সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সুন্নতি দাড়ি

 সুন্নতি দাড়ি 

------------

অনলাইনে যারা ব্যবসা করে তাদের প্রায় সকলেরই (অধিকাংশ) 'সুন্নতি' দাড়ি আছে। মাথায় টুপি আছে। গায়ে পাঞ্জাবি আছে। ইলিশ মাছ, মধু,খেজুর, সরিষার তেল, ট্রাউজার,পাঞ্জাবি বিক্রেতারা বিজ্ঞাপনে আলহামদুলিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ, আল্লাহর রহমতে ইত্যাদি শব্দ তারা ব্যবহার করবেই। তাদের কাছ থেকে কেনাকাটা করে আমি ঠকেছি। এই দাড়িওয়ালাদের আমি এক ফোঁটাও বিশ্বাস করিনা। এরা ধর্মীয় ভাব নেয় যেন মানুষ বিশ্বাস করে লোকটা পরহেজগার হবে। নিশ্চয়ই প্রোডাক্ট ভালো হবে। আমার দেখা সব 'সুন্নতি' দাড়িওয়ালারা প্রতারক। জোচ্চর। বদমাইশ। 

দাড়ি আমারও আছে তবে ছোট। এদের মতো ৬/৮ ইঞ্চি লম্বা দাড়ি নয়। লম্বা দাড়ি মানে 'সুন্নতি' দাড়ি মুসলমানের কোনো প্রমাণ হতে পারে না। 


নরেন্দ্র মোদিরও 'সুন্নতি' দাড়ি আছে। অনেক হিন্দু পুরোহিতের লম্বা দাড়ি আছে। রবীন্দ্রনাথের দাড়ি যে কোনো মাওলানাকে হার মানাবে। রুশ লেখক লিও টলস্টয়, ম্যাক্সিম গোর্কি, আন্তব চেখভের বিরাট লম্বা দাড়ি ছিলো। সমাজতন্ত্রের জনক কার্ল মার্কস এর বিরাট বড় দাড়ি ছিলো। ফ্রেডারিখ এঙ্গেলস এর দাড়ি ছিলো। ফিদেল কাস্ত্রোর দাড়ি ছিলো। হো চি মিন এর দাড়ি ছিলো। শিখ সম্প্রদায়ের সবার লম্বা দাড়ি আছে। ধার্মিক ইহুদিদের দাড়ি আছে। আরও অসংখ্য অন্য ধর্মাবলম্বীদের 'সুন্নতি' দাড়ি আছে।


এখন যদি আমরা সৌদি আরবসহ অন্যান্য আরব দেশের নেতাদের দিকে তাঁকাই তাহলে কি দেখি? হিন্দি সিনেমার ভিলেইনের মতো ফ্রেন্স কাট দাড়ি। 

অনেক মুসলিম দেশের নেতাদের কোনো দাড়িই নেই। ক্লিন সেইভ। টার্কিশ প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এর দাড়ি নেই। ক্লিন সেইভ। তিনি একজন কোরানে হাফেজ। সাদ্দাম হোসেনও ক্লিন সেইভ করতেন। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হাফেজ আল আসাদ ক্লিন সেইভ করতেন। তার ছেলে বাসার আল আসাদ ক্লিন সেইভ করতেন। মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত ক্লিন সেইভ করতেন। হোসনি মোবারক ক্লিন সেইভ করতেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি ক্লিন সেইভ করেন। পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ক্লিন সেইভ করেন। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ক্লিন সেইভ করেন। 

জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ ক্লিন সেইভ করেন। লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট গাদ্দাফিও ক্লিন সেইভ করতেন। 


শুধু বাংলাদেশের মুসলমানরাই 'সুন্নতি' দাড়ি রাখে। ছোট ছোট পোলাপানও নাভী পর্যন্ত দাড়ি রাখে।

বাংলাদেশ ৯০% মুসলমান অধ্যুষিত দেশ। এখানে এতো অপরাধ হয় কেনো? কারা করে? 'সুন্নতি' দাড়িওয়ালারা? আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি এমন 'সুন্নতি'

দাড়িওয়ালা অনেকে ভেজাল ওষুধ ও খাদ্য বিক্রি করে।  ঘরে বউ রেখে বাইরে পতিতালয়ে যায়।

(বি:দ্র: সুন্নতি দাড়িওয়ালা কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে শুভ্র,সুন্দর, সৎ ও মহৎ হতে পারে। তা বিশ্বাস করি। ) 

Karim Chowdhury 

১৯ এপ্রিল ২০২৬

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ সরকারঃ শেখ মুজিবের শাসনামল ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের মার্চে শুরু হয়ে সেই বছরেরই ডিসেম্বরের দিকে গিয়ে শেষ হয়। এই দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল। এই দুর্ভিক্ষকে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক হিসেবে গন্য করা হয়। ওই সময় আমি বুঝতাম। ক্লাশ ফোরে পড়তাম। আহারে ! কি যে অভাব ! অনেকের মতো আমরাও ভাত না খেয়ে রুটি খেয়েছি । তাও পরিমিত । কখনো জাউ খেয়েছি । শুকনো মরিচ পাওয়া যেতো না । কাঁচা মরিচের কেজি ছিলো ১৫০ টাকা । লবন ১২০ টাকা । আর সোনার ভরি ছিলো তখন ১৫০ টাকা । সোনা শুধু ওই সময় কম দাম ছিলো । চারদিকে অভাব । সারাদেশের মানুষের হাহাকার । কতো মানুষ না খেয়ে মারা গেছেন ! বিদেশি রিলিফ সব আওয়ামী লীগের লোকেরা চুরি করেছে । আর বেশিরভাগ রিলিফ সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে পাচার হয়েছিলো । তখন বর্ডার খোলা ছিলো তখন । মহিলাদের শাড়ি কাপড় ছিলো না । অনেকে মাছ ধরার জাল পরে লজ্জাস্থান ঢেকেছিলো । এসব ছবি পত্রিকায়ও ছাপা হয়েছিলো । কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাদের কোনো অভাব ছিলো না । বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র দুই বছর তিন মাসের মাথায় ...

বোতল

বোতল মানব জীবনে বোতল অপরিহার্য । বোতল অনেক অর্থেও ব্যবহার হয় । কোনো কোনো এলাকায় আনস্মার্ট, বেয়াক্কেল প্রকৃতির লোককেও বোতল বলা হয় । ইউরোপ আমেরিকায় থাকতে আমি ডৃংক করতাম । হার্ড ডৃংক কমই খেতাম । প্রতিদিনই বিয়ার খেতাম । বিয়ার স্বাস্থ্য ভালো রাখে ও কাজ করতে এনার্জি জোগায় । পরিমিত বিয়ার খেলে কেউ মাতাল হয় না । মাঝে মাঝে বিশেষ কোনো পার্টিতে হুইস্কি খাওয়া হতো । তাও দামি ব্র্যান্ডের । জনি ওয়াকার ব্ল্যাক লেবেল, টিচার্স, পাসপোর্ট, হেনেসি, শিভাস রিগাল, জ্যাক ড্যানিয়েলস । সাকুরায়ও অনেক সময় এসব ব্র্যান্ডের হুইস্কি পাওয়া যায় না । তো দেশে আসার পরও কিছু দিন ডৃংক করেছিলাম । কুমিল্লায় সরকার অনুমোদিত একটা মদের দোকান আছে চক বাজারে । নামঃ নাদের ট্রেডিং কোং । এটা প্রায় আজ ৫০ বছর । এখানে বিদেশি ব্র্যান্ডের ডৃংক পাওয়া যায় না । দেশিয় কোম্পানি ‘কেরো এন্ড কোং’ যা দর্শনায় অবস্থিত তার তৈরি ভদকা, হুইস্কি, জিন পাওয়া যায় । আমাদের সমাজতো রক্ষনশীল । তাই কান্দিরপাড় থেকে একটা স্প্রাইট কিনে অর্ধেক খেতে খেতে চক বাজার যেতাম । নাদেরে যখন পৌঁছতাম তখন স্প্রাইটের বোতল অর্ধেক খালি হয়ে যেতো । আমি বাবুল ভাইকে স্প্...

ফেবুতে মেয়েদের পোস্ট

ফেবুতে মেয়েদের পোস্ট সকালে ঘুম ভেঙে দেখি আট টা বাজে । শরীরটাও বেশি ভালো লাগছে না । আবার ঘুমাল াম । ১১টায় উঠলাম । ২ মগ চা খেলাম ( বাজারের হিসেবে ৮ কাপ হবে)। সবাই জানেন আমি স্মোক করি । চেইন স্মোকার । কম্পিউটার খোঁচাখুঁচি করে নিজে নিজেই ঠিক করলাম । প্রায় দুই ঘন্টা । আমি থাকি চার তলায় । দুপুর ১টা বাজে । খেতেও ইচ্ছে করছে না কিছু । তখনো মুখ ধুই নি । কম্পিউটারে খোঁচাখোঁচি করতে গিয়ে দেখি এক মেয়ে তার পা’য়ের একটা ছবি আপলোড করেছে । দেখলাম এই পা মানে ঠ্যাং এর ছবিতে লাইক পড়েছে ৯৪৭ টা । কমেন্ট অসংখ্য । ‘কতো সুন্দর এই পা । না জানি তুমি কতো সুন্দর । পা তো নয় যেন একটা গোলাপ ফুল’ । এ জাতীয় অনেক কমেন্ট । আমি পোষ্ট টা দেখে কিছুটা অবাক হলাম । একটা ঠ্যাং এর এতো কদর ! প্রায়ই লক্ষ্য করি, মেয়েরা যখনি কিছু আপলোড করে সেটা তাদের পায়ের ছবিই হোক,হাতের ছবিই হোক আর নাকের ছবিই হোক বা এক চোখের ছবিই হোক সে সব ছবিতে অগনিত লাইক আর কমেন্ট । মেয়ে বন্ধুদের ছোট করার জন্য বলছি না, ফেবুতে প্রায়ই দেখি মেয়েরা কোনো ছবি বা দু এক লাইন হাবিজাবি লিখলে লাইক আর কমেন্টের বন্যা বয়ে যায় । অনেক মেয়েরা শখ করে পিঠা, ...