সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

Happy Birthday Madhuri Dixit

Happy Birthday Madhuri Dixit

আজ ৫৩তম জন্মদিনে জেনে নিন অজানা মাধুরীকে ।

বলিউডের রূপসী রমণী এবং হাজারো পুরুষের হৃদয়েরর রানী মাধুরী দীক্ষিত।দীর্ঘ তিন দশক ধরেই তিনি মুগ্ধ করে রেখেছেন উপমহাদেশীয় চলচ্চিত্রপ্রেমীদের। জনপ্রিয় এই বলিউড অভিনেত্রী আজ ১৫ মে পা রাখলেন ৫৩ বছরে।
বলিউড ডান্স কুইন, ভুবন ভোলানো হাসি এই বলিউড সুপারস্টারকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।
আজকের দিনে শাহরুখ-আমির- সালমান খান থেকে শুরু করে বলিউডের বিভিন্ন তারকারা তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেইসাথে ভারতজুড়ে মাধুরী ভক্তরাও দিনটিকে প্রিয় অভিনেত্রীর জন্য উৎসর্গ করেছেন।
এদিকে নিজের জন্মদিনের দিনটা পরিবারের সঙ্গে একান্তেই কাটাচ্ছেন মাধুরী। যে সময় চলে গেছে, তাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাধুরীর কাছে। সেই সময় তিনি যে ভালোবাসা, আদর পেয়েছেন তার বন্ধু-বান্ধব, ভক্তদের কাছ থেকে, তা তিনি সবসময়ই মনে রাখবেন।
১৯৬৭ সালের ১৫ মে মুম্বাইতে জন্মগ্রহণ করেন মাধুরী দীক্ষিত। বাবা শংকর দীক্ষিত ও মা সঞ্চলতা। এক ভাই ও তিন বোনের মধ্যে মাধুরী ছিলেন সবার ছোট। ব্রাক্ষণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করার খাতিরে বেশ ধার্মিক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন তিনি।
মুম্বাইয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা মাধুরীর ছোটবেলা কেটেছে মুম্বাইতেই। তার স্কুল ছিলো ডিভাইন চাইল্ড হাই স্কুল। পরবর্তিতে মুম্বাই ইউনিভার্সিটিতে মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি।
মাধুরী সব সময়ই ভালো ছাত্রী ছিলেন। তবে তিনি পড়ার ব্যাপারে তেমন একটা মনযোগি ছিলেন না। মাধুরীর ভালো লাগতো নাচ। তিনি কথক নাচ শিখতেন ছোটবেলা থেকেই। বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে অনেক পুরস্কারও জিতে নিয়েছিলেন। নাচের জন্য তিনি স্কুলের শিক্ষক ও হেড মাস্টারদের কাছে খুব প্রিয় ছিলেন। এমনকি তিনি নাচের জন্য জাতীয় বৃত্তিও পেয়েছেন। কিন্তু পড়াশোনায় মন দিতে গিয়ে নাচের বৃত্তি কাজে লাগাতে পারেননি।
১৯৮৪ সালে ‘অবোধ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার। ১৯৮৮ সালে ‘তেজাব’ ছবির মাধ্যমে দর্শক মহলের সর্বত্র বিপুল সাড়া ফেলে দেন এই অভিনেত্রী। এই ছবি দিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রীর নমিনেশন পান।
এরপর থেকেই বলিউডে মাধুরী নামের নক্ষত্রের উত্থান শুরু। ১৯৮০ এবং ১৯৯০ দশকে তিনি হিন্দি চলচ্চিত্রের নেতৃত্বদানকারী অভিনেত্রী ও শীর্ষস্থানীয় নৃত্যশিল্পী হিসেবে একচ্ছত্র প্রাধান্য ও প্রভাব বিস্তার করেন।
মাধুরী উপহার দিয়েছেন ‘দিল’, ‘সাজন’, ‘আনজাম’, ‘কয়লা’, ‘খলনায়ক’,'রাজা' ‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘হাম তুমহারে হ্যায় সনম’, ‘দেবদাস’র মতো বিখ্যাত চলচ্চিত্রগুলো। তিনি বিখ্যাত ভারতীয় চিত্রকর মকবুল ফিদা হুসাইনের জন্য ‘গজ গামিনী’ (২০০০) ছবিতে নারীবাদী চরিত্রে অভিনয় করে অনন্য খ্যাতি লাভ করেন। ছবিতে তাকে কালীদাসের নারীচরিত্র, লিওনার্দো’র মোনালিসা, একজন উগ্রবাদী এবং সংগীতবিদ ইত্যাদি বিভিন্ন নারীরূপে দেখা যায়।
অভিনয়ের পাশাপাশি নাচেও তিনি বলিউডকে বিমোহিত করেছেন বহুবার।
‘এক দো তিন’ (তেজাব), ‘হামকো আজ কাল হ্যায়’ (সায়লাব), ‘বড় দুখ দিনহা’ (রাম লক্ষণ), ‘ধক ধক’ (বেটা), ‘চানে কে খেত মে’ (আনজাম), ‘দিদি তেরা দেবর দিওয়ানা’ (হাম আপকে হে কৌন), ‘চোলি কি পিছে’ (খলনায়ক), ‘আখিয়া মিলাও’ (রাজা), ‘মেরা পিয়া ঘর আয়া’ (ইয়ারানা) ‘কে সেরা সেরা’ (পুকার), ‘মার ডালা’ (দেবদাস) ইত্যাদি গানগুলোতে তার নৃত্যশৈলী আজও আলোচনার বিষয়।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একাধিকবার তিনি সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন। পাশাপাশি হিন্দী চলচ্চিত্রে অনবদ্য ভূমিকার জন্য ২০০৮ সালে ভারত সরকারের ৪র্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার হিসেবে তাকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
বর্তমানে মাধুরী অভিনয়ে খুব একটা নিয়মিত নন। সর্বশেষ ২০১৮ সালে মুক্তি পেয়েছিলো তার অভিনীত 'কলঙ্ক' ছবিটি।
এছাড়া বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে নাচের অনুষ্ঠানের বিচারক হিসেবেও দেখা মিলে তার। মাঝেমধ্যে অবশ্য হাজির হয়ে যান চলচ্চিত্রের নানা অনুষ্ঠানেও।
১৯৯৯ সালে মাধুরী কলোরাডোতে কর্মরত ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালযয়ের কার্ডিওভাসকুলার সার্জন মাধব নেনেকে বিয়ে করেন। ডাঃ নেনে মারাঠী ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান। সেই সংসারে মাধুরী আরিন ও রায়ান নামে দুই পুত্রের জননী।



শুক্রবার, মে ১৫, ২০২০
কুমিল্লা ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অশ্লীল নাম

বাংলাদেশের কিছু প্রতিষ্ঠান ও স্থানের বিচিত্র বা বিকৃত অর্থের নাম যা পরিবর্তন করা উচিতঃ ১. বোদা মহিলা মহাবিদ্যালয়, বোদা, পঞ্চগড় ২. চুমাচুমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি ৩. সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খুলনা ৪. মানুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নীলফামারি ৫. সোনাকাটা ইউনিয়ন, তালতলী, বরগুনা ৬.বড়বাল ইউনিয়ন, মিঠাপুকুর, রংপুর ৭.সোনাখাড়া ইউনিয়ন, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ৮. ধনকামড়া গ্রাম, ভোদামারা, দিনাজপুর ৯.গোয়াকাটা, দোহার, ঢাকা ১০. গোয়াতলা, ময়মনসিংহ ১১.লেংটার হাট, মতলব, চাঁদপুর

বোতল

বোতল মানব জীবনে বোতল অপরিহার্য । বোতল অনেক অর্থেও ব্যবহার হয় । কোনো কোনো এলাকায় আনস্মার্ট, বেয়াক্কেল প্রকৃতির লোককেও বোতল বলা হয় । ইউরোপ আমেরিকায় থাকতে আমি ডৃংক করতাম । হার্ড ডৃংক কমই খেতাম । প্রতিদিনই বিয়ার খেতাম । বিয়ার স্বাস্থ্য ভালো রাখে ও কাজ করতে এনার্জি জোগায় । পরিমিত বিয়ার খেলে কেউ মাতাল হয় না । মাঝে মাঝে বিশেষ কোনো পার্টিতে হুইস্কি খাওয়া হতো । তাও দামি ব্র্যান্ডের । জনি ওয়াকার ব্ল্যাক লেবেল, টিচার্স, পাসপোর্ট, হেনেসি, শিভাস রিগাল, জ্যাক ড্যানিয়েলস । সাকুরায়ও অনেক সময় এসব ব্র্যান্ডের হুইস্কি পাওয়া যায় না । তো দেশে আসার পরও কিছু দিন ডৃংক করেছিলাম । কুমিল্লায় সরকার অনুমোদিত একটা মদের দোকান আছে চক বাজারে । নামঃ নাদের ট্রেডিং কোং । এটা প্রায় আজ ৫০ বছর । এখানে বিদেশি ব্র্যান্ডের ডৃংক পাওয়া যায় না । দেশিয় কোম্পানি ‘কেরো এন্ড কোং’ যা দর্শনায় অবস্থিত তার তৈরি ভদকা, হুইস্কি, জিন পাওয়া যায় । আমাদের সমাজতো রক্ষনশীল । তাই কান্দিরপাড় থেকে একটা স্প্রাইট কিনে অর্ধেক খেতে খেতে চক বাজার যেতাম । নাদেরে যখন পৌঁছতাম তখন স্প্রাইটের বোতল অর্ধেক খালি হয়ে যেতো । আমি বাবুল ভাইকে স্প্...

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ সরকারঃ শেখ মুজিবের শাসনামল ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের মার্চে শুরু হয়ে সেই বছরেরই ডিসেম্বরের দিকে গিয়ে শেষ হয়। এই দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল। এই দুর্ভিক্ষকে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক হিসেবে গন্য করা হয়। ওই সময় আমি বুঝতাম। ক্লাশ ফোরে পড়তাম। আহারে ! কি যে অভাব ! অনেকের মতো আমরাও ভাত না খেয়ে রুটি খেয়েছি । তাও পরিমিত । কখনো জাউ খেয়েছি । শুকনো মরিচ পাওয়া যেতো না । কাঁচা মরিচের কেজি ছিলো ১৫০ টাকা । লবন ১২০ টাকা । আর সোনার ভরি ছিলো তখন ১৫০ টাকা । সোনা শুধু ওই সময় কম দাম ছিলো । চারদিকে অভাব । সারাদেশের মানুষের হাহাকার । কতো মানুষ না খেয়ে মারা গেছেন ! বিদেশি রিলিফ সব আওয়ামী লীগের লোকেরা চুরি করেছে । আর বেশিরভাগ রিলিফ সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে পাচার হয়েছিলো । তখন বর্ডার খোলা ছিলো তখন । মহিলাদের শাড়ি কাপড় ছিলো না । অনেকে মাছ ধরার জাল পরে লজ্জাস্থান ঢেকেছিলো । এসব ছবি পত্রিকায়ও ছাপা হয়েছিলো । কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাদের কোনো অভাব ছিলো না । বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র দুই বছর তিন মাসের মাথায় ...