সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

চিঠি, টেলিগ্রাম ও ট্রাংকল


 চিঠি, টেলিগ্রাম ও ট্রাংকল

------------------------------------

এখন আর ডাক পিয়ন স্ট্যাম্প লাগানো চিঠি ঘরে ঘরে ডেলিভারি দেয় না। এটা প্রায় বিলুপ্ত। চিঠি লেখাও বিলুপ্ত। আমি প্রাইমারি স্কুলে থাকতে এক দাদীর চিঠি লিখে দিতাম। কাকা চট্টগ্রাম চাকরি করতেন। কাকার নাম ছিলো হাকিম। দাদী অশিক্ষিত ছিলেন। অক্ষর জ্ঞান ছিলো না। আগে দাদী আমাকে বিষয়বস্তু বলে দিতেন। আমি পিড়িতে বসে লিখতাম। শুরু করতাম এভাবে... 


"বাবা হাকিম,

পত্রে আমার দোয়া নিও। আশাকরি আল্লাহতালার অশেষ রহমতে ভালোই আছো। পর সমাচার এই যে..." 


পরে তো অনেক প্রেমের চিঠিও লিখেছি। ডাক টিকেট লাগানো অনেক চিঠিও পেতাম।

আজ প্রায় ২৫ বছর ডাক টিকেট লাগানো চিঠি পাই না। আমেরিকা থাকতেও চিঠি লিখতাম, দেশ থেকে চিঠি পেতাম। চোখের সামনে এই চিঠি বিলুপ্ত হয়ে গেলো!


আর ছিলো টেলিগ্রাম ও ট্রাংকল। যা এখন বিলুপ্ত। আমি ছোটবেলা টেলিগ্রাম করতাম বড় ভাইকে। অন্য জেলায় চাকরি করতেন তাই। অনেক সময় ছুটি নেয়ার জন্য ভাইয়া বলে দিতেন টেলিগ্রাম করতে। টেলিগ্রামের ভাষা হতো দুই বাক্যে। 

Mother Serious. Come Sharp. বা

Father Serious. Come Sharp. বা 

Wife Serious. Come Sharp.


এমন টেলিগ্রাম পেলে ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ হয়ে গেলেও ছুটি কনফার্ম।


আর ট্রাংকল। তখন শটড লাইন ছিলো না। ISD তো নয়ই। কুমিল্লা থেকে ঢাকা বা চট্টগ্রাম বা অন্য কোনো জেলায় ফোন করতে হলে টিএন্ডটি অফিসে যেতে হতো। নাম্বার দিলে টিএন্ডটির লোক ঘুরানো টেলিফোনে প্রায় আধা ঘন্টা নাম্বার ঘুরিয়ে ঢাকা বা চট্রগ্রাম টেলিফোন একচেঞ্জ অফিসে লাইন লাগিয়ে বলতেন এই নাম্বারে ( আমি যে নাম্বার দিয়েছি) কানেকশন দেন। তারপর কথা বলা যেতো। আর আমাদের সময় টেলিফোন প্রায়ই ডেড থাকতো। মানে মৃত। রিসিভার তুললেই কোনো ডায়াল টোন থাকতো না। মানে ডেড। 


আর লোকাল কল করলে সঙ্গে সঙ্গে লাইন পাওয়া যেতো না। ফোন করলে শুধু কো কো, কো কো আওয়াজ পাওয়া যেতো। 

Karim Chowdhury 

Cumilla.

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অশ্লীল নাম

বাংলাদেশের কিছু প্রতিষ্ঠান ও স্থানের বিচিত্র বা বিকৃত অর্থের নাম যা পরিবর্তন করা উচিতঃ ১. বোদা মহিলা মহাবিদ্যালয়, বোদা, পঞ্চগড় ২. চুমাচুমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি ৩. সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খুলনা ৪. মানুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নীলফামারি ৫. সোনাকাটা ইউনিয়ন, তালতলী, বরগুনা ৬.বড়বাল ইউনিয়ন, মিঠাপুকুর, রংপুর ৭.সোনাখাড়া ইউনিয়ন, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ৮. ধনকামড়া গ্রাম, ভোদামারা, দিনাজপুর ৯.গোয়াকাটা, দোহার, ঢাকা ১০. গোয়াতলা, ময়মনসিংহ ১১.লেংটার হাট, মতলব, চাঁদপুর

বোতল

বোতল মানব জীবনে বোতল অপরিহার্য । বোতল অনেক অর্থেও ব্যবহার হয় । কোনো কোনো এলাকায় আনস্মার্ট, বেয়াক্কেল প্রকৃতির লোককেও বোতল বলা হয় । ইউরোপ আমেরিকায় থাকতে আমি ডৃংক করতাম । হার্ড ডৃংক কমই খেতাম । প্রতিদিনই বিয়ার খেতাম । বিয়ার স্বাস্থ্য ভালো রাখে ও কাজ করতে এনার্জি জোগায় । পরিমিত বিয়ার খেলে কেউ মাতাল হয় না । মাঝে মাঝে বিশেষ কোনো পার্টিতে হুইস্কি খাওয়া হতো । তাও দামি ব্র্যান্ডের । জনি ওয়াকার ব্ল্যাক লেবেল, টিচার্স, পাসপোর্ট, হেনেসি, শিভাস রিগাল, জ্যাক ড্যানিয়েলস । সাকুরায়ও অনেক সময় এসব ব্র্যান্ডের হুইস্কি পাওয়া যায় না । তো দেশে আসার পরও কিছু দিন ডৃংক করেছিলাম । কুমিল্লায় সরকার অনুমোদিত একটা মদের দোকান আছে চক বাজারে । নামঃ নাদের ট্রেডিং কোং । এটা প্রায় আজ ৫০ বছর । এখানে বিদেশি ব্র্যান্ডের ডৃংক পাওয়া যায় না । দেশিয় কোম্পানি ‘কেরো এন্ড কোং’ যা দর্শনায় অবস্থিত তার তৈরি ভদকা, হুইস্কি, জিন পাওয়া যায় । আমাদের সমাজতো রক্ষনশীল । তাই কান্দিরপাড় থেকে একটা স্প্রাইট কিনে অর্ধেক খেতে খেতে চক বাজার যেতাম । নাদেরে যখন পৌঁছতাম তখন স্প্রাইটের বোতল অর্ধেক খালি হয়ে যেতো । আমি বাবুল ভাইকে স্প্...

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ সরকারঃ শেখ মুজিবের শাসনামল ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের মার্চে শুরু হয়ে সেই বছরেরই ডিসেম্বরের দিকে গিয়ে শেষ হয়। এই দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল। এই দুর্ভিক্ষকে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক হিসেবে গন্য করা হয়। ওই সময় আমি বুঝতাম। ক্লাশ ফোরে পড়তাম। আহারে ! কি যে অভাব ! অনেকের মতো আমরাও ভাত না খেয়ে রুটি খেয়েছি । তাও পরিমিত । কখনো জাউ খেয়েছি । শুকনো মরিচ পাওয়া যেতো না । কাঁচা মরিচের কেজি ছিলো ১৫০ টাকা । লবন ১২০ টাকা । আর সোনার ভরি ছিলো তখন ১৫০ টাকা । সোনা শুধু ওই সময় কম দাম ছিলো । চারদিকে অভাব । সারাদেশের মানুষের হাহাকার । কতো মানুষ না খেয়ে মারা গেছেন ! বিদেশি রিলিফ সব আওয়ামী লীগের লোকেরা চুরি করেছে । আর বেশিরভাগ রিলিফ সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে পাচার হয়েছিলো । তখন বর্ডার খোলা ছিলো তখন । মহিলাদের শাড়ি কাপড় ছিলো না । অনেকে মাছ ধরার জাল পরে লজ্জাস্থান ঢেকেছিলো । এসব ছবি পত্রিকায়ও ছাপা হয়েছিলো । কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাদের কোনো অভাব ছিলো না । বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র দুই বছর তিন মাসের মাথায় ...