সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

প্রবাসীর দাম্পত্য জীবন

কয়েকদিন আগে ইত্তেফাকে এই মর্মান্তিক রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়েছে। এই বিষয়ে আমার যে নিজস্ব কমেন্টারি তা নিম্নরূপ।

যত আর্থিক অনটনই থাক স্ত্রী সন্তানকে ফেলে দীর্ঘদিন দূরে থাকাকে আমি কোনভাবেই সমর্থন করি না। 

এতে বহুবিধ সমস্যা দেখা দেয়। প্রবাসী স্বামীর স্ত্রীরা অধিকাংশই পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত। এতে আমি স্ত্রীকে খুব একটা দোষ দেব না। তারও শারীরিক চাহিদা আছে। বছরের পর বছর স্বামী ছাড়া থাকা প্রায় অসম্ভব। এতে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর অনুরাগ, ভালোবাসা সব কিছুই কমে। দীর্ঘ সময় সন্তান পিতাকে কাছে না পেয়ে পিতৃস্নেহ  থেকে বঞ্চিত হয়। এতে বাবার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধাও কমে যায়। লেখক তো আর ঘাস খেয়ে লিখেননি Out of Sight out of Mind. পিতার স্নেহ, শাসন থেকে বঞ্চিত হয়ে সন্তানরাও বখে যায়। বছরের পর বছর স্বামী স্ত্রী আলাদা থাকলে বিয়ে করার প্রয়োজন কি? যত যুক্তিই দেয়া হোক না কেন, সেক্স নারী পুরুষ উভয়ের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের মতো মুসলিম সমাজ ব্যবস্থায় বিয়ে প্রথার প্রচলন হয় সেক্সের কারণেই। কে যেন লিখেছিলেন, Marriage is nothing but a sexual contact. 

প্রাপ্ত বয়স্ক প্রতিটি নরনারীর জন্য সেক্স অপরিহার্য। আমাদের খাবার, ঘুম যেমন প্রয়োজনীয় তেমনি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য সেক্সও প্রয়োজনীয়।

দীর্ঘদিন সেক্স বঞ্চিত মানুষেরা শারীরিক, মানসিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়ে। এক মাস, দুই মাস, তিন মাস মানুষ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে পারে। বছরের পর বছর এই শারীরিক চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করা কি সম্ভব? 

আবার কিছু ইয়াং ছেলে অল্প বয়সেই কট্টরপন্থী ইসলাম ধর্মের অনুসারী। এরা বিদেশ থেকে ফেসবুকে কোরআন হাদিসের পোস্ট দেয়। এদের অধিকাংশই সালাফীপন্থী। বাংলাদেশে যারা আহলে হাদিস নামে পরিচিত। এদের ধারণা আমরা যারা কোন পন্থী নই তারা ইসলাম ধর্ম তাদের চেয়ে কম বুঝি। 

এখন আমরা দেখি স্ত্রীকে ফেলে স্বামীর বাইরে থাকা নিয়ে ইসলাম ধর্ম কি বলেছে।

ইসলাম ধর্মে স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া একজন স্বামীর পক্ষে স্ত্রী থেকে সর্বোচ্চ চার মাস দূরে থাকা জায়েজ বা অনুমোদিত। ইসলামী ফিকহ ও শরিয়তের বিধান অনুযায়ী এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

সাধারণ সময়সীমা চার মাস: খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর যুগে নির্ধারিত নিয়ম ও অধিকাংশ ফিকহবিদদের মতে, স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া স্বামীর পক্ষে দূরে বা প্রবাসে থাকার সর্বোচ্চ মেয়াদ হলো চার মাস। চার মাসের বেশি সময় স্ত্রীর অমতে দূরে থাকা স্বামীর জন্য জায়েজ নয়। 

জরুরি ও ওজরবশত দূরে থাকা জীবিকা বা চাকরি: জীবিকার তাগিদে, ব্যবসা বা চাকরির কারণে স্বামী যদি বাইরে থাকেন এবং স্ত্রীর ভরণপোষণ ও নিরাপত্তার পূর্ণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন, তবে স্ত্রীর সম্মতিক্রমে বা ওজরের কারণে চার মাসের বেশি সময় থাকতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন স্ত্রীর অধিকার ও চারিত্রিক পবিত্রতা বিঘ্নিত না হয়। এখানে চার মাসের অধিক সময়ের কথা বলা হয়েছে। তার মানে এই নয় যে বছরের পর বছর। 

স্ত্রীর আপত্তি: স্ত্রী যদি এই দীর্ঘ প্রবাস জীবন বা দূরত্ব মেনে নিতে না পারেন এবং স্বামীর অনুপস্থিতি তার জন্য কষ্টকর হয়, তবে স্ত্রী চার মাস পর স্বামীর কাছে ফিরে আসার দাবি জানাতে পারেন বা শরিয়তের দারস্থ হতে পারেন।

আমি ব্যক্তিগতভাবে এমন কিছু ইয়াং ছেলেপেলেদেরকে চিনি যাদের পারিবারিক আর্থিক  সামর্থ্য যথেষ্ট ভালো। তাদের পিতামাতার যে সম্পদ আছে দেশের বাইরে না গিয়েও স্ত্রী সন্তান নিয়ে দেশেই স্বচ্ছলভাবে বসবাস করতে পারে। 

তারপরও স্ত্রী সন্তান ফেলে বছরের পর বছর বিদেশে পড়ে আছে। 

এতই যদি টাকার দরকার হয় তাহলে বিয়ে না করে শুধু  টাকা রোজগার করলেই হয়।


( এসব মতভিন্নতার কারণে একটা সময় কয়েকজনের সঙ্গে আমার তীব্র বাদানুবাদ হয়। যাদের সঙ্গে আমার ১০/১২ বছরের সামাজিক সম্পর্ক ছিলো। এক পর্যায়ে আমি বাধ্য হই তাদের সঙ্গে সেই সম্পর্ক ছিন্ন করে দিতে।)

Karim Chowdhury

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অশ্লীল নাম

বাংলাদেশের কিছু প্রতিষ্ঠান ও স্থানের বিচিত্র বা বিকৃত অর্থের নাম যা পরিবর্তন করা উচিতঃ ১. বোদা মহিলা মহাবিদ্যালয়, বোদা, পঞ্চগড় ২. চুমাচুমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি ৩. সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খুলনা ৪. মানুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নীলফামারি ৫. সোনাকাটা ইউনিয়ন, তালতলী, বরগুনা ৬.বড়বাল ইউনিয়ন, মিঠাপুকুর, রংপুর ৭.সোনাখাড়া ইউনিয়ন, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ৮. ধনকামড়া গ্রাম, ভোদামারা, দিনাজপুর ৯.গোয়াকাটা, দোহার, ঢাকা ১০. গোয়াতলা, ময়মনসিংহ ১১.লেংটার হাট, মতলব, চাঁদপুর

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ সরকারঃ শেখ মুজিবের শাসনামল ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের মার্চে শুরু হয়ে সেই বছরেরই ডিসেম্বরের দিকে গিয়ে শেষ হয়। এই দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল। এই দুর্ভিক্ষকে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক হিসেবে গন্য করা হয়। ওই সময় আমি বুঝতাম। ক্লাশ ফোরে পড়তাম। আহারে ! কি যে অভাব ! অনেকের মতো আমরাও ভাত না খেয়ে রুটি খেয়েছি । তাও পরিমিত । কখনো জাউ খেয়েছি । শুকনো মরিচ পাওয়া যেতো না । কাঁচা মরিচের কেজি ছিলো ১৫০ টাকা । লবন ১২০ টাকা । আর সোনার ভরি ছিলো তখন ১৫০ টাকা । সোনা শুধু ওই সময় কম দাম ছিলো । চারদিকে অভাব । সারাদেশের মানুষের হাহাকার । কতো মানুষ না খেয়ে মারা গেছেন ! বিদেশি রিলিফ সব আওয়ামী লীগের লোকেরা চুরি করেছে । আর বেশিরভাগ রিলিফ সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে পাচার হয়েছিলো । তখন বর্ডার খোলা ছিলো তখন । মহিলাদের শাড়ি কাপড় ছিলো না । অনেকে মাছ ধরার জাল পরে লজ্জাস্থান ঢেকেছিলো । এসব ছবি পত্রিকায়ও ছাপা হয়েছিলো । কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাদের কোনো অভাব ছিলো না । বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র দুই বছর তিন মাসের মাথায় ...

বোতল

বোতল মানব জীবনে বোতল অপরিহার্য । বোতল অনেক অর্থেও ব্যবহার হয় । কোনো কোনো এলাকায় আনস্মার্ট, বেয়াক্কেল প্রকৃতির লোককেও বোতল বলা হয় । ইউরোপ আমেরিকায় থাকতে আমি ডৃংক করতাম । হার্ড ডৃংক কমই খেতাম । প্রতিদিনই বিয়ার খেতাম । বিয়ার স্বাস্থ্য ভালো রাখে ও কাজ করতে এনার্জি জোগায় । পরিমিত বিয়ার খেলে কেউ মাতাল হয় না । মাঝে মাঝে বিশেষ কোনো পার্টিতে হুইস্কি খাওয়া হতো । তাও দামি ব্র্যান্ডের । জনি ওয়াকার ব্ল্যাক লেবেল, টিচার্স, পাসপোর্ট, হেনেসি, শিভাস রিগাল, জ্যাক ড্যানিয়েলস । সাকুরায়ও অনেক সময় এসব ব্র্যান্ডের হুইস্কি পাওয়া যায় না । তো দেশে আসার পরও কিছু দিন ডৃংক করেছিলাম । কুমিল্লায় সরকার অনুমোদিত একটা মদের দোকান আছে চক বাজারে । নামঃ নাদের ট্রেডিং কোং । এটা প্রায় আজ ৫০ বছর । এখানে বিদেশি ব্র্যান্ডের ডৃংক পাওয়া যায় না । দেশিয় কোম্পানি ‘কেরো এন্ড কোং’ যা দর্শনায় অবস্থিত তার তৈরি ভদকা, হুইস্কি, জিন পাওয়া যায় । আমাদের সমাজতো রক্ষনশীল । তাই কান্দিরপাড় থেকে একটা স্প্রাইট কিনে অর্ধেক খেতে খেতে চক বাজার যেতাম । নাদেরে যখন পৌঁছতাম তখন স্প্রাইটের বোতল অর্ধেক খালি হয়ে যেতো । আমি বাবুল ভাইকে স্প্...