সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মৃত্যু

 মৃত্যু 

-----

 অনেকেই বলেন, যে কোন মৃত্যুই বেদনাদায়ক। আমি এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নই। আমার কাছে কোনো মৃত্যুই বেদনাদায়ক বলে মনে হয় না। জন্ম হলে মৃত্যু অনিবার্য। এই কথা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। যা অনিবার্য তা বেদনাদায়ক হয় কিভাবে? কিছুদিন পর আমি নিজেই হয়তো মরে যাবো। শারীরিক অবস্থা ভালো যাচ্ছে না। মৃত্যু শ্বাশত, মৃত্যু চিরন্তন। 

মৃত্য নিয়ে আমার কিছু স্মৃতি। আমার বাবা মারা যান ১৯৮৯ সালের ২৭ শে নভেম্বর। পরিণত বয়সে। বার্ধক্য জনিত কারণে বাবার মৃত্যু হয়। আমি তখন দেশে। বাবাকে শেষ দেখা দেখেছিলাম। কবর দিয়েছিলাম। 

আমার মা মারা যান ১৯৯৭ সালের  ২০ শে আগস্ট। ২৯ বছর আগে আজকের এই দিনে।  আমি তখন নিউইয়র্কে। মার সঙ্গে শেষ দেখা হয়নি। মাকে কবর দেওয়া আমার ভাগ্যে জোটেনি। 

আমার মেজো ভাই মারা যান মাত্র ৪৭ বছর বয়সে ১৯৯৬ সালে। তখনো আমি নিউইয়র্কে। ভাইয়ের সঙ্গেও শেষ দেখা হয়নি। 

আবার বড় দুলাভাই মারা যান ২০০৮ সালে।  আমি তখন দেশে। শেষ দেখা হয়েছিলো এবং কবরও দিয়েছি।

আমার মেজো দুলাভাই মারা যান ২০১০ সালে। আমি তখন দেশে। শেষ দেখা হয়েছে। কবরও দিয়েছি।

আমার মেজো আপা মারা যান ২০১৮ সালে। শেষ দেখা হয়েছিল। কবরও দিয়েছি। এই আপার বাসায় আমি ১০ বছর ছিলাম। 

আমাদের সবার বড় ভাই মারা যান এ বছর রোজার মাসের প্রথম সপ্তাহে। ৮৫ বছর বয়সে। তিনি মিলিটারি পার্সোনেল ছিলেন। ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় উনার দাফন সম্পন্ন হয়। 

মুক্তিযোদ্ধা বলে সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে এসি ল্যান্ড  উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা গার্ড অফ প্রদান করেন। আবার মিলিটারি পার্সোনেল হওয়ায় সেনানিবাস থেকে সেনা সদস্যরাও আসেন। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। আমি উপস্থিত ছিলাম। 

এর এক সপ্তাহ পর অর্থাৎ এবছর রোজার মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আমাদের সবার বড় বোন মারা যান ৮৬ বছর বয়সে। আপাকে শেষ দেখেছি এবং কবরও দিয়েছি। 

আমাদের পরিবারেই মোট ৮ সদস্য মারা যান। 

৪/৫ চাচা। ৭/৮ জন চাচাতো ভাই।  ৭/৮ জন চাচাতো ভাবি মারা যান। 

আমরা ভাই-বোনদের কোন জেঠা নেই। কারণ চৌধুরী বাড়িতে আমার বাবাই বয়োজ্যেষ্ঠ। 

দূর সম্পর্কের অনেক আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব অনেকেই মারা গিয়েছেন। বেদনার্ত হয়ে লাভ কি? দুঃখ করে লাভ কি? আমরা তো জানিই সবার মারা যাবে। এই পৃথিবী থাকার জায়গা নয়। এক সময় আমরা এই পৃথিবীতে ছিলাম না। কিছু সময়ের জন্য এসেছি। আবার সকলকেই চলে যেতে হবে। 

বর্তমান পৃথিবীর জনসংখ্যা প্রায় ৮০০ কোটি। এই ৮০০ কোটি লোকের প্রত্যেকেই মারা যাবে। 

যা অনিবার্য তা সহজভাবেই মেনে নিতে হবে। 

Karim Chowdhury 

কুমিল্লা 

২০আগস্ট ২০২৬

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অশ্লীল নাম

বাংলাদেশের কিছু প্রতিষ্ঠান ও স্থানের বিচিত্র বা বিকৃত অর্থের নাম যা পরিবর্তন করা উচিতঃ ১. বোদা মহিলা মহাবিদ্যালয়, বোদা, পঞ্চগড় ২. চুমাচুমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি ৩. সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খুলনা ৪. মানুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নীলফামারি ৫. সোনাকাটা ইউনিয়ন, তালতলী, বরগুনা ৬.বড়বাল ইউনিয়ন, মিঠাপুকুর, রংপুর ৭.সোনাখাড়া ইউনিয়ন, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ৮. ধনকামড়া গ্রাম, ভোদামারা, দিনাজপুর ৯.গোয়াকাটা, দোহার, ঢাকা ১০. গোয়াতলা, ময়মনসিংহ ১১.লেংটার হাট, মতলব, চাঁদপুর

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ সরকারঃ শেখ মুজিবের শাসনামল ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের মার্চে শুরু হয়ে সেই বছরেরই ডিসেম্বরের দিকে গিয়ে শেষ হয়। এই দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল। এই দুর্ভিক্ষকে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক হিসেবে গন্য করা হয়। ওই সময় আমি বুঝতাম। ক্লাশ ফোরে পড়তাম। আহারে ! কি যে অভাব ! অনেকের মতো আমরাও ভাত না খেয়ে রুটি খেয়েছি । তাও পরিমিত । কখনো জাউ খেয়েছি । শুকনো মরিচ পাওয়া যেতো না । কাঁচা মরিচের কেজি ছিলো ১৫০ টাকা । লবন ১২০ টাকা । আর সোনার ভরি ছিলো তখন ১৫০ টাকা । সোনা শুধু ওই সময় কম দাম ছিলো । চারদিকে অভাব । সারাদেশের মানুষের হাহাকার । কতো মানুষ না খেয়ে মারা গেছেন ! বিদেশি রিলিফ সব আওয়ামী লীগের লোকেরা চুরি করেছে । আর বেশিরভাগ রিলিফ সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে পাচার হয়েছিলো । তখন বর্ডার খোলা ছিলো তখন । মহিলাদের শাড়ি কাপড় ছিলো না । অনেকে মাছ ধরার জাল পরে লজ্জাস্থান ঢেকেছিলো । এসব ছবি পত্রিকায়ও ছাপা হয়েছিলো । কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাদের কোনো অভাব ছিলো না । বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র দুই বছর তিন মাসের মাথায় ...

বোতল

বোতল মানব জীবনে বোতল অপরিহার্য । বোতল অনেক অর্থেও ব্যবহার হয় । কোনো কোনো এলাকায় আনস্মার্ট, বেয়াক্কেল প্রকৃতির লোককেও বোতল বলা হয় । ইউরোপ আমেরিকায় থাকতে আমি ডৃংক করতাম । হার্ড ডৃংক কমই খেতাম । প্রতিদিনই বিয়ার খেতাম । বিয়ার স্বাস্থ্য ভালো রাখে ও কাজ করতে এনার্জি জোগায় । পরিমিত বিয়ার খেলে কেউ মাতাল হয় না । মাঝে মাঝে বিশেষ কোনো পার্টিতে হুইস্কি খাওয়া হতো । তাও দামি ব্র্যান্ডের । জনি ওয়াকার ব্ল্যাক লেবেল, টিচার্স, পাসপোর্ট, হেনেসি, শিভাস রিগাল, জ্যাক ড্যানিয়েলস । সাকুরায়ও অনেক সময় এসব ব্র্যান্ডের হুইস্কি পাওয়া যায় না । তো দেশে আসার পরও কিছু দিন ডৃংক করেছিলাম । কুমিল্লায় সরকার অনুমোদিত একটা মদের দোকান আছে চক বাজারে । নামঃ নাদের ট্রেডিং কোং । এটা প্রায় আজ ৫০ বছর । এখানে বিদেশি ব্র্যান্ডের ডৃংক পাওয়া যায় না । দেশিয় কোম্পানি ‘কেরো এন্ড কোং’ যা দর্শনায় অবস্থিত তার তৈরি ভদকা, হুইস্কি, জিন পাওয়া যায় । আমাদের সমাজতো রক্ষনশীল । তাই কান্দিরপাড় থেকে একটা স্প্রাইট কিনে অর্ধেক খেতে খেতে চক বাজার যেতাম । নাদেরে যখন পৌঁছতাম তখন স্প্রাইটের বোতল অর্ধেক খালি হয়ে যেতো । আমি বাবুল ভাইকে স্প্...