সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ইয়েল ইউনিভার্সিটি

 ইয়েল ইউনিভার্সিটি





গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিস বলেছিলেন, নিজেকে জানো। Know Thyself. নিজেকে জানা এবং জ্ঞানচর্চার জন্য কালে কালে পৃথিবীর নানা দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অসংখ্য ইউনিভার্সিটি । এগুলোর মধ্যে গুনগত মানের দিক থেকে কোনোটি আবার পরিণত হয়েছে শীর্ষস্থানীয় ইউনিভার্সিটিতে । বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় ইউনিভার্সিটির মধ্যে আমেরিকার ইয়েল (Yale) ইউনিভার্সিটি একটি ।
তখন আমেরিকায় থাকতাম । আমার ছোট আপা ফরিদার অফিসের ম্যানেজার আমাকে ছাত্রজীবন থেকেই খুব স্নেহ করতেন । অফিসের ম্যানেজার হলেও আমাদের ফ্যামিলির সবাইকে তিনি চিনতেন এবং ভালোবাসতেন । তাই আপাসহ আমরা সবাই ওই মধ্য বয়সি ভদ্র মহিলাকে চাচিআম্মা ডাকতাম । আমি যে পাড়ায় বেশি আড্ডা মারতাম ম্যানেজার চাচির বাসা ওই পাড়াতেই । রেইস কোর্স । সকাল বিকাল অফিসে যাওয়ার সময় চাচিআম্মা আমাকে দেখতেন । আমি বিনীতভাবে চাচিকে সালাম দিতাম । এসএসসি-এইচএসসি দুটো পরীক্ষাতেই আমার ফার্স্ট ডিভিশন ছিলো বলে অনেকেই আমাকে ভালো ছাত্র হিসেবে আদর করতেন । ম্যানেজার চাচিও । ছাত্রত্ব শেষ করে ইউরোপ কয়েক বছর থেকে ১৯৯৫ তে গেলাম আমেরিকায় । আপার অফিসে আমি প্রায়ই ফোন করতাম । ধরতেন ম্যানেজার চাচি । চাচির সঙ্গেও অনেক কথা বলতাম । চাচিআম্মা আমাকে ডাক নাম ধরেই ডাকতেন । চাচির দুই সন্তান । আনাব ( মেয়ে-বড়) আর সাবাব(ছেলে-ছোট)। আমি যখন আমেরিকায় আনাব তখন চিটাগং ইউনিভার্সিটিতে পড়তো । আর সাবাব কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজে ।
একদিন নিউ ইয়র্কের বাসায় চাচির একটা চিঠি পেলাম । তখন সেল ফোনের প্রচলন ছিলো না । টিএন্ডটি ফোনই একমাত্র সম্বল । সিটিসেল থাকলেও তা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে ছিলো । এক ফোনের দাম দেড়/দুই লাখ টাকা ছিলো । চাচি তার দুই সন্তানের জন্য আমেরিকার কিছু ভালো ইউনিভার্সিটির নাম ও টিউশন ফি জানতে চেয়ে আমাকে চিঠি লিখেছেন ।
সবাই জানে আমি কিছুটা ‘পাগল’ । কেউ কোন কাজ দিলে নিজের সব কিছু ভুলে তা করে দেয়ার চেষ্টা করি । ১৯৯৮ সালের কথা । চাচির চিঠি পেয়ে কারো উপর নির্ভর না করে নিজেই কয়েকটা ইউনিভার্সিটিতে গিয়েছিলাম । আমার কাজই তো ঘুরাঘুরি করা । চাচির জন্য ইনফরমেশনও নিলাম ফাঁকতালে পৃথিবী বিখ্যাত কয়েকটা ভালো ইউনিভার্সিটিও দেখলাম ।
নিউ ইয়র্কের প্রতিবেশি ম্যাসাচুসেটস ষ্টেটে বিশ্বের এক নাম্বার ইউনিভার্সিটি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, কানেকটিকাট ষ্টেটে ইয়েল ইউনিভার্সটি , নিউ জার্সি ষ্টেটে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি , (ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, বার্কলে ইউনিভার্সিটি, কর্নেল ইউনিভার্সিটি, -ও গুলোতে যাই নি। এগুলোও ১ থেকে ১০ এর মধ্যে আছে র‍্যাংকিংয়ে ) ম্যাসাচুসেটস রাজ্যেই দি ইউনিভার্সিটি অফ ম্যাসাচুসেটস, নিউ ইয়র্কের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিসহ আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম ।
আজ ইয়েল ইউনিভার্সিটি নিয়ে সংক্ষেপে কিছু কথা ।
‘লাইট এন্ড ট্রুথ’ (আলো এবং সত্য ) প্রতিজ্ঞা নিয়ে ১৭০১ সালে আমেরিকার কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের নিউ হ্যাভেন সিটিতে প্রতিষ্ঠিত হয় ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় (Yale University) । এটি একটি বেসকারি বিশ্ববিদ্যালয় । এটি আমেরিকার উচ্চ শিক্ষার ইতিহাসে তৃতীয় স্থান অধিকারি প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় । ১৮৬১ সালে কলা ও বিজ্ঞান অনুষদে আমেরিকার প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয় । ১,০১৫ একর জায়গা নিয়ে এর ক্যাম্পাস । ১৯০০ সালে প্রতিষ্ঠানটি অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকান ইউনিভার্সিটির সদস্যপদ লাভ করে । প্রতিষ্ঠানটিতে এক হাজার একশো জন শিক্ষক আছেন । বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ হাজার ৫৯৩ জন ছাত্রছাত্রী এবং ৪,৪১০ জন একাডেমিক স্টাফ রয়েছে । নিজস্ব সম্পদের দিক থেকে আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এটি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে । উচ্চশিক্ষা প্রসারে এই ইউনিভার্সিটির জুড়ি মেলা ভার । ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ২৪টি লাইব্রেরি যেখানে ১২.৫ মিলিয়ন বই রয়েছে । ৪৯ জন নোবেল পুরস্কারজয়ী এই প্রতিষ্ঠানটির ছাত্র ।পৃথিবীতে সুপরিচিত শিক্ষার্থীর পীঠস্থান এই বিশ্ববিদ্যালয় । আমেরিকার পাঁচজন প্রেসিডেন্ট,১৯ জন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন । এ প্রতিষ্ঠানটির ‘ল’ স্কুল আইন শিক্ষায় মার্কিনীদের পছন্দের তালিকায় প্রথমস্থানে রয়েছে ।
( আমার বেশ কিছু ছাত্রছাত্রী আছে । তোমরা কি স্বপ্ন দেখতে পারো না ইয়েলে পড়ার?)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অশ্লীল নাম

বাংলাদেশের কিছু প্রতিষ্ঠান ও স্থানের বিচিত্র বা বিকৃত অর্থের নাম যা পরিবর্তন করা উচিতঃ ১. বোদা মহিলা মহাবিদ্যালয়, বোদা, পঞ্চগড় ২. চুমাচুমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি ৩. সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খুলনা ৪. মানুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নীলফামারি ৫. সোনাকাটা ইউনিয়ন, তালতলী, বরগুনা ৬.বড়বাল ইউনিয়ন, মিঠাপুকুর, রংপুর ৭.সোনাখাড়া ইউনিয়ন, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ৮. ধনকামড়া গ্রাম, ভোদামারা, দিনাজপুর ৯.গোয়াকাটা, দোহার, ঢাকা ১০. গোয়াতলা, ময়মনসিংহ ১১.লেংটার হাট, মতলব, চাঁদপুর

বোতল

বোতল মানব জীবনে বোতল অপরিহার্য । বোতল অনেক অর্থেও ব্যবহার হয় । কোনো কোনো এলাকায় আনস্মার্ট, বেয়াক্কেল প্রকৃতির লোককেও বোতল বলা হয় । ইউরোপ আমেরিকায় থাকতে আমি ডৃংক করতাম । হার্ড ডৃংক কমই খেতাম । প্রতিদিনই বিয়ার খেতাম । বিয়ার স্বাস্থ্য ভালো রাখে ও কাজ করতে এনার্জি জোগায় । পরিমিত বিয়ার খেলে কেউ মাতাল হয় না । মাঝে মাঝে বিশেষ কোনো পার্টিতে হুইস্কি খাওয়া হতো । তাও দামি ব্র্যান্ডের । জনি ওয়াকার ব্ল্যাক লেবেল, টিচার্স, পাসপোর্ট, হেনেসি, শিভাস রিগাল, জ্যাক ড্যানিয়েলস । সাকুরায়ও অনেক সময় এসব ব্র্যান্ডের হুইস্কি পাওয়া যায় না । তো দেশে আসার পরও কিছু দিন ডৃংক করেছিলাম । কুমিল্লায় সরকার অনুমোদিত একটা মদের দোকান আছে চক বাজারে । নামঃ নাদের ট্রেডিং কোং । এটা প্রায় আজ ৫০ বছর । এখানে বিদেশি ব্র্যান্ডের ডৃংক পাওয়া যায় না । দেশিয় কোম্পানি ‘কেরো এন্ড কোং’ যা দর্শনায় অবস্থিত তার তৈরি ভদকা, হুইস্কি, জিন পাওয়া যায় । আমাদের সমাজতো রক্ষনশীল । তাই কান্দিরপাড় থেকে একটা স্প্রাইট কিনে অর্ধেক খেতে খেতে চক বাজার যেতাম । নাদেরে যখন পৌঁছতাম তখন স্প্রাইটের বোতল অর্ধেক খালি হয়ে যেতো । আমি বাবুল ভাইকে স্প্...

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ সরকারঃ শেখ মুজিবের শাসনামল ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের মার্চে শুরু হয়ে সেই বছরেরই ডিসেম্বরের দিকে গিয়ে শেষ হয়। এই দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল। এই দুর্ভিক্ষকে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক হিসেবে গন্য করা হয়। ওই সময় আমি বুঝতাম। ক্লাশ ফোরে পড়তাম। আহারে ! কি যে অভাব ! অনেকের মতো আমরাও ভাত না খেয়ে রুটি খেয়েছি । তাও পরিমিত । কখনো জাউ খেয়েছি । শুকনো মরিচ পাওয়া যেতো না । কাঁচা মরিচের কেজি ছিলো ১৫০ টাকা । লবন ১২০ টাকা । আর সোনার ভরি ছিলো তখন ১৫০ টাকা । সোনা শুধু ওই সময় কম দাম ছিলো । চারদিকে অভাব । সারাদেশের মানুষের হাহাকার । কতো মানুষ না খেয়ে মারা গেছেন ! বিদেশি রিলিফ সব আওয়ামী লীগের লোকেরা চুরি করেছে । আর বেশিরভাগ রিলিফ সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে পাচার হয়েছিলো । তখন বর্ডার খোলা ছিলো তখন । মহিলাদের শাড়ি কাপড় ছিলো না । অনেকে মাছ ধরার জাল পরে লজ্জাস্থান ঢেকেছিলো । এসব ছবি পত্রিকায়ও ছাপা হয়েছিলো । কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাদের কোনো অভাব ছিলো না । বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র দুই বছর তিন মাসের মাথায় ...