সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সিলভিয়া


 সিলভিয়া                                            

----------------

বাংলাদেশে কিছু আতেল আছে। তারা টিভিতে এসে খুব অহংকার করে বলে, আমি এই দেশ নিয়ে খুব আশাবাদী। আমাদের দেশে এই আছে সেই আছে। বাংলাদেশ একদিন ঘুরে দাঁড়াবে। এসব মুখস্থ করা কথা উনারা প্রায়ই বলেন। উনারা তো আতেল হতাশামূলক কথা উনারা বলতে পারেন না। এইসব আতেলরা জাতিকে উজ্জীবিত করার বদলে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মূল সমস্যার দিকে তারা কখনোই আলোকপাত করে না। 

আমার দৃষ্টিতে এই দেশের প্রধান সমস্যা বিপুল পরিমাণ  জনসংখ্যা। ছোট্ট একটা দেশে ২০ কোটি লোক। রাস্তায় হাঁটা যায় না। কুমিল্লা কান্দিরপাড় মোড় থেকে মনোহরপুরের দিকে যে রাস্তাটা গিয়েছে এই রাস্তায় হাঁটতে গেলে অনেক মহিলার সাথেই ধাক্কা লাগে। ঢাকার কথা বাদই দিলাম। বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা এখন শীর্ষে আছে। ঢাকার জনসংখ্যা সাড়ে তিন কোটি। অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের ৫৫ গুন বড়। অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা আড়াই কোটি। কানাডা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। কানাডার জনসংখ্যা সাড়ে তিন কোটি। সুইডেন ইউরোপের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ। সুইডেনের জনসংখ্যা এক কোটি। ইউরোপ মহাদেশে অনেক বড় বড় দেশ আছে। জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন,  সুইডেন,ইউক্রেন, পোল্যান্ড, ইউনাইটেড কিংডম। ইউরোপের কোন দেশের জনসংখ্যাই ২০ কোটি নয়। রাশিয়া পৃথিবীর বৃহত্তম দেশ। রাশিয়ার জনসংখ্যা ১৪ কোটি ৩০ লাখ।  ঘরের কাছে মালয়েশিয়া। আয়তনে বাংলাদেশের তিনগুন বড়। মালয়েশিয়ার জনসংখ্যা ৩ কোটি। 

বাংলাদেশে বিশ কোটি লোকের জন্য মাত্র দুই লাখ পুলিশ সদস্য আছে। ২০ কোটি লোকের দেশে ২ লাখ পুলিশ সদস্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব? এই যে দেশে এত অপরাধ হচ্ছে তার একমাত্র কারণ বিপুল জনসংখ্যা। 

অনেকেই মনে করেন জনসংখ্যা একটা সম্পদ। জনসংখ্যা তখনই সম্পদ যখন তা দেশের সম্পদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে। নইলে তা বোঝা। তাছাড়া এই দেশের অধিকাংশ মানুষ অশিক্ষিত। কোটি লোক বেকার। তারা কি করবে? অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়বে।

নিজের ব্যক্তিগত একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। 

তখন ভিয়েনায় Mcdonald's এ চাকরি করতাম। ১৯৯১ সাল। পরিপূর্ণ যুবক বয়স। থাকি ইউরোপ মহাদেশের একটি সুন্দর দেশে। অস্টৃয়া খুব সুন্দর দেশ। ড্যানিউব নদীর তীরে রাজধানী ভিয়েনা। আনন্দে থাকার এইতো দারুণ সুযোগ।

আরামের চাকরি। ইউরোপ আমেরিকার লোকেরা কথায় কথায় মজা করে। ওদের সঙ্গে অনেক বছর থেকে আমার ভেতরেও এই রোগ বাসা বেধেছে। আমি অনেক চেষ্টা করি ভাব নিয়ে মুরুব্বি টাইপ গম্ভীর প্রকৃতির হওয়ার। কিন্তু পারিনা। এমনও হতে পারে বিদেশের ফানি ক্যারেক্টারগুলো আমাকে প্রভাবিত করে।

আমাদের ম্যানেজার ছিলেন সিলভিয়া হোফগাটনার। কেনো যেনো ওই ভদ্রমহিলা আমাকে খুব পছন্দ করতেন। ব্রেক টাইম বা কাজের ফাঁকে আমাকে ডেকে অফিস রুমে নিয়ে গল্প করতেন। বয়সে আমার এক বছরের বড় ছিলেন। 

তো একদিন সিলভিয়া আমাকে প্রশ্ন করলেন।

ক্যারিম, বিফিল লইতে ইন বাংলাদেশ? বাংলাদেশের লোক সংখ্যা কতো?

আমিঃ হুনদ্রেদ ৎচুয়ানসিক মিলিয়ন। একশ বিশ মিলিয়ন ।(তখন বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১২ কোটি ছিলো,আর অস্টৃয়ার জনসংখ্যা ছিলো ৭৫ লাখ। এখন ৮২ লাখ। ওঁরা লাখ কোটি বুঝেনা। মিলিয়ন, বিলিয়ন বুঝে)।

সিলভিয়াঃ ভাসসসসস !!!! কিইইইইইই!!(খুব অবাক হয়ে, জীবনে প্রথম শোনা কথার মতো)। লুকস্ দ্যু। কাইনে স্পাস। তুমি মিথ্যা বলছো। দুষ্টুমি করো নাতো।

আমিঃ ভারুম ইখ ছাগে ডিখ ফালস্?  

আমি কেনো তোমাকে ভুল বলবো?

সিলভিয়াঃ ইখ গ্লাউবে নিখত্। আমি বিশ্বাস করিনা। 

বিস্ত দু জিখা? তুমি কি সিউর?

আমিঃ ইখ বিন জিখা। আমি সিউর।

সিলভিয়াঃ ভি গ্রসে বাংলাদেশ? বাংলাদেশ কতো বড়?

আমিঃ আঈণ বিসখেণ গ্রসে দান অস্তারাইখ। অস্টৃয়ার চেয়ে সামান্য বড়।

সিলভিয়াঃ ভারুম সো ফিল লইতে? এতো মানুষ কেনো? 

বাংলাদেশ লইতে কাইনে আরবাইত?

বাংলাদেশের মানুষের কোনো কাজ নেই?


নুর এসেন উন্দ ফিকেন? 

শুধু খায় আর সেক্স করে।

এবার সে শুরু করলো, সুইডেন জনসংখ্যা ৮০ লাখ, নরওয়ে ৪৭ লাখ, সুইটজারল্যান্ড ৪২ লাখ, নিউজিল্যান্ড ৪৫ লাখ, দুই হাত দুই দিকে উপরে তুলে দেখিয়ে বললো, এতো বড় দেশ কানাডা মাত্র ৩ কোটি, অস্ট্রেলিয়া ২.৫০ কোটি। 

আমি কোনো সদুত্তর না পেয়ে দুষ্টুমি করে বললাম, আমাদের দেশের মেয়েদের ফারটিলিটি বেশি। তাছাড়া আমাদের দেশটা গরিব। নাগরিকদের বিনোদনের ব্যবস্থা কম। ডিসকো, নাইট ক্লাব, বার, পাব, ‘এডাল্ট এন্টারটেইনমেন্ট’ ক্লাবের মতো বিনোদনগুলো আমাদের দেশে নেই। তাই বেশির ভাগ প্রাপ্ত বয়স্ক নারী পুরুষ সেক্স করাকেই প্রধান বিনোদন মনে করেন হয়তো। তাছাড়া আমাদের ইসলাম ধর্ম জন্ম নিয়ন্ত্রণকে ধর্ম বিরোধী কাজ মনে করে।

আমাদের দেশে এমন বাবাও আছেন যারা অনেক জনের বাপ হতে চান। অনেকেই তাকে বাপ ডাকবে এতে তিনি গর্বিত বোধ করবেন। তাই আমাদের পপুলেশন বেশি। 

বেঁচে থাকলে ভিয়েনার বাসায় অস্টৃয়ার সিটিজেন সিলভিয়া এখন মধ্য বয়সি এক মহিলা।

এখন যদি সিলভিয়া শুনেন আমাদের জনসংখ্যা ১৮/২০ কোটি তবে নির্ঘাৎ সিলভি হার্ট ফেইল করবেন।

 মাঝে মাঝে তাদের খুব মিস করি। সেই দিনে ফিরে যেতে অবাস্তব ইচ্ছে হয়।

ম্যাকডোনাল্ডসের দেয়া কৃসমাস পার্টির ফটো সেশনে আমি-সিলভিয়া।

Karim Chowdhury

18 May, 2026

নোট : সিলভিয়ার সাথে এই আলোচনায় আমি বিরাট শরম পাইছিলাম। আমরা চার ভাই চার বোন। আমি সবার ছোট। এই আলোচনার পর আমি ৩ ভাই ৩ বোনকে মেরে ফেলেছি। এরপর যে ই আমাকে জিজ্ঞেস করতো আমরা কয় ভাইবোন। আমি নির্দ্বিধায় বলতাম ১ ভাই ১ বোন। 🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣।

#Bangladesh #followerseveryone #follower

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ সরকারঃ শেখ মুজিবের শাসনামল ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের মার্চে শুরু হয়ে সেই বছরেরই ডিসেম্বরের দিকে গিয়ে শেষ হয়। এই দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল। এই দুর্ভিক্ষকে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক হিসেবে গন্য করা হয়। ওই সময় আমি বুঝতাম। ক্লাশ ফোরে পড়তাম। আহারে ! কি যে অভাব ! অনেকের মতো আমরাও ভাত না খেয়ে রুটি খেয়েছি । তাও পরিমিত । কখনো জাউ খেয়েছি । শুকনো মরিচ পাওয়া যেতো না । কাঁচা মরিচের কেজি ছিলো ১৫০ টাকা । লবন ১২০ টাকা । আর সোনার ভরি ছিলো তখন ১৫০ টাকা । সোনা শুধু ওই সময় কম দাম ছিলো । চারদিকে অভাব । সারাদেশের মানুষের হাহাকার । কতো মানুষ না খেয়ে মারা গেছেন ! বিদেশি রিলিফ সব আওয়ামী লীগের লোকেরা চুরি করেছে । আর বেশিরভাগ রিলিফ সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে পাচার হয়েছিলো । তখন বর্ডার খোলা ছিলো তখন । মহিলাদের শাড়ি কাপড় ছিলো না । অনেকে মাছ ধরার জাল পরে লজ্জাস্থান ঢেকেছিলো । এসব ছবি পত্রিকায়ও ছাপা হয়েছিলো । কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাদের কোনো অভাব ছিলো না । বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র দুই বছর তিন মাসের মাথায় ...

বোতল

বোতল মানব জীবনে বোতল অপরিহার্য । বোতল অনেক অর্থেও ব্যবহার হয় । কোনো কোনো এলাকায় আনস্মার্ট, বেয়াক্কেল প্রকৃতির লোককেও বোতল বলা হয় । ইউরোপ আমেরিকায় থাকতে আমি ডৃংক করতাম । হার্ড ডৃংক কমই খেতাম । প্রতিদিনই বিয়ার খেতাম । বিয়ার স্বাস্থ্য ভালো রাখে ও কাজ করতে এনার্জি জোগায় । পরিমিত বিয়ার খেলে কেউ মাতাল হয় না । মাঝে মাঝে বিশেষ কোনো পার্টিতে হুইস্কি খাওয়া হতো । তাও দামি ব্র্যান্ডের । জনি ওয়াকার ব্ল্যাক লেবেল, টিচার্স, পাসপোর্ট, হেনেসি, শিভাস রিগাল, জ্যাক ড্যানিয়েলস । সাকুরায়ও অনেক সময় এসব ব্র্যান্ডের হুইস্কি পাওয়া যায় না । তো দেশে আসার পরও কিছু দিন ডৃংক করেছিলাম । কুমিল্লায় সরকার অনুমোদিত একটা মদের দোকান আছে চক বাজারে । নামঃ নাদের ট্রেডিং কোং । এটা প্রায় আজ ৫০ বছর । এখানে বিদেশি ব্র্যান্ডের ডৃংক পাওয়া যায় না । দেশিয় কোম্পানি ‘কেরো এন্ড কোং’ যা দর্শনায় অবস্থিত তার তৈরি ভদকা, হুইস্কি, জিন পাওয়া যায় । আমাদের সমাজতো রক্ষনশীল । তাই কান্দিরপাড় থেকে একটা স্প্রাইট কিনে অর্ধেক খেতে খেতে চক বাজার যেতাম । নাদেরে যখন পৌঁছতাম তখন স্প্রাইটের বোতল অর্ধেক খালি হয়ে যেতো । আমি বাবুল ভাইকে স্প্...

ফেবুতে মেয়েদের পোস্ট

ফেবুতে মেয়েদের পোস্ট সকালে ঘুম ভেঙে দেখি আট টা বাজে । শরীরটাও বেশি ভালো লাগছে না । আবার ঘুমাল াম । ১১টায় উঠলাম । ২ মগ চা খেলাম ( বাজারের হিসেবে ৮ কাপ হবে)। সবাই জানেন আমি স্মোক করি । চেইন স্মোকার । কম্পিউটার খোঁচাখুঁচি করে নিজে নিজেই ঠিক করলাম । প্রায় দুই ঘন্টা । আমি থাকি চার তলায় । দুপুর ১টা বাজে । খেতেও ইচ্ছে করছে না কিছু । তখনো মুখ ধুই নি । কম্পিউটারে খোঁচাখোঁচি করতে গিয়ে দেখি এক মেয়ে তার পা’য়ের একটা ছবি আপলোড করেছে । দেখলাম এই পা মানে ঠ্যাং এর ছবিতে লাইক পড়েছে ৯৪৭ টা । কমেন্ট অসংখ্য । ‘কতো সুন্দর এই পা । না জানি তুমি কতো সুন্দর । পা তো নয় যেন একটা গোলাপ ফুল’ । এ জাতীয় অনেক কমেন্ট । আমি পোষ্ট টা দেখে কিছুটা অবাক হলাম । একটা ঠ্যাং এর এতো কদর ! প্রায়ই লক্ষ্য করি, মেয়েরা যখনি কিছু আপলোড করে সেটা তাদের পায়ের ছবিই হোক,হাতের ছবিই হোক আর নাকের ছবিই হোক বা এক চোখের ছবিই হোক সে সব ছবিতে অগনিত লাইক আর কমেন্ট । মেয়ে বন্ধুদের ছোট করার জন্য বলছি না, ফেবুতে প্রায়ই দেখি মেয়েরা কোনো ছবি বা দু এক লাইন হাবিজাবি লিখলে লাইক আর কমেন্টের বন্যা বয়ে যায় । অনেক মেয়েরা শখ করে পিঠা, ...