সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান


 ফেলে আসা দিনগুলো 

******************

ফেলে আসা দিনগুলোর কতো স্মৃতি! ২৮ বছর আগে। ১৯৯৮ সালে। বিল ক্লিনটন তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউস ইন্টার্ন সুন্দরী মনিকা লিউনিস্কির সাথে প্রেসিডেন্টের পরকীয়া প্রেম নিয়ে সারা আমেরিকা তোলপাড়। ইন্ডিপেনডেন্ট কাউন্সিলের ল ইয়ার কেনেথ স্টার ক্লিনটনকে প্রায় ইমপিচমেন্টের অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিলেন। ক্লিনটন বেঁচে গিয়েছিলেন তার বিপুল জনপ্রিয়তায়। বলা হয়ে থাকে কেনেডির পর ক্লিনটনই ছিলেন আমেরিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট। 

আমি থাকতাম ম্যানহাটন থার্ড এভিনিউতে। ম্যানহাটন একটা দ্বীপ। একদিকে ইস্ট রিভার আরেক দিকে হাডসন রিভার। খুবই সুন্দর লোকেশন। একটু হেঁটে গেলেই ফিফ্থ এভিনিউতে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং। ১০৮ তলা। 

১৫ মিনিট হেঁটে গেলেই ফার্স্ট এভিনিউতে জাতিসংঘের সদর দপ্তর। ফার্স্ট এভিনিউ ঘেঁষে ইস্ট রিভার। ম্যানহাটন বা নিউইয়র্ক সিটির পূর্ব দিক দিয়ে বয়ে গেছে বলেই এই নদীর নাম ইস্ট রিভার বা পূর্ব নদী। বিকেলে ইস্ট রিভারে অনেক সী প্লেন দেখা যায়। পানি থেকে উড়ে গিয়ে নিউইয়র্কের এরিয়াল ভিউ দেখে আবার পানিতেই ল্যান্ড করে। আমরা জাতিসংঘের সিড়িতে বসে তা দেখতাম। ধনী দেশের মানুষের আনন্দ করার অনেক সুযোগ।  বিমান পানি থেকে উড়ে আবার পানিতে ল্যান্ড করে সেটা বাস্তবে প্রথম দেখেছিলাম নিউইয়র্কে। 

বাসা থেকে ১০ মিনিট হেঁটে গেলেই বিখ্যাত বেলভিউ হসপিটাল। সামান্য দূরেই টাইমস স্কয়ার। এখানেই বিখ্যাত পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমস এর হেড অফিস। নিউইয়র্ক টাইমস অফিস এখানে বলেই এই জায়গার নামকরণ করা হয়েছে টাইমস স্কয়ার।

পাশেই রকফেলার সেন্টার। এখানেই ফক্স নিউজ টিভির হেডকোয়ার্টার। এনবিসি টিভির হেডকোয়ার্টার। 

টাইম ম্যাগাজিন অফিস। আরো কত কি!

তো থার্ড এভিনিউতে আমরা যে এপার্টমেন্টে ছিলাম সেটি ছিল ২৪ তলা। আমি ছিলাম ১৪ তলায়। আমরা দুজন থাকতাম এই এপার্টমেন্টে। বুলবুল আর আমি। 

বুলবুলের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার মাসুমপুর গ্রামে। আমার সঙ্গে বুলবুলের খুব অ্যাডজাস্ট হয়েছিললো। ফানি ক্যারেক্টার। রাজশাহী ইউনিভার্সিটি থেকে ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স করা। বিবাহিত হলেও তার স্ত্রী দেশে ছিল। তার স্ত্রীর নাম রিতা। একটি মাত্র ছেলে নাম সম্রাট। আমি তো ব্যাচেলরই। সে ফোন করে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে আমাকে রিসিভার দিতো। আমিও তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতাম। এই এপার্টমেন্টে দুটো বেডরুম, একটি লিভিং রুম ও একটি বাথরুম ছিল। বাথটাবসহ। ১২ মাস গরম ও ঠান্ডা পানি। টেপের সবুজ নবটা ঠান্ডা পানি আর লাল নবটা গরম পানি। সেন্ট্রালি হিটিং ও এসি। শীতকালে রুম গরম থাকে। আর গরমকালে এসি চলে। বেলকনি তো আছেই। বেলকনিতে দাঁড়িয়ে ইস্ট রিভার, হাডসন রিভার, ব্রুকলিন ব্রিজ, বেলভিউ হসপিটাল, জাতিসংঘ সদর দফতর, নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ( যা ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১ সালে সন্ত্রাসী হামলায় ১১০ তলা দুটো বিশাল বিল্ডিং বিধস্ত হয়)। সবই দেখা যেতো।

দুজনের জন্য যথেষ্ট এই এপার্টমেন্ট। ম্যানহাটনে বাসা ভাড়া অনেক বেশি। ওই সময় আমরা এই বাসার ভাড়া দিতাম ১২০০ ডলার। তবুও ম্যানহাটনে থাকতে খুব ভালো লাগে। 

ম্যানহাটনে খুব কম বাঙালি থাকে। বাসা ভাড়া খুব বেশি বলে। জ্যাকসন হাইটস,সানি সাইড, উড সাইড, জ্যামাইকা, ফ্লাশিং, এস্টোরিয়া, ব্রুনক্স, ব্রুকলিন, লং আইল্যান্ড সিটি এসব জায়গায় বাঙালিরা বেশি থাকে। কারণ ওইসব এলাকায় বাসা ভাড়া কম। 

বুলবুল মাঝে মাঝে গিটার বাজাতো। 

রোববারে সাধারণত আমরা দেরিতে ঘুম থেকে উঠি। 

আমার কাছে সব সময় একটা দামি ক্যানন ক্যামেরা থাকতো। জীবনে ক্যামেরায় যত ছবি তুলেছি মোবাইল ফোনেও ততো ছবি তুলিনি। তাছাড়া তখন মোবাইল ফোন, ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি ছিল না। 

দশটায় ঘুম থেকে উঠে গেঞ্জি খুলে বাথরুমে যাব গোসল করতে। হাফপ্যান্ট পরা। মুখও ধুইনি।

বুলবুল ক্যামেরাটা নিয়ে বললো, মন্টু আপনার খালি গায়ে একটা ছবি তুলি। রেখে দিয়েন। স্মৃতি হিসেবে। একটা পোজ দেন তো। ২৮ বছর আগে বুলবুলের তোলা নিউইয়র্কের বাসায় সেই ছবি।

এই ছবি দেখে অনেক স্মৃতি মনে পড়ে গেলো।

Karim Chowdhury 

16 May, 2026

#follower #Bangladesh #followerseveryone #newyork

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ সরকারঃ শেখ মুজিবের শাসনামল ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের মার্চে শুরু হয়ে সেই বছরেরই ডিসেম্বরের দিকে গিয়ে শেষ হয়। এই দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল। এই দুর্ভিক্ষকে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক হিসেবে গন্য করা হয়। ওই সময় আমি বুঝতাম। ক্লাশ ফোরে পড়তাম। আহারে ! কি যে অভাব ! অনেকের মতো আমরাও ভাত না খেয়ে রুটি খেয়েছি । তাও পরিমিত । কখনো জাউ খেয়েছি । শুকনো মরিচ পাওয়া যেতো না । কাঁচা মরিচের কেজি ছিলো ১৫০ টাকা । লবন ১২০ টাকা । আর সোনার ভরি ছিলো তখন ১৫০ টাকা । সোনা শুধু ওই সময় কম দাম ছিলো । চারদিকে অভাব । সারাদেশের মানুষের হাহাকার । কতো মানুষ না খেয়ে মারা গেছেন ! বিদেশি রিলিফ সব আওয়ামী লীগের লোকেরা চুরি করেছে । আর বেশিরভাগ রিলিফ সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে পাচার হয়েছিলো । তখন বর্ডার খোলা ছিলো তখন । মহিলাদের শাড়ি কাপড় ছিলো না । অনেকে মাছ ধরার জাল পরে লজ্জাস্থান ঢেকেছিলো । এসব ছবি পত্রিকায়ও ছাপা হয়েছিলো । কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাদের কোনো অভাব ছিলো না । বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র দুই বছর তিন মাসের মাথায় ...

অশ্লীল নাম

বাংলাদেশের কিছু প্রতিষ্ঠান ও স্থানের বিচিত্র বা বিকৃত অর্থের নাম যা পরিবর্তন করা উচিতঃ ১. বোদা মহিলা মহাবিদ্যালয়, বোদা, পঞ্চগড় ২. চুমাচুমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি ৩. সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খুলনা ৪. মানুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নীলফামারি ৫. সোনাকাটা ইউনিয়ন, তালতলী, বরগুনা ৬.বড়বাল ইউনিয়ন, মিঠাপুকুর, রংপুর ৭.সোনাখাড়া ইউনিয়ন, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ৮. ধনকামড়া গ্রাম, ভোদামারা, দিনাজপুর ৯.গোয়াকাটা, দোহার, ঢাকা ১০. গোয়াতলা, ময়মনসিংহ ১১.লেংটার হাট, মতলব, চাঁদপুর

বোতল

বোতল মানব জীবনে বোতল অপরিহার্য । বোতল অনেক অর্থেও ব্যবহার হয় । কোনো কোনো এলাকায় আনস্মার্ট, বেয়াক্কেল প্রকৃতির লোককেও বোতল বলা হয় । ইউরোপ আমেরিকায় থাকতে আমি ডৃংক করতাম । হার্ড ডৃংক কমই খেতাম । প্রতিদিনই বিয়ার খেতাম । বিয়ার স্বাস্থ্য ভালো রাখে ও কাজ করতে এনার্জি জোগায় । পরিমিত বিয়ার খেলে কেউ মাতাল হয় না । মাঝে মাঝে বিশেষ কোনো পার্টিতে হুইস্কি খাওয়া হতো । তাও দামি ব্র্যান্ডের । জনি ওয়াকার ব্ল্যাক লেবেল, টিচার্স, পাসপোর্ট, হেনেসি, শিভাস রিগাল, জ্যাক ড্যানিয়েলস । সাকুরায়ও অনেক সময় এসব ব্র্যান্ডের হুইস্কি পাওয়া যায় না । তো দেশে আসার পরও কিছু দিন ডৃংক করেছিলাম । কুমিল্লায় সরকার অনুমোদিত একটা মদের দোকান আছে চক বাজারে । নামঃ নাদের ট্রেডিং কোং । এটা প্রায় আজ ৫০ বছর । এখানে বিদেশি ব্র্যান্ডের ডৃংক পাওয়া যায় না । দেশিয় কোম্পানি ‘কেরো এন্ড কোং’ যা দর্শনায় অবস্থিত তার তৈরি ভদকা, হুইস্কি, জিন পাওয়া যায় । আমাদের সমাজতো রক্ষনশীল । তাই কান্দিরপাড় থেকে একটা স্প্রাইট কিনে অর্ধেক খেতে খেতে চক বাজার যেতাম । নাদেরে যখন পৌঁছতাম তখন স্প্রাইটের বোতল অর্ধেক খালি হয়ে যেতো । আমি বাবুল ভাইকে স্প্...