সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

রানু

রানু

১৯৯৭ সাল । নিউ ইয়র্কে একটা অপ্রত্যাশিত চিঠি পেয়েছিলাম । আমি থাকতাম নিউ ইয়র্ক সিটিতে যাকে স্থানীয় ভাষায় ম্যানহাটন বলে । এয়ারমেইল খামের বাঁ দিকে প্রেরকের নাম লেখা;
রানু
চন্দ্রঘোনা ।
আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম । আমার চোদ্দগোষ্ঠীর কেউ কোনোকালেই চন্দ্রঘোনা ছিলো না । নিজের আত্নীয় হোক আর অপরিচিত কেউ হোক, কারো চিঠি পেলে আমি সঙ্গে সঙ্গে চিঠি খোলতাম না । আমেরিকায় আমাদের অন্যতম একটা কাজ ছিলো, প্রতিদিন কাজ শেষে বাসায় ফিরে রুমে ঢুকার আগেই লেটার বক্স খোলা । ওই দেশের বিভিন্ন কোম্পানি থেকে চিঠি আসে । ক্রেডিট কার্ডের বিল আসে । নিউজ উইক, টাইম ম্যাগাজিন এর আমি সাবস্ক্রাইবার । সে সব ম্যাগাজিনও আসে । আর বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপনে ভর্তি থাকে লেটার বক্স।
লেটার বক্স থেকে চিঠি নিয়ে আগে ১০/১৫ মিনিট ভাবতাম । কি হতে পারে চিঠির ভেতরের বিষয় বস্তু । আমি খুব চিন্তায় পরে গিয়েছিলাম ওই চিঠি পেয়ে । কে এই রানু ? আমার আত্নীয়স্বজনের মাঝেও এই নামে কেউ নেই ।
এনি ওয়ে, ওই চিঠি খোলে পড়লাম । একটা মেয়ে লিখেছে সেই চিঠি । তার চিঠির প্রথম লাইনটি আজো মনে আছে ।
“প্রিয় করিম,
Friendship is much more tragic than love because it lasts longer. Oscar Wilde.
চিঠির বিষয় বস্তু; যায়যায়দিনে আমার লেখা পড়ে তার খুব ভালো লেগেছে । তাই আমাকে চিঠি লিখেছে । চিঠিতে সে আমার বন্ধু হবার আকুতি জানিয়েছে । আমি তাকে ছোট করে সৌজন্য উত্তর দিলাম এবং জানতে চাইলাম, আমার ঠিকানা সে কোথায় পেয়েছে ? ফিরতি চিঠিতে সে জানালো, আমার লেখা পড়ে সে চন্দ্রঘোনা থেকে যায়যায়দিন সম্পাদককে চিঠি লিখে আমার ঠিকানা চেয়েছে । তখন যায়যায়দিনের গবেষণা সহকারী সজীব ওনাসিস তাকে আমার ঠিকানা পাঠিয়েছেন । সজীবের নিজ হাতে লেখা আমার ঠিকানাটাও সে চিঠির সঙ্গে জুড়ে দিয়েছিলো । বিশ্বাস যোগ্যতার জন্য ।
প্রতি সপ্তাহে রানু আমাকে একটা চিঠি লিখবেই । চিঠিতে তার পারিবারিক অবস্থার বর্ননা দিয়েছিলো । তারা দু’বোন । সে ছোট । ওই সময়ই সে গ্র্যাজুয়েশন করেছিলো । তার ভালো নাম ফাতেমা ইয়াসমিন রানু । তার বড় এক বোন । তাদের কোন ভাই নেই । বাবা চন্দ্রঘোনা পেপার মিলে চাকরি করেন । আমাকে সে ছবিও পাঠিয়েছিলো । আমিও তাকে অনেক ছবি পাঠিয়েছিলাম । এই ছবি পাঠানোই আমার জন্য কাল হলো ।
ছবি দেখে মেয়েটি আমাকে ভালোবেসে ফেলেছিলো । এরপর থেকে তার চিঠি লেখার ধরন বদলে গেলো । তার চিঠি হয়ে গেলো অনেকটা প্রেমের চিঠি । তার চিঠির ভাষাশৈলী অত্যন্ত চমৎকার ছিলো । রানু খুব বিনয়ী ও ভদ্র ভাষায় চিঠি লিখতে পারতো । আমি কোন জেলার সে জানতো না তখনো । একদিন এক চিঠিতে সে লিখলো,
”আমার গ্রামের বাড়ি ফেনি জেলার দাগনভুঁইয়া উপজেলায় । তোমার গ্রামের বাড়ি কোন জেলায় করিম?” আগে নিজের বাড়ির পরিচয় দিয়ে আমার বাড়ি কোথায় জানতে চেয়েছে। চমৎকার ভদ্রতা!
এখন ওয়াশিংটন ডিসিতে আছেন শিরিন আপা Shireen Afzal. এই আপার বাসায় আমার নিয়মিত যাওয়া আসা ছিলো । আপাও জানতেন রানুর কথা । কতো ভাত খেয়েছি আপার বাসায় । শিরিন আপা তখন নিউ ইয়র্ক ছিলেন । আমার প্যান্ট শার্টের বুতাম ছুটে গেলে আপা লাগিয়ে দিতেন । দুষ্টুমি করে বলতেন, দেশে গেলে রানুই জামাকাপড় ঠিক করে রাখবে । আপার সঙ্গে এখনো যোগাযোগ আছে । আপাকে নিয়ে নিউ ইয়র্ক থেকে “ফোনবোন” গল্পও লিখেছিলাম যায়যায়দিনে । আর জানতেন জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্টৃটে অবস্থিত “অনন্যা” লাইব্রেরির মালিক শহিদ ভাই । রোববার সারাদিন আমার আড্ডা ছিলো ওই লাইব্রেরিতে । শহিদ ভাই এই নিয়ে আমার সঙ্গে অনেক দুষ্টুমি করতেন । বলতেন লেখালেখি করে মানুষ ফ্যান পায় । তুই পেয়েছিস প্রেমিকা । শহিদ ভাই আমার সিনিয়র ছিলেন । সিনসিনাটি, ওহাইও, কলোরাডোতে বই মেলা হলে তিনি লাইব্রেরিতে আমাকে বসিয়ে চলে যেতেন দুই তিন দিনের জন্য ।
১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে রানু আমাকে একটা চিঠি লিখতো । প্রতি ঈদে রানু পার্সেল করে আমার জন্য বাংলাদেশ থেকে পাঞ্জাবি, টুপি, কলম পাঠাতো । চিঠিতে লিখে দিতো, পরের লেখাটা যেন ওর পাঠানো কলম দিয়ে লিখি।
আমি নিষেধ করলেও সে শুনতো না । একদিন আমি লিখলাম, তোমার কিছু প্রয়োজন হলে আমাকে জানিও । উত্তরে সে লিখলো, আমার কিছুই লাগবে না । আমি বরাবরই স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান । এক পর্যায়ে সে আমাকে বিয়ে করার আগ্রহ জানালো । আমি তাকে লিখলাম, আমি বয়সে তোমার অনেক বড় । এমন অসম বিয়ে আমার পছন্দ নয় । তাছাড়া আমি কবে দেশে ফিরি তার কোনো ঠিক নেই । আর আমি কিছুটা পাগল টাইপ মানুষ ।
সে লিখলো, পুরুষের আবার বয়স কিসের ? আমি তোমাকে আমার করে চাই । তুমি দেশে চলে এসো । তোমার কিচ্ছু করতে হবে না । আমার সঙ্গে থাকবে । আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসবো । আমিই তোমাকে খাওয়াবো, পরাবো । আমাদের যে এসেট আছে তাতে তোমার কোনো অভাব হবে না । আর লেখকরা একটু পাগল টাইপ হয় । আমি জানি । আমি এমন পাগলই ভালোবাসি।
১৯৯৯ সালের শেষ দিকে আমি ফ্লোরিডায় মুভ করি । আগের মতোই সে আমাকে চিঠি লিখে । ফ্লোরিডায় আমার বন্ধু কবির Chowdhury Erfanul Kabir, ইমতিয়াজ Imtiaz Ahmed, নোয়াখালীর দিদার ভুঁইয়া, বাবু, ময়মনসিংয়ের লিটু ভাই Leetu Zaman, লিটু ভাইয়ের ওয়াইফ বহ্নি ভাবীও জানতেন । বহ্নি ভাবী খুব গল্প উপন্যাস পড়তেন । আমার কাছ থেকে যায়যায়দিন নিয়ে আমার সব লেখা পড়তেন । এমন রুচিশীল, মার্জিত, সংস্কৃতিমনা, শান্ত, ভদ্রমহিলা আমি জীবনে কম দেখেছি । আমি বয়সে বড় হলেও আমাকে আদর করতেন । মন্টু ভাই ডাকতেন । সিলেটের খাইরুল, দিনাজপুরের অমিয়, আমার ছাত্রজীবনের বন্ধু সোহেল সবাই এই কাহিনী জানতো ।
একদিন অমিয় বললো, আচ্ছা মন্টু ভাই, রানুকে বিয়ে করার পর যদি দেখেন রাতে ঘুমালে রানুর লোল পরে মানে ঘুমের মধ্যে মুখ দিয়ে লালা পরে তখন আপনি কি করবেন ? আমি একটা লাঠি নিয়ে অমিয়কে দৌঁড়ানি দিয়েছিলাম এই বলে যে, তুমি আর কোনো দোষ পাও নি ? সেক্স করার সময় যদি রানু চিল্লাচিল্লি করে তখন কি করবো এটা বলতে পারলা না ?
দিদার, বাবু নোয়াখালীর বলে তাদের বলতাম, দেখো, আমি কিন্তু গ্রেটার নোয়াখালীর জামাই হতে যাচ্ছি । দেখলেই সালাম দিবা । ডোন্ট ডু বেয়াদবি উইথ মি ।
২০০৪ সালের জানুয়ারি মাসের ২৮ তারিখ আমি দেশে ফিরে আসি । দেশে এসে আমি আমার ছোট আপা ফরিদার গাংচরের ‘আনোয়ার লজ’ বাসায় উঠি । আমার তালতো ভাই সবগুলোই 'পাগল' । আপাকে বললাম, ইকবাল ভাইকে বললাম এই কাহিনী । তালতো ভাই ইকবাল আমার বড় । Md Iqbalএখন বউ ছেলেমেয়ে নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া আছেন । তিনি বললেন, যাও না একবার দেখে আসো । আমেরিকা ফেরত পাত্র । এই সুযোগে শত শত মেয়ে তুমি দেখতে পারবা । হেলায় সুযোগ নষ্ট করবা না । বিয়েতো করবা একটাই ।
ফেব্রুয়ারি মাসের ১ তারিখ আমি চট্টগ্রাম গেলাম । উঠলাম নিজাম রোডের হোটেল পেনিনসোলায় । এটি ফাইভ স্টার হোটেল । কিন্তু চন্দ্রঘোনায় যাবো কিভাবে ? পরদিন সকালে একটা ট্যাক্সি ক্যাবের ড্রাইভারের সঙ্গে আলাপ করলাম । চন্দ্রঘোনা পেপার মিলে যাবো । এক ঘন্টা থাকবো । তুমি ওয়েট করবা । আবার তোমাকে নিয়েই এই হোটেলে ফিরে আসবো । কতো নিবা ভাড়া? সে দুই হাজার টাকা চাইলো ।
সেই প্রথম আমার চন্দ্রঘোনা যাওয়া । অত্যন্ত সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য । পেপার মিলে গিয়ে খোঁজে রানুদের বাসা বের করলাম । বাসায় ঢুকতেই রানু আমাকে চিনে ফেলেছে । সে মা বোনের সামনেই আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলো । আমি লজ্জা পেয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চাইলেই সে আরো শক্ত করে বুকে চেপে ধরে । রানুর গায়ের রঙ শ্যামলা হলেও চেহারা খুব মিস্টি । স্লিম ফিগার । এরপর আমি রানুর মায়ের পায়ে ধরে সালাম করলাম । তিনিও বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, আমার ছেলে নাই বাবা । তুমিই আমার ছেলে ।
বসলাম, আমাকে মিস্টি আর দধি দিলেন । খেলাম । কিছুক্ষণ গল্প করে বিদায় নিলাম । রানুর সঙ্গে সেই প্রথম এবং শেষ দেখা । একদিন রানু আমার কুমিল্লার বাসায় টিএন্ডটি ফোনে কল করে । ধরেছিলেন জেমিমার মা । রানু তার পরিচয় জেনে আমাকে ফোনটা দিতে বলে । আমি তখন টবে ফুল গাছ লাগাচ্ছিলাম । হাত ধুয়ে এসে ফোনটা ধরতেই রানু ,করিম বলে হাউমাউ করে কেঁদে বলেছিলো, তুমি আমাকে বিয়ে করবা এমন কথা দাওনি । কিন্তু তোমার বিয়ের খবরটাও আমাকে জানালে না করিম !
পরে রানু আমাকে ফোনে বলেছিলো, তারা বাসা বদল করে মাটিরাঙ্গা লিচুবাগানের কাছে বাসা নিয়েছে । ঠিকানাটা জানলে একবার যেতাম । কেমন যেনো আছে রানু এখন ? কোথায় যেন আছে ? বিয়ে করে স্বামী সন্তান নিয়ে হয়তো ব্যস্ত ।
তার জন্য অনেক শুভ কামনা
© করিম চৌধুরী
১ অক্টোবর ২০১৮
কুমিল্লা ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অশ্লীল নাম

বাংলাদেশের কিছু প্রতিষ্ঠান ও স্থানের বিচিত্র বা বিকৃত অর্থের নাম যা পরিবর্তন করা উচিতঃ ১. বোদা মহিলা মহাবিদ্যালয়, বোদা, পঞ্চগড় ২. চুমাচুমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি ৩. সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খুলনা ৪. মানুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নীলফামারি ৫. সোনাকাটা ইউনিয়ন, তালতলী, বরগুনা ৬.বড়বাল ইউনিয়ন, মিঠাপুকুর, রংপুর ৭.সোনাখাড়া ইউনিয়ন, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ৮. ধনকামড়া গ্রাম, ভোদামারা, দিনাজপুর ৯.গোয়াকাটা, দোহার, ঢাকা ১০. গোয়াতলা, ময়মনসিংহ ১১.লেংটার হাট, মতলব, চাঁদপুর

বোতল

বোতল মানব জীবনে বোতল অপরিহার্য । বোতল অনেক অর্থেও ব্যবহার হয় । কোনো কোনো এলাকায় আনস্মার্ট, বেয়াক্কেল প্রকৃতির লোককেও বোতল বলা হয় । ইউরোপ আমেরিকায় থাকতে আমি ডৃংক করতাম । হার্ড ডৃংক কমই খেতাম । প্রতিদিনই বিয়ার খেতাম । বিয়ার স্বাস্থ্য ভালো রাখে ও কাজ করতে এনার্জি জোগায় । পরিমিত বিয়ার খেলে কেউ মাতাল হয় না । মাঝে মাঝে বিশেষ কোনো পার্টিতে হুইস্কি খাওয়া হতো । তাও দামি ব্র্যান্ডের । জনি ওয়াকার ব্ল্যাক লেবেল, টিচার্স, পাসপোর্ট, হেনেসি, শিভাস রিগাল, জ্যাক ড্যানিয়েলস । সাকুরায়ও অনেক সময় এসব ব্র্যান্ডের হুইস্কি পাওয়া যায় না । তো দেশে আসার পরও কিছু দিন ডৃংক করেছিলাম । কুমিল্লায় সরকার অনুমোদিত একটা মদের দোকান আছে চক বাজারে । নামঃ নাদের ট্রেডিং কোং । এটা প্রায় আজ ৫০ বছর । এখানে বিদেশি ব্র্যান্ডের ডৃংক পাওয়া যায় না । দেশিয় কোম্পানি ‘কেরো এন্ড কোং’ যা দর্শনায় অবস্থিত তার তৈরি ভদকা, হুইস্কি, জিন পাওয়া যায় । আমাদের সমাজতো রক্ষনশীল । তাই কান্দিরপাড় থেকে একটা স্প্রাইট কিনে অর্ধেক খেতে খেতে চক বাজার যেতাম । নাদেরে যখন পৌঁছতাম তখন স্প্রাইটের বোতল অর্ধেক খালি হয়ে যেতো । আমি বাবুল ভাইকে স্প্...

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ সরকারঃ শেখ মুজিবের শাসনামল ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের মার্চে শুরু হয়ে সেই বছরেরই ডিসেম্বরের দিকে গিয়ে শেষ হয়। এই দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল। এই দুর্ভিক্ষকে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক হিসেবে গন্য করা হয়। ওই সময় আমি বুঝতাম। ক্লাশ ফোরে পড়তাম। আহারে ! কি যে অভাব ! অনেকের মতো আমরাও ভাত না খেয়ে রুটি খেয়েছি । তাও পরিমিত । কখনো জাউ খেয়েছি । শুকনো মরিচ পাওয়া যেতো না । কাঁচা মরিচের কেজি ছিলো ১৫০ টাকা । লবন ১২০ টাকা । আর সোনার ভরি ছিলো তখন ১৫০ টাকা । সোনা শুধু ওই সময় কম দাম ছিলো । চারদিকে অভাব । সারাদেশের মানুষের হাহাকার । কতো মানুষ না খেয়ে মারা গেছেন ! বিদেশি রিলিফ সব আওয়ামী লীগের লোকেরা চুরি করেছে । আর বেশিরভাগ রিলিফ সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে পাচার হয়েছিলো । তখন বর্ডার খোলা ছিলো তখন । মহিলাদের শাড়ি কাপড় ছিলো না । অনেকে মাছ ধরার জাল পরে লজ্জাস্থান ঢেকেছিলো । এসব ছবি পত্রিকায়ও ছাপা হয়েছিলো । কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাদের কোনো অভাব ছিলো না । বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র দুই বছর তিন মাসের মাথায় ...