সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পালিয়ে যাওয়া স্বৈরশাসকেরা

 যুগে যুগে গণ-আন্দোলন ও তীব্র জনরোষের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হওয়া বিভিন্ন দেশের স্বৈরশাসকদের তালিকাঃ

(১) মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি- ইরান -১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবের সময় লাখ লাখ মানুষের প্রবল আন্দোলনের মুখে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

(২) ফার্দিনান্দ মার্কোস- ফিলিপাইন - ১৯৮৬ সালের 'পিপল পাওয়ার' বা রক্তপাতহীন গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২১ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে পরিবারসহ হাওয়াইয়ে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) পালিয়ে যান।

(৩) জাইন এল আবেদিন বেন আলী- তিউনিসিয়া - ২০১১তিউনিসিয়ার দীর্ঘ ২৩ বছরের স্বৈরশাসক বেন আলী ২০১১ সালের জানুয়ারিতে জনতার তীব্র বিক্ষোভের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে সৌদি আরবে পালিয়ে যান।

(৪) উগান্ডার ইদি আমিন- প্রথমে  লিবিয়ার গাদ্দাফির কাছে আশ্রয় গ্রহণ করে।

লিবিয়ায় দশ বছর কাটানোর পর ১৯৮৯ সালে আমিন সৌদি আরবে চলে যান। সৌদি আরবে অনেকদিন নীরব থাকার পর ২০০৩ সালের ১৬ই আগস্ট কুখ্যাত ইদি আমিন মৃত্যু বরন করে। ডেথ রিপোর্টে বলা হয় তার মৃত্যুর কারণ “অর্গান ফেইলিউর”।

(৫) গোটাবায়া রাজাপাকসে- শ্রীলঙ্কা - ২০২২ তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও লাগামহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে ২০২২ সালের জুলাই মাসে বিক্ষোভকারীরা তার বাসভবনে ঢুকে পড়লে তিনি প্রথমে মালদ্বীপ ও পরে সিঙ্গাপুরে পালিয়ে যান।

(৬) বাশার আল-আসাদ-২০২৪ সিরিয়ায় দীর্ঘ ৫১ বছর ধরে চলা আসাদ পরিবারের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। বিদ্রোহীদের অগ্রযাত্রার মুখে তিনি ক্ষমতা ছেড়ে রাশিয়ায় পালিয়ে যান।

(৭) শেখ হাসিনাঃ বাংলাদেশ - ২০২৪ সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে দমন-পীড়ন ও বিতর্কিত নির্বাচনের জেরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন এবং পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন।

এরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ প্রভুর দেশে কিম্বা তাদের পৃষ্ঠপোষকদের দেশে পালিয়ে যাওয়ার পর ফিরে আসার অনেক কৌশল করেছে- কিন্তু কেউ ফিরে আসেনি। আসতে পারেনি। আসতে পারবে না- এটাই স্বৈরশাসকদের পরিনতি। শেখ হাসিনাও কোনো দিন ফিরে আসবে না।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ সরকারঃ শেখ মুজিবের শাসনামল ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের মার্চে শুরু হয়ে সেই বছরেরই ডিসেম্বরের দিকে গিয়ে শেষ হয়। এই দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল। এই দুর্ভিক্ষকে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক হিসেবে গন্য করা হয়। ওই সময় আমি বুঝতাম। ক্লাশ ফোরে পড়তাম। আহারে ! কি যে অভাব ! অনেকের মতো আমরাও ভাত না খেয়ে রুটি খেয়েছি । তাও পরিমিত । কখনো জাউ খেয়েছি । শুকনো মরিচ পাওয়া যেতো না । কাঁচা মরিচের কেজি ছিলো ১৫০ টাকা । লবন ১২০ টাকা । আর সোনার ভরি ছিলো তখন ১৫০ টাকা । সোনা শুধু ওই সময় কম দাম ছিলো । চারদিকে অভাব । সারাদেশের মানুষের হাহাকার । কতো মানুষ না খেয়ে মারা গেছেন ! বিদেশি রিলিফ সব আওয়ামী লীগের লোকেরা চুরি করেছে । আর বেশিরভাগ রিলিফ সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে পাচার হয়েছিলো । তখন বর্ডার খোলা ছিলো তখন । মহিলাদের শাড়ি কাপড় ছিলো না । অনেকে মাছ ধরার জাল পরে লজ্জাস্থান ঢেকেছিলো । এসব ছবি পত্রিকায়ও ছাপা হয়েছিলো । কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাদের কোনো অভাব ছিলো না । বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র দুই বছর তিন মাসের মাথায় ...

অশ্লীল নাম

বাংলাদেশের কিছু প্রতিষ্ঠান ও স্থানের বিচিত্র বা বিকৃত অর্থের নাম যা পরিবর্তন করা উচিতঃ ১. বোদা মহিলা মহাবিদ্যালয়, বোদা, পঞ্চগড় ২. চুমাচুমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি ৩. সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খুলনা ৪. মানুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নীলফামারি ৫. সোনাকাটা ইউনিয়ন, তালতলী, বরগুনা ৬.বড়বাল ইউনিয়ন, মিঠাপুকুর, রংপুর ৭.সোনাখাড়া ইউনিয়ন, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ৮. ধনকামড়া গ্রাম, ভোদামারা, দিনাজপুর ৯.গোয়াকাটা, দোহার, ঢাকা ১০. গোয়াতলা, ময়মনসিংহ ১১.লেংটার হাট, মতলব, চাঁদপুর

বোতল

বোতল মানব জীবনে বোতল অপরিহার্য । বোতল অনেক অর্থেও ব্যবহার হয় । কোনো কোনো এলাকায় আনস্মার্ট, বেয়াক্কেল প্রকৃতির লোককেও বোতল বলা হয় । ইউরোপ আমেরিকায় থাকতে আমি ডৃংক করতাম । হার্ড ডৃংক কমই খেতাম । প্রতিদিনই বিয়ার খেতাম । বিয়ার স্বাস্থ্য ভালো রাখে ও কাজ করতে এনার্জি জোগায় । পরিমিত বিয়ার খেলে কেউ মাতাল হয় না । মাঝে মাঝে বিশেষ কোনো পার্টিতে হুইস্কি খাওয়া হতো । তাও দামি ব্র্যান্ডের । জনি ওয়াকার ব্ল্যাক লেবেল, টিচার্স, পাসপোর্ট, হেনেসি, শিভাস রিগাল, জ্যাক ড্যানিয়েলস । সাকুরায়ও অনেক সময় এসব ব্র্যান্ডের হুইস্কি পাওয়া যায় না । তো দেশে আসার পরও কিছু দিন ডৃংক করেছিলাম । কুমিল্লায় সরকার অনুমোদিত একটা মদের দোকান আছে চক বাজারে । নামঃ নাদের ট্রেডিং কোং । এটা প্রায় আজ ৫০ বছর । এখানে বিদেশি ব্র্যান্ডের ডৃংক পাওয়া যায় না । দেশিয় কোম্পানি ‘কেরো এন্ড কোং’ যা দর্শনায় অবস্থিত তার তৈরি ভদকা, হুইস্কি, জিন পাওয়া যায় । আমাদের সমাজতো রক্ষনশীল । তাই কান্দিরপাড় থেকে একটা স্প্রাইট কিনে অর্ধেক খেতে খেতে চক বাজার যেতাম । নাদেরে যখন পৌঁছতাম তখন স্প্রাইটের বোতল অর্ধেক খালি হয়ে যেতো । আমি বাবুল ভাইকে স্প্...