সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

পুরুষের যৌনতাকে সম্মান কর।

 পুরুষের যৌনতাকে সম্মান কর। পুরুষের যৌন আকর্ষণ আছে বলেই তুমি দুনিয়ার মুখ দেখতে পেরেছো। পুরুষের যৌন আকর্ষণ আছে বলেই তার কাছে তুমি এত স্পেশাল। আকর্ষণ আছে বলেই তুমি এত পাত্তা পাও, প্রায়োরিটি পাও। পুরুষের যৌন আকর্ষণ আছে বলেই তুমি রাস্তায় সেজেগুজে বের হও, যাতে পুরুষরা তোমায় দেখে মুগ্ধ হয়। তুমি মুখে অস্বীকার করলেও তোমার অবচেতন মন এটাই চায়। পুরুষের যৌন আকর্ষণ আছে বলেই তুমি বিপদে পড়লে বহু পুরুষ এগিয়ে আসে সাহায্যের জন্য। পুরুষের যৌন আকর্ষণ আছে বলেই সারাদিন খেটে তোমার পছন্দের শাড়ি নিয়ে বাড়ি ফেরে। দুলাইনের ছন্দ লিখে অথবা কয়টা সেলফি দিয়ে যে শতশত রিয়্যাক্ট পাও, সে পুরুষের যৌন আকর্ষণ আছে বলেই। সাদা চামড়াকে পুঁজি করে স্বল্পবসনা হয়ে যে সেলিব্রেটি বনে যাও, সে পুরুষের যৌন আকর্ষণ আছে বলেই। যৌন আকর্ষণ আছে বলেই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিমান ও মানবকূলের সেরা শক্তিশালী প্রাণী পুরুষ তোমার দুর্বলতাকে বিদ্রূপ না করে ভালবাসার চাদরে ঢেকে দেয়। যৌন আকর্ষণ আছে বলেই পুরুষ তোমাকে ভালবাসে, সমীহ করে চলে। পুরুষের যৌন আকর্ষণ না থাকলে সাদা বিড়াল রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে যেমন কারো ভ্রূক্ষেপ হয় না, তোমার বেলাতেও তেমন ঘটতো। যৌন...

আলম চিঠি

 আলম, তোমাকে প্রথম আমি একটা চার লাইনের মেসেজ লিখেছিলাম আমার অসুস্থতা নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে। সম্ভবত ২৫ বছর পর। শুনলাম, তুমি নাকি আবুল খায়ের ভাইয়ের কাছে এই নিয়ে হাসাহাসি করেছো। আরও অনেক কিছু বলেছো। তিন বছর আগের রিপোর্ট আমি পাঠিয়েছি। এটা তো তিন বছর আগের রিপোর্টই। সে অনুযায়ী চিকিৎসা করতে বলেছে। আর্থিক সমস্যার কারনে তা সম্ভব হয়নি। বয়সের সাথে সাথে মানুষ পরিবর্তন হয়। তোমার আর পরিবর্তন হলো না। আপসোস।  তুমি নাকি বলেছো, 'এখন আমাদের দরকার হয় কেনো?' তোমাদের দরকার আমার কোনো কালেই হয় নাই? উল্টো আমাকেই তোমাদের দরকার হইছিলো। ১৯৯০ সালে, আজ থেকে ৩৫ বছর আগে তোমার ভাই আজাদ আমাকে অস্ট্রিয়ায় চিঠি লিখেছিলো।  'কাকা, আজ তিন দিন না খেয়ে আছি। কিছু টাকা পাঠান। নইলে বাঁচবো কিভাবে?'  আমি হিরুর মাধ্যমে আজাদকে ১৫ হাজার টাকা পাঠিয়েছিলাম। সেই টাকা দিয়ে তোমরা হোসেন মিয়ার ১২ গন্ডা জায়গা লাগিদ রাখছিলা। সেটাতে ধান চাষ করছিলা। ৯৫ তে কোহিনূরের বিয়ের সময় তুমি আমাকে বলেছিলা, 'কাকা, আপনার সেই টাকাই আমাদের টার্নিং পয়েন্ট। অন্তত ভাতের চিন্তা করতে হয় নাই।' তুমি ভুলে গেছো। স্বার্থপর আর অকৃতজ্ঞদের কাজই হলো ভুলে য...

আমি জীবনকে উপভোগ করেছি

 আমি জীবনকে উপভোগ করেছি আমার প্রাইমারি জীবন গ্রামে কেটেছে। ডাংগুলি খেলেছি, গোল্লাছুট খেলেছি, হাডুডু খেলেছি, দাড়িয়াবান্ধা খেলেছি, মার্বেল খেলেছি, 'লুক পলান্তি' খেলেছি (হাইড এন্ড সিক),পুকুরে ডুবিয়ে ডুবিয়ে 'লাই' খেলেছি, আনতা পেতে মাছ ধরেছি, ঝড়ের সময় ভিজে আম কুড়িয়েছি, কাগজে লাল মরিচ গুড়া- লবণসহ ছোট ছুরি নিয়ে আম গাছে উঠে ডালে বসে বসে কাঁচা আম কেটে খেয়েছি, শীতকালে চুরি করে রাতে অন্যের খেজুর গাছ থেকে রস খেয়েছি, অন্যের গাছের ডাব চুরি করে খেয়েছি, জাম্বুরা দিয়ে ও কাগজের ঠোঙাতে খড় ঢুকিয়ে ফুটবল খেলেছি, ঘুড়ি উড়িয়েছি, ডোবায় কাদায় গড়াগড়ি করে মাছ ধরেছি, চাচাতো বোনদের সঙ্গে 'জামাই বউ' খেলেছি, দড়ি লাফানি খেলেছি, মাটিতে দাগ দিয়ে মেয়েদের সঙ্গে কুতকুত খেলেছি। ডোবা বা কুয়ার পাড়ে দাঁড়িয়ে পানিতে পেসাব করে পেসাব ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে অ, আ লিখেছি। স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান গেয়ে, কবিতা আবৃত্তি করে পুরস্কার পেয়েছি। বিকেলে মসজিদের বারান্দায় হুজুরের কাছে সূরা, কায়দা, আলিফলাম, কোরান পড়েছি। দশম শ্রেণিতে উঠে প্রেমে পড়েছি। তখন শহরে থাকি। (আমার তিন বড় বোন শহরের স্থায়ী অধিবাসী। বড় আপা রেইস কোর্স, ম...

এক্সিডেন্ট

 ব্যক্তিগত সুখ দু:খ, অসুস্থতা, সমস্যার কথা আমি ফেসবুকে লিখি না। এসব সমস্যা কমবেশি সবারই আছে। এগুলো ফেসবুকে লেখার কোনো মানে নেই। বিশেষ বিশ্বস্ত বন্ধুদের ইনবক্সে জানানো যায়। তবে আজ কেনো যেন লিখতে একটু ইচ্ছে করছে।  সন্ধ্যায় কান্দিরপাড় গিয়েছিলাম। ফেরার পথে দুই সীটার একটা মিশুকে উঠলাম। আমি একাই আসবো। এগুলোতে বসলে রিকশার মতো অনুভব হয়। ভাড়া একটু বেশি। এই ব্যাটারি চালিত অটো এসে রিকশা নাই বললেই চলে।  আমি বাঁ হাতে মিশুকের ড্রাইভার এবং প্যাসেঞ্জারের মধ্যে যে পার্টিশন ওই স্টেইলেস স্টিলের পার্টিশনে মোট করে ধরেছিলাম। ঝাউতলা এসে এই মিশুক চালক সামনের একটা সিএনজিকে এত জোরে ধাক্কা দেয় যে আমি প্রচন্ড ব্যথায় 'ও মা বলে' চিৎকার দিয়ে উঠি। বাঁ হাতের আঙুল নিচের স্ট্যান্ডের সাথে চাপ খেয়ে রিং ফিঙ্গারের নখটা ফেটেই গেছে। বাঁ হাতের রিং ফিঙ্গারটায় অসহনীয় একটা যন্ত্রণা অনুভব করি মুহুর্তের মধ্যে। এমনকি আমার ডান হাতে থাকা মোটামুটি দামি মোবাইল ফোনটার ডিসপ্লেতেও এক কোণায় একটু স্পট পড়ে গেছে। কারণ ডান হাতে আমি   মুখমণ্ডল যাতে পার্টিশানে ধাক্কা না খায় সেজন্য মোবাইল ফোনসহ পার্টিশনে ধরেছিলাম। বাঁ ...

বেখেয়ালি না ইচ্ছে প্রনোদিত...

 বেখেয়ালি না ইচ্ছে প্রনোদিত... ------------------------------------------ ইট দিয়ে সবুজ ঘাস ঢেকে রাখতে রাখতে একটা সময় যদি ইটা টা সরিয়ে নেয়া হয় তখন ঘাসটা যেমন তার আসল রং হারিয়ে কোমল এবং সাদা রং ধারণ করে।  আমি ঠিক তেমনি হয়ে গিয়েছিলাম। তখন যে কোনো রঙেই হয়তো আমাকে রাঙানো যেতো! সে সুযোগটা হাতছাড়া করেনি আর আমিও তার রঙে রঙিন হয়ে গেলাম। এতে আমার যতটুকু চাওয়া না ছিলো তার থেকে হাজার গুন বেশি ছিলো তার। হয়তোবা তার প্রয়োজন ছিলো বলেই এতো আগ্রহ ছিলো। একটা সময় ছিলো যে আমার ভালোলাগাগুলো তার পার্সে থাকতো। আমার চাওয়ার আগেই সেটা সে পূর্ণ করতো। সে কখনো অনুভূতি প্রকাশ করতে পারতো না। তবে তার বুকে হাত রেখে আমি সে অনুভুতি অনুভব করতে পারতাম। সে যে শুধু আমার ভালেবাসা ছিলো তা নয় বরং আমার অনেক প্ল্যান পরিকল্পনায় জুড়েও আমি তাতে বিচরন করতাম৷ আমার সারাদিনের নয় শুধু বরং আমার ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও তাকে নিয়েই করতে শুরু করলাম।।  এভাবে বহুদিন গেল। আস্তে আস্তে সে ব্যস্ত হতে থাকলো। কথা চললেও কোথাও একটা যেন গ্যাপ তৈরী হতে থাকলো।।  তবুও তার সঙ্গে মানসিক দূরত্বটা তৈরী করতে পারলাম না।   আমাদের ভাল...

আজব দেশে গজব দাবি

 আজব দেশে গজব দাবি  ------------------------------------------ চ্যানেল আইয়ের খবরে দেখলাম, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সময় সীমা ছেলেদের জন্য ৩৫ ও মেয়েদের জন্য ৩৭ করার আলোচনা চলছে। এবং আন্দোলনকারীরা ৭২ ঘন্টার আলটিমেটাম দিয়েছে। ৭২ ঘন্টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে বলে তারা সময় বেঁধে দিয়েছেন। এখন পরিস্থিতিটা এই যে, ছাত্ররা যা বলে তাই করতে হবে। বিনয়ের সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করে কয়েকটি কথা বলতে চাই।  মানুষ বাঁচে কয় বছর? ৩৫ বছরে চাকরিতে ঢুকলে একটা ছেলে বিয়ে করবে কখন? সাধারণত চাকরিতে ঢুকেই এদেশে ছেলেরা বিয়ে করে। বেকার ছেলের কাছে কোনো অভিভাবক মেয়ে বিয়ে দেন না। ৩৫ বছরে তো যৌবনই প্রায় শেষ। এই বয়সে বিয়ে করে স্ত্রীর সাথে সেক্স করার শারীরিক সামর্থ্য কতোটুকু থাকে? আর ৩৫ বছর বয়সে চাকরিতে ঢুকে দেশকে তারা কি সার্ভিস দেবেন? ৪০ বছরে চুল দাড়ি পেকে যায়। ৪০ বছরের পর জীবনীশক্তিও হ্রাস পায়। কাজ করার শারীরিক মানসিক সামর্থ্য কমে যায়।  অনেক পেশায় ৩৫ বছরের আগেই  অবসর গ্রহণ করে। যেমন খেলোয়াড়। সেনাবাহিনীতে ৩৫ বছরে একটা ছেলে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হতে পারে। একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল একজন জেলা প্রশাসক...

হিন্দু- মুসলিম

 যেখানে মিষ্টান্ন ভান্ডার নামক হিন্দু দোকান থেকে জিলাপি কিনে মসজিদে মিলাদ পড়ানো হয়। কোন মুসল্লি এটা নিয়ে চিন্তা না করে নিশ্চিন্তে মিলাদ শেষে জিলাপি খেতে খেতে বাড়ি যায়। *চা দোকানে একই কাপে হিন্দু মুসলিম চা খেয়ে যুগের পর যুগ বসবাস করছে। কারো মাথায় এটা নিয়ে ব্যথা বেদনা নেই। *হিন্দুদের দাওয়াতে অধিকাংশ লোক থাকে মুসলিম এলাকাবাসী, বন্ধুবান্ধব মুসলিমদের দাওয়াতেও খুব স্বাভাবিকভাবে হিন্দুরা অংশ নেয়। এতে কেউই কিছু মনে করে না। *সামাজিক কোন অনুষ্ঠানে একই টেবিলে একই প্লেটে হিন্দু মুসলিম পাশাপাশি বসে খাবার খাচ্ছে। মুসলিম লোকটি গরু মাংশ খাচ্ছে না, কারন তার বন্ধুটির জন্য। * বর্তমানে সামাজিক অনেক অনুষ্ঠানে গরু রাখা হয় না শুধু সবার কথা ভেবে।  *অনেক হিন্দুদের বিয়েতে কাচ্চি করা হয় এবং মুসলমানদের জন্য জবাই আলাদা ভাবে করা হয়।(আমি নিজে স্বাক্ষী) *পাবলিক বাসে, রিক্সায়, ক্লাসের বেঞ্চে পাশাপাশি বসে দিব্যি চলাফেরা করে হিন্দু মুসলিম। কারো কোন সমস্যা নেই। *মসজিদ আর মন্দির একই এলাকায় আছে অনেক জায়গায়। দুই পক্ষই ইবাদত করছে। কারোরই কোন অসুবিধা হয়না যুগ যুগ ধরে। বিশ্বের আর কোন দেশে এরকম সুন্দর দৃষ্টান্ত দেখাতে ...