হবে না। 

বিএনপির সাথে আমার মতবিরোধ দেখা দেয় জুলাই অভ্যুত্থানের পর। জুলাই যোদ্ধারা প্রথমেই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সরানোর দাবী করলে বিএনপি বাধা দেয়। বলে সাংবিধানিক সংকট দেখা দিবে। প্রধানমন্ত্রীসহ পুরো ক্যাবিনেট যখন পালিয়ে গেলো তখন সাংবিধানিক সংকট দেখা দেয়নি? দেশে ৩ দিন সরকার ছিলো না। ড.ইউনূস ৮ তারিখ শপথ নেন। তখন সাংবিধানিক সংকট হয়নি? তারপর জাতীয় ঐক্যমত কমিশনে আলোচনায় প্রায় সব প্রধান বিষয়ে বিএনপির আপত্তি। বিএনপির আপত্তি বা নোট অফ ডিসেন্ট এর কারণে আজ গণভোট হচ্ছে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত বিএনপি ও তোমরা গণভোটে 'না' প্রচারণা চালিয়েছো। আমি প্রথম থেকেই হ্যাঁ। গণভোটের একটি পয়েন্টও দেশ, গনতন্ত্র ও সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। বিএনপির জন্য ক্ষতিকর। এটা না বুঝার মতো আহাম্মক আমি না। আমি দেশের ভালো চাই। কোনো দলের না। জামাত এখন স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি হয়ে গেছে! জিয়াউর রহমান অধ্যাপক গোলাম আজমকে পাকিস্তান থেকে এনেছেন। বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়েছেন জিয়াউর রহমান। জামাতকে রাজনীতি করার বৈধতা দিয়েছেন জিয়াউর রহমান। সারাজীবন জামাত বিএনপি ভাই ভাই ছিলো।

মুসলিম লীগের শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন জিয়া।

২০০১  সালে জামাতের সাথে জোট করে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে মন্ত্রী বানিয়েছিলো। 

আরও অনেক কথা ছিলো। আমি গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে। যে দল হ্যাঁ এর পক্ষে থাকবে আমি তাদের সমর্থন করবো।"

এটাই  নাগরিক হিসেবে আমার  দায়িত্ব। এই নির্বাচন, ভোট ইত্যাদির ব্যাপারে আমাকে বুঝাতে হবে না। অনেকের চেয়ে আমি বেশি বুঝি।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অশ্লীল নাম

বাংলাদেশের কিছু প্রতিষ্ঠান ও স্থানের বিচিত্র বা বিকৃত অর্থের নাম যা পরিবর্তন করা উচিতঃ ১. বোদা মহিলা মহাবিদ্যালয়, বোদা, পঞ্চগড় ২. চুমাচুমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি ৩. সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খুলনা ৪. মানুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নীলফামারি ৫. সোনাকাটা ইউনিয়ন, তালতলী, বরগুনা ৬.বড়বাল ইউনিয়ন, মিঠাপুকুর, রংপুর ৭.সোনাখাড়া ইউনিয়ন, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ৮. ধনকামড়া গ্রাম, ভোদামারা, দিনাজপুর ৯.গোয়াকাটা, দোহার, ঢাকা ১০. গোয়াতলা, ময়মনসিংহ ১১.লেংটার হাট, মতলব, চাঁদপুর

বোতল

বোতল মানব জীবনে বোতল অপরিহার্য । বোতল অনেক অর্থেও ব্যবহার হয় । কোনো কোনো এলাকায় আনস্মার্ট, বেয়াক্কেল প্রকৃতির লোককেও বোতল বলা হয় । ইউরোপ আমেরিকায় থাকতে আমি ডৃংক করতাম । হার্ড ডৃংক কমই খেতাম । প্রতিদিনই বিয়ার খেতাম । বিয়ার স্বাস্থ্য ভালো রাখে ও কাজ করতে এনার্জি জোগায় । পরিমিত বিয়ার খেলে কেউ মাতাল হয় না । মাঝে মাঝে বিশেষ কোনো পার্টিতে হুইস্কি খাওয়া হতো । তাও দামি ব্র্যান্ডের । জনি ওয়াকার ব্ল্যাক লেবেল, টিচার্স, পাসপোর্ট, হেনেসি, শিভাস রিগাল, জ্যাক ড্যানিয়েলস । সাকুরায়ও অনেক সময় এসব ব্র্যান্ডের হুইস্কি পাওয়া যায় না । তো দেশে আসার পরও কিছু দিন ডৃংক করেছিলাম । কুমিল্লায় সরকার অনুমোদিত একটা মদের দোকান আছে চক বাজারে । নামঃ নাদের ট্রেডিং কোং । এটা প্রায় আজ ৫০ বছর । এখানে বিদেশি ব্র্যান্ডের ডৃংক পাওয়া যায় না । দেশিয় কোম্পানি ‘কেরো এন্ড কোং’ যা দর্শনায় অবস্থিত তার তৈরি ভদকা, হুইস্কি, জিন পাওয়া যায় । আমাদের সমাজতো রক্ষনশীল । তাই কান্দিরপাড় থেকে একটা স্প্রাইট কিনে অর্ধেক খেতে খেতে চক বাজার যেতাম । নাদেরে যখন পৌঁছতাম তখন স্প্রাইটের বোতল অর্ধেক খালি হয়ে যেতো । আমি বাবুল ভাইকে স্প্...

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ সরকারঃ শেখ মুজিবের শাসনামল ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের মার্চে শুরু হয়ে সেই বছরেরই ডিসেম্বরের দিকে গিয়ে শেষ হয়। এই দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল। এই দুর্ভিক্ষকে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক হিসেবে গন্য করা হয়। ওই সময় আমি বুঝতাম। ক্লাশ ফোরে পড়তাম। আহারে ! কি যে অভাব ! অনেকের মতো আমরাও ভাত না খেয়ে রুটি খেয়েছি । তাও পরিমিত । কখনো জাউ খেয়েছি । শুকনো মরিচ পাওয়া যেতো না । কাঁচা মরিচের কেজি ছিলো ১৫০ টাকা । লবন ১২০ টাকা । আর সোনার ভরি ছিলো তখন ১৫০ টাকা । সোনা শুধু ওই সময় কম দাম ছিলো । চারদিকে অভাব । সারাদেশের মানুষের হাহাকার । কতো মানুষ না খেয়ে মারা গেছেন ! বিদেশি রিলিফ সব আওয়ামী লীগের লোকেরা চুরি করেছে । আর বেশিরভাগ রিলিফ সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে পাচার হয়েছিলো । তখন বর্ডার খোলা ছিলো তখন । মহিলাদের শাড়ি কাপড় ছিলো না । অনেকে মাছ ধরার জাল পরে লজ্জাস্থান ঢেকেছিলো । এসব ছবি পত্রিকায়ও ছাপা হয়েছিলো । কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাদের কোনো অভাব ছিলো না । বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র দুই বছর তিন মাসের মাথায় ...