সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কেনেথ সিং খান্দোজা -Keneth Singh Khandoja

 কেনেথ সিং খান্দোজা -Keneth Singh Khandoja


--------------------------------------------------

আমি পেশাজীবী নই। জেনারেল লাইনে পড়াশোনা করেছি। ইউরোপ আমেরিকায় কিছু চাকরি করেছি। ইউরোপে ম্যাকডোনাল্ডসে আর হোটেল হিলটনে চাকরি করেছি। আমেরিকায় নিউইয়র্কে চাকরি করেছি একটা। একটানা সাড়ে চার বছর। ফ্লোরিডায় চাকরি করেছি দুইটা। প্রথম করেছি শেল ( Shell) গ্যাস স্টেশনে। তারপর এমোকোতে ( Amoco)। 

নিউইয়র্কে চাকরি করেছি একটা জুয়েলারি টুলস কোম্পানিতে। ৪৬ স্ট্রিটে। বিটুইন ফিফথ এন্ড সিক্সথ এভিনিউ। ফিফথ এভিনিউর সাথে সিক্সথ এভিনিউর সংযোগ করেছে এই ৪৬ স্ট্রিট। এই ৪৬ স্ট্রীটকে আবার ব্রাজিল স্ট্রিটও বলে।  কারণ এই স্ট্রিটে ব্রাজিলিয়ানদের অনেক দোকান আছে। 

৪৬ স্ট্রিট টাইমস স্কয়ার এবং রকফেলার সেন্টারের মাঝামাঝি। এই স্টোরে অনেক কিছু বিক্রি হতো জুয়েলারি সংক্রান্ত। যেমন : ডায়মন্ড টেস্টার, গোল্ড টেস্টার সহ অনেক কিছু। ডায়মন্ড বা হীরার মধ্যে মেশিনটা চাপ দিয়ে ধরলে দেখায় যে হীরাটা অরিজিনাল কিনা। গোল্ড টেষ্টারও স্বর্নে চাপ দিয়ে ধরলে দেখায় এটা কত ক্যারেটের গোল্ড। ১৮ ক্যারেট না ২২ ক্যারেট না ২৪ ক্যারেটের গোল্ড। একেক মেশিনের দাম ১০০০/ ১৫০০ ডলার। পকেটে বহন করা যায় এমন ছোট মেশিন। 

এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন একজন শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ। ওনার নাম কেনেথ সিং খান্দোজা।

বাংলাদেশী হিসেবে আমাকে তিনি খুবই স্নেহ করতেন। 

ওনার এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলেটির নাম অপি। তখন সে মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে পড়তো। মেয়েটির নাম কিরণ। নিউইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে পড়তো। 

উনার স্ত্রীর নাম কমলা। তিনি আমাকে সন্তানের মতই আদর করতেন। অফিস রুমটা সাজিয়েছিলেন খুব সুন্দর করে। 

উনার স্ত্রী, ছেলেমেয়ে মাঝে মাঝে আসতেন স্টোরে। ওদের সঙ্গে আমার বেশ ঘনিষ্ঠতা ছিলো। তারা তিনটা গাড়ি মেনটেইন করতেন। একটা Range Rover জীপ।একটা Mercedez।  একটা BMW। 

উনার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মিত্রবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার ভাতিজা। আমাকে তিনি বলেছিলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ভারতে থেকে ফান্ড কালেকশন করতেন। আমাকে একদিন জিজ্ঞেস করলেন, Karim what's your plan? I replied, after 4/5 years I will go back to my country. তিনি অবাক হয়ে বললেন, I know you are in Europe for 6 years. NOW you are in The United  States of America. Do you think after spending more than 10 years in Europe & America then you will go back to Bangladesh and you can adjust there? This is not Middle East.তখন আমি যুবক। রক্ত গরম। আমি  তাকে বললাম, I was born and brought up in my country. I spent 30 years in my country. After spending 10 to 15 years in Europe and America and then I will go back to my country. why should not I adjust in my country. This is my birth Country. He vehemently replied, Karim I don't think you can adjust there. Karim, if you want I can manage a Green card for you over here. Don't make a mistake.

(করিম, তোমার পরিকল্পনা কী? আমি উত্তর দিলাম, ৪/৫ বছর পর আমি আমার দেশে ফিরে যাব। তিনি অবাক হয়ে বললেন, আমি জানি তুমি ৬ বছর ইউরোপে ছিলে। এখন তুমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আছো। তোমার কি মনে হয় ইউরোপ ও আমেরিকায় ১০ বছরের বেশি সময় কাটানোর পর তুমি বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে সেখানে মানিয়ে নিতে পারবে? এটা মধ্যপ্রাচ্য নয়। আমি তখন যুবক। রক্ত ​​গরম। আমি তাকে বললাম, আমি বাংলাদেশে জন্মেছি এবং বড় হয়েছি। আমি আমার দেশে ৩০ বছর কাটিয়েছি। ইউরোপ ও আমেরিকায় ১০ থেকে ১৫ বছর কাটানোর পর আমি আমার দেশে ফিরে যাব। আমি কেন আমার দেশে মানিয়ে নিতে পারবো না? এটা আমার জন্মভূমি। তিনি তীব্রভাবে জবাব দিলেন, করিম, আমার মনে হয় না তুমি সেখানে মানিয়ে নিতে পারবে। করিম, তুমি চাইলে আমি এখানেই তোমার জন্য একটি গ্রিন কার্ডের ব্যবস্থা করে দিতে পারি। ভুল করো না।)

আজ এত বছর পর বুঝি তিনি ঠিক বলেছিলেন। উনি দুরদর্শী মানুষ ছিলেন। 

কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, তিনি স্বাধীন খালিস্থান রাষ্ট্রের পক্ষে। সিনিয়ারদের মনে থাকার কথা। ১৯৮৪ সালে পাঞ্জাবকে স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে বিরাট আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। 

শিখদের একজন প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা

 জৈনাইল সিং ভিন্দ্রানওয়ালে (Jarnail Singh Bhindranwale) ছিলেন ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের খুবই প্রভাবশালী শিখ ধর্মীয় নেতা। 

তার নেতৃত্বে হাজার হাজার শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ অমৃতসরের স্বর্ণ মন্দিরে জমায়েত হয়েছিল। যেখানে সেনাবাহিনীর কয়েকজন শিখ মেজর জেনারেলও ছিলেন। ইন্দিরা গান্ধী অনেক চেষ্টা করেও তাদের এই আন্দোলন দমাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ইন্দিরা গান্ধী ১০ জুন ১৯৮৪ সালে 'অপারেশন ব্লু স্টার' নামের সামরিক অভিযান চালায় অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে। তাদের নেতা ভিন্দ্রানওয়ালেসহ কয়েকজন মেজর জেনারেল এবং হাজার হাজার শিখ নিহত হয় এই সামরিক অভিযানে। 

প্রতিশোধ হিসেবে ইন্দিরা গান্ধীর দুইজন শিখ বডিগার্ড ইন্দিরা গান্ধীকে হত্যা করে ১৯৮৪ সালের ৩১অক্টোবর । 

কেনেথের জুয়েলারি টুলস দোকানে আমার কাজ ছিল কম্পিউটারে বসে হিসাবপত্র করা। ইউরোপে ছয় বছর থাকতেই আমি কম্পিউটারের কয়েকটা কোর্স করে নিয়েছিলাম। আমি পরিশ্রমী মানুষ না। পরিশ্রমের কাজ আমি করতে পারিনা। এখনো আমার শরীর মেয়েদের মত নরম। পরিশ্রমের কাজ করলে শরীর শক্ত হয়। নিউইয়র্কে কাজ করা অবস্থায় একটা ছবি খুঁজে পেলাম।

ছবিটি তুলেছিলেন উনার স্ত্রী কমলা। 

Karim Chowdhury 

19 May, 2026

#follower #followerseveryone #newyork

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ সরকারঃ শেখ মুজিবের শাসনামল ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের মার্চে শুরু হয়ে সেই বছরেরই ডিসেম্বরের দিকে গিয়ে শেষ হয়। এই দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল। এই দুর্ভিক্ষকে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক হিসেবে গন্য করা হয়। ওই সময় আমি বুঝতাম। ক্লাশ ফোরে পড়তাম। আহারে ! কি যে অভাব ! অনেকের মতো আমরাও ভাত না খেয়ে রুটি খেয়েছি । তাও পরিমিত । কখনো জাউ খেয়েছি । শুকনো মরিচ পাওয়া যেতো না । কাঁচা মরিচের কেজি ছিলো ১৫০ টাকা । লবন ১২০ টাকা । আর সোনার ভরি ছিলো তখন ১৫০ টাকা । সোনা শুধু ওই সময় কম দাম ছিলো । চারদিকে অভাব । সারাদেশের মানুষের হাহাকার । কতো মানুষ না খেয়ে মারা গেছেন ! বিদেশি রিলিফ সব আওয়ামী লীগের লোকেরা চুরি করেছে । আর বেশিরভাগ রিলিফ সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে পাচার হয়েছিলো । তখন বর্ডার খোলা ছিলো তখন । মহিলাদের শাড়ি কাপড় ছিলো না । অনেকে মাছ ধরার জাল পরে লজ্জাস্থান ঢেকেছিলো । এসব ছবি পত্রিকায়ও ছাপা হয়েছিলো । কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাদের কোনো অভাব ছিলো না । বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র দুই বছর তিন মাসের মাথায় ...

বোতল

বোতল মানব জীবনে বোতল অপরিহার্য । বোতল অনেক অর্থেও ব্যবহার হয় । কোনো কোনো এলাকায় আনস্মার্ট, বেয়াক্কেল প্রকৃতির লোককেও বোতল বলা হয় । ইউরোপ আমেরিকায় থাকতে আমি ডৃংক করতাম । হার্ড ডৃংক কমই খেতাম । প্রতিদিনই বিয়ার খেতাম । বিয়ার স্বাস্থ্য ভালো রাখে ও কাজ করতে এনার্জি জোগায় । পরিমিত বিয়ার খেলে কেউ মাতাল হয় না । মাঝে মাঝে বিশেষ কোনো পার্টিতে হুইস্কি খাওয়া হতো । তাও দামি ব্র্যান্ডের । জনি ওয়াকার ব্ল্যাক লেবেল, টিচার্স, পাসপোর্ট, হেনেসি, শিভাস রিগাল, জ্যাক ড্যানিয়েলস । সাকুরায়ও অনেক সময় এসব ব্র্যান্ডের হুইস্কি পাওয়া যায় না । তো দেশে আসার পরও কিছু দিন ডৃংক করেছিলাম । কুমিল্লায় সরকার অনুমোদিত একটা মদের দোকান আছে চক বাজারে । নামঃ নাদের ট্রেডিং কোং । এটা প্রায় আজ ৫০ বছর । এখানে বিদেশি ব্র্যান্ডের ডৃংক পাওয়া যায় না । দেশিয় কোম্পানি ‘কেরো এন্ড কোং’ যা দর্শনায় অবস্থিত তার তৈরি ভদকা, হুইস্কি, জিন পাওয়া যায় । আমাদের সমাজতো রক্ষনশীল । তাই কান্দিরপাড় থেকে একটা স্প্রাইট কিনে অর্ধেক খেতে খেতে চক বাজার যেতাম । নাদেরে যখন পৌঁছতাম তখন স্প্রাইটের বোতল অর্ধেক খালি হয়ে যেতো । আমি বাবুল ভাইকে স্প্...

ফেবুতে মেয়েদের পোস্ট

ফেবুতে মেয়েদের পোস্ট সকালে ঘুম ভেঙে দেখি আট টা বাজে । শরীরটাও বেশি ভালো লাগছে না । আবার ঘুমাল াম । ১১টায় উঠলাম । ২ মগ চা খেলাম ( বাজারের হিসেবে ৮ কাপ হবে)। সবাই জানেন আমি স্মোক করি । চেইন স্মোকার । কম্পিউটার খোঁচাখুঁচি করে নিজে নিজেই ঠিক করলাম । প্রায় দুই ঘন্টা । আমি থাকি চার তলায় । দুপুর ১টা বাজে । খেতেও ইচ্ছে করছে না কিছু । তখনো মুখ ধুই নি । কম্পিউটারে খোঁচাখোঁচি করতে গিয়ে দেখি এক মেয়ে তার পা’য়ের একটা ছবি আপলোড করেছে । দেখলাম এই পা মানে ঠ্যাং এর ছবিতে লাইক পড়েছে ৯৪৭ টা । কমেন্ট অসংখ্য । ‘কতো সুন্দর এই পা । না জানি তুমি কতো সুন্দর । পা তো নয় যেন একটা গোলাপ ফুল’ । এ জাতীয় অনেক কমেন্ট । আমি পোষ্ট টা দেখে কিছুটা অবাক হলাম । একটা ঠ্যাং এর এতো কদর ! প্রায়ই লক্ষ্য করি, মেয়েরা যখনি কিছু আপলোড করে সেটা তাদের পায়ের ছবিই হোক,হাতের ছবিই হোক আর নাকের ছবিই হোক বা এক চোখের ছবিই হোক সে সব ছবিতে অগনিত লাইক আর কমেন্ট । মেয়ে বন্ধুদের ছোট করার জন্য বলছি না, ফেবুতে প্রায়ই দেখি মেয়েরা কোনো ছবি বা দু এক লাইন হাবিজাবি লিখলে লাইক আর কমেন্টের বন্যা বয়ে যায় । অনেক মেয়েরা শখ করে পিঠা, ...