সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মা

 মা

আজ ২০ আগস্ট। আজ থেকে ২৯ বছর আগে আমার  মা মারা যান। ১৯৯৭ সালের ২০শে আগস্ট। আমি তখন নিউইয়র্কে ছিলাম। মার সঙ্গে শেষ দেখা হয়নি। ভাই বোনদের মধ্যে আমি সবার ছোট। ছোট সন্তান হিসেবে মা আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসতেন। প্রাইমারি জীবন শেষ করেই আমি শহরে চলে যাই। আমার তিন বড় বোন শহরের স্থায়ী বাসিন্দা পাকিস্তান আমল থেকে। বড় আপা রেইস কোর্স। মেজো আপা কান্দিরপাড়। ছোট আপা গাংচর।

আমার স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শহরেই কেটেছে। আমাদের বাড়ি আর শহর খুব কাছাকাছি। কুমিল্লা শহর থেকে মাত্র এক কিলোমিটার পশ্চিম দিকে আমাদের বাড়ি। মাঝে মাঝে এক-দুই ঘন্টার জন্য বাড়িতে আসতাম আবার চলে যেতাম শহরে। একদিন বন্ধু তাহেরকে নিয়ে মোটর বাইক চালিয়ে বাড়িতে আসলাম।


এসেই মাকে জড়িয়ে ধরে বললাম, মা আসো, তোমার সঙ্গে ছবি তুলবো। মা বললেন, দাঁড়া আমি কাপড়টা বদলে আসি। আমি বললাম না, যেভাবে আছো এভাবেই ছবি তুলবো। মা বললেন, আমাকে তো ফকিন্নির মতো লাগছে। আমি বললাম, ফকিন্নি হলেও তো তুমি আমার মা। মা বললেন, তোর পাগলামি আর শেষ হবে না।

গ্রামের মহিলারা সাধারণত খালি পায়ে থাকে। কিন্তু আমার মা সব সময় স্যান্ডেল পরতেন। খুব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতেন।

মা যেভাবে ছিলেন সেভাবেই মাকে ধরে নিয়ে পুকুর ঘাটে আসি।

আমি তখন ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। আশির দশকের কথা। আমার সাথে ক্যামেরা ছিল। ক্যামেরায় কালার ফিল্ম ছিল না। ছিল ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট ফিল্ম। কালার ফিল্মের তখন অনেক দাম। ছাত্র জীবনে এত টাকা কই পাবো?

আমার বন্ধু তাহেরদের একটা স্টুডিও ছিল জিলা স্কুল রোডে। নাম হলিউড ফটোগ্রাফার্স। এই স্টুডিও এখনো আছে। পৌর বিপনী বিতানের দোতালায়। তাহেরকে ক্যামেরা দিয়ে বললাম, তুই সিঁড়ির নিচে নাম। আমরা মা ছেলে সিঁড়িতে বসি। সুন্দর করে একটা ছবি তোল। ছবি ভালো না হলে কিন্তু তোর খবর আছে।

তাহের, জাহাঙ্গীর প্রায় সমবয়সী। বাসা ঝাউতলা। শহীদ শামসুল হক সড়কে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আতিক উল্লাহ খোকন। তাহের, জাহাঙ্গীর দুজন উনার ছোট ভাই। এই দুই ভাইয়ের সঙ্গে আমার খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ছবিটা তাহের তোলেছিল।

সেই সময় আশির দশকে আমরা স্যান্ডেলের সঙ্গেও শার্ট ইন করে পরতাম।

আজ মায়ের মৃত্যু দিবস। মাকে অনেক ভালোবাসা। আল্লাহ মাকে বেহেশত নসীব করুন। লাভ ইউ মা।

Karim Chowdhury

20 August, 2026

Cumilla

নোট : আমার বাবা পুরনো দিনের খুব ধার্মিক লোক ছিলেন। আমি যখন একটু একটু বুঝি তখন থেকে দেখতাম  আব্বা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে মসজিদে পড়তেন।  কখনোই আব্বা ঘরে নামাজ পড়তেন না। আব্বা প্রায় ২০ বছর আমার বড় আপার  মফিজ উদ্দিন সড়কের রেসকোর্স বাসায় ছিলেন। আব্বা মারাও গেছেন বড় আপার বাসায়। জাফর খান রোডের নূর মসজিদে নামাজ পড়তেন। আমার বন্ধু বাদল, কাউসারসহ অন্যদের বাবারাও আমার আব্বাকে চিনতেন।

পুরনো দিনের ধার্মিক ছিলেন বলে আব্বা কখনোই ছবি তোলেননি। ছবি তোলাকে আব্বা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম মনে করতেন। তাই আব্বার কোন ছবি নেই।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অশ্লীল নাম

বাংলাদেশের কিছু প্রতিষ্ঠান ও স্থানের বিচিত্র বা বিকৃত অর্থের নাম যা পরিবর্তন করা উচিতঃ ১. বোদা মহিলা মহাবিদ্যালয়, বোদা, পঞ্চগড় ২. চুমাচুমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি ৩. সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খুলনা ৪. মানুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নীলফামারি ৫. সোনাকাটা ইউনিয়ন, তালতলী, বরগুনা ৬.বড়বাল ইউনিয়ন, মিঠাপুকুর, রংপুর ৭.সোনাখাড়া ইউনিয়ন, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ৮. ধনকামড়া গ্রাম, ভোদামারা, দিনাজপুর ৯.গোয়াকাটা, দোহার, ঢাকা ১০. গোয়াতলা, ময়মনসিংহ ১১.লেংটার হাট, মতলব, চাঁদপুর

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ সরকারঃ শেখ মুজিবের শাসনামল ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের মার্চে শুরু হয়ে সেই বছরেরই ডিসেম্বরের দিকে গিয়ে শেষ হয়। এই দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল। এই দুর্ভিক্ষকে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক হিসেবে গন্য করা হয়। ওই সময় আমি বুঝতাম। ক্লাশ ফোরে পড়তাম। আহারে ! কি যে অভাব ! অনেকের মতো আমরাও ভাত না খেয়ে রুটি খেয়েছি । তাও পরিমিত । কখনো জাউ খেয়েছি । শুকনো মরিচ পাওয়া যেতো না । কাঁচা মরিচের কেজি ছিলো ১৫০ টাকা । লবন ১২০ টাকা । আর সোনার ভরি ছিলো তখন ১৫০ টাকা । সোনা শুধু ওই সময় কম দাম ছিলো । চারদিকে অভাব । সারাদেশের মানুষের হাহাকার । কতো মানুষ না খেয়ে মারা গেছেন ! বিদেশি রিলিফ সব আওয়ামী লীগের লোকেরা চুরি করেছে । আর বেশিরভাগ রিলিফ সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে পাচার হয়েছিলো । তখন বর্ডার খোলা ছিলো তখন । মহিলাদের শাড়ি কাপড় ছিলো না । অনেকে মাছ ধরার জাল পরে লজ্জাস্থান ঢেকেছিলো । এসব ছবি পত্রিকায়ও ছাপা হয়েছিলো । কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাদের কোনো অভাব ছিলো না । বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র দুই বছর তিন মাসের মাথায় ...

বোতল

বোতল মানব জীবনে বোতল অপরিহার্য । বোতল অনেক অর্থেও ব্যবহার হয় । কোনো কোনো এলাকায় আনস্মার্ট, বেয়াক্কেল প্রকৃতির লোককেও বোতল বলা হয় । ইউরোপ আমেরিকায় থাকতে আমি ডৃংক করতাম । হার্ড ডৃংক কমই খেতাম । প্রতিদিনই বিয়ার খেতাম । বিয়ার স্বাস্থ্য ভালো রাখে ও কাজ করতে এনার্জি জোগায় । পরিমিত বিয়ার খেলে কেউ মাতাল হয় না । মাঝে মাঝে বিশেষ কোনো পার্টিতে হুইস্কি খাওয়া হতো । তাও দামি ব্র্যান্ডের । জনি ওয়াকার ব্ল্যাক লেবেল, টিচার্স, পাসপোর্ট, হেনেসি, শিভাস রিগাল, জ্যাক ড্যানিয়েলস । সাকুরায়ও অনেক সময় এসব ব্র্যান্ডের হুইস্কি পাওয়া যায় না । তো দেশে আসার পরও কিছু দিন ডৃংক করেছিলাম । কুমিল্লায় সরকার অনুমোদিত একটা মদের দোকান আছে চক বাজারে । নামঃ নাদের ট্রেডিং কোং । এটা প্রায় আজ ৫০ বছর । এখানে বিদেশি ব্র্যান্ডের ডৃংক পাওয়া যায় না । দেশিয় কোম্পানি ‘কেরো এন্ড কোং’ যা দর্শনায় অবস্থিত তার তৈরি ভদকা, হুইস্কি, জিন পাওয়া যায় । আমাদের সমাজতো রক্ষনশীল । তাই কান্দিরপাড় থেকে একটা স্প্রাইট কিনে অর্ধেক খেতে খেতে চক বাজার যেতাম । নাদেরে যখন পৌঁছতাম তখন স্প্রাইটের বোতল অর্ধেক খালি হয়ে যেতো । আমি বাবুল ভাইকে স্প্...