সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

জেমিমা,

 জেমিমা, 

আমি তোমার রানা ভাইয়া। চিনতে পারছো? 

তোমার বাবা যে আমাকে ৪ লাখ টাকা ধার দিয়েছিল আমি সেই রানা। আমাকে তো তোমরা চিনো না তাই পরিচয় দিচ্ছি। আমি একজন  ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। প্রথমে ডিপ্লোমা পাস করে কোকাকোলায় চাকরি নিয়েছিলাম। কয়েক বছর পর বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কমপ্লিট করেছি। ইংরেজিতে দুর্বল ছিলাম বলে আমার প্রমোশন আটকে ছিল। আমি ২০১৬ সালে ৬ মাস তোমার বাবার কাছে ইংরেজি পড়েছিলাম। এরপর আমার প্রমোশন হয়। বর্তমানে আমি কোকাকোলার প্রোডাকশন বিভাগের একজন ইঞ্জিনিয়ার। আমার বেসিক বেতন ৫৮ হাজার টাকা। অন্যান্য বেনিফিটসহ আমি প্রতি মাসে ৭৫ হাজার টাকা বেতন পাই।

আমার বাড়ি এখানে কাছেই। আলেখারচরের কাছেই। গ্রামের নাম বালিখাড়া। বাড়ি থেকে এসেই চাকরি করি।কোকাকোলার গাড়িতেই আসা-যাওয়া করি।  

আমি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। আমার স্ত্রীর নাম জিনিয়া।ছেলেটা বড় নাম রাফান। ক্লাস সিক্সে পড়ে। মেয়েটা ছোট নাম মিনা। ক্লাস টু তে পড়ে। 

তোমার বাবার বাসার পাশেই কোকাকোলা প্ল্যান্ট। অফিস থেকে তোমার বাবার বাসায় যেতে ৫ মিনিট লাগে মাত্র। গত বছর আমি কুমিল্লা কান্দিরপাড় নামকরা শপিং সেন্টার সাত্তার খান কমপ্লেক্সে একটা মোবাইল ফোনের ব্যবসা শুরু করি। চার তলায় দোকানের নাম বাজেট হাব। তখন আমার পুঁজির কিছু শর্ট পড়ে। তাই তোমার বাবার কাছ থেকে চার লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলাম। তোমার বাবাকে আমি স্যার ডাকি। স্যার যেহেতু এখন কিছু করেন না। তাই আমি প্রতিমাসের লভ্যাংশ থেকে স্যারকে কিছু টাকা দেই।  দুই বছরের এগ্রিমেন্ট হলেও তোমার বাবা আমাকে বলেছেন, এই টাকা তিনি আর মৃত্যুর আগে নেবেন না।উনি মারা গেলে যেন টাকাটা তোমাকে দিয়ে দেই।  

তোমার বাবা শারীরিকভাবে খুব দুর্বল হয়ে গেছে। তিনি বাজার করতে পারেন না। শাহজালাল ফার্মেসির দেলোয়ার উনাকে বাজার করে দেয়। সারাদিন বাসায় থাকে। অনেকদিন হয় তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন সময় মত। নিজে যা পারে তাই রান্না করে। বিকালে আসরের নামাজের পর বের হয়। মেডিসিন মার্কেটের পাঁচ তলার মসজিদে মাগরিবের নামাজ এবং এশার নামাজ পড়ে আবার বাসায় চলে আসে। এটাই ওনার রুটিন। উনি তো সারাক্ষণ বাসায় থাকে। তাই আমি বাসায় একটা ওয়াইফাই কানেকশন লাগিয়ে দিয়েছি।

উনি ফেসবুক চালিয়ে সময় কাটায়। আমি প্রতিদিন দুপুরে লাঞ্চ টাইমে তোমার বাবার বাসায় যাই। উনার কিছু কাপড়চোপড় ধুয়ে দেই। শরীর টিপে দেই। হাত পায়ের নখ কেটে দেই। গোসল করিয়ে দেই। বাসায় যাওয়ার আগে স্যারকে ফোন করে জিজ্ঞেস করি,স্যার কিছু লাগবে? সব দিন উনি রান্না করতে পারেন না। তাই আমি হোটেল থেকে খাবার নিয়ে যাই। আমি স্যারের জীবনের সবকিছু জানি। 

কে ঠিক আর কে বেঠিক সেই আলোচনায় আমি যাব না। তোমার মা সহ তোমার নানুর ফ্যামিলির সবাই  স্যারের সাথে বিরাট বেইমানি করেছে। 

স্যার তোমাকে অনেক ভালোবাসতো। ২০১৬-১৭-১৮ সালে স্যার আমার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে তোমার সাথে দেখা করতে ঢাকায় যেত।

কিছুদিন আগে বোধহয় স্যার তোমাকে কিছু মেসেজ দিয়েছিল। তোমার মা, তোমার নানুর ফ্যামিলির সবাই তোমার মামা খালারা স্যারের সাথে কি করেছে। সন্তান হিসেবে স্যার তোমাকে সেগুলি বলেছে। 

তুমি অত্যন্ত আপত্তিজনক একটি মেসেজ দিয়েছো স্যারকে। জন্মদাতা পিতাকে কেউ এমন মেসেজ দেয় না। স্যার কেঁদে কেঁদে আমাকে তোমার মেসেজটা পড়ে শুনিয়েছে। তোমাকে অনেক অভিশাপ দিয়েছে স্যারে। 

আমি স্যারকে অনুরোধ করেছি স্যার এভাবে বইলেন না। বাবার অভিশাপ অনেক সময় লেগে যায়। তুমি নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিও। 

তোমাকে এই মেসেজ লিখছি কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানানোর জন্য। স্যার অনেকটা ওসিয়তনামার মত করেই আমাকে বলেছে যেন তোমাকে জানিয়ে দেই। 

তুমি আর কখনোই কুমিল্লা আসবে না। স্যারের মৃত্যুর পরেও না। স্যারের মৃত্যুর পর তুমি তার কবরের পাশেও কোন দিন আসতে পারবে না বলে স্যার আমাকে জানিয়ে দিয়েছে। 

তাছাড়া তোমার কুমিল্লা আসার আর কোন প্রয়োজনও নেই। তোমাকে ব্যাংকের নমিনি করেছিল। স্যার সেটা পরিবর্তন করে আমাকে নমিনি করেছে। স্যারের মৃত্যুর পর ব্যাংকে যদি কোন টাকা থাকে তবে সেগুলি আমি তোমাকে পাঠিয়ে দেবো। আর আমাকে যে ৪ লক্ষ টাকা স্যার ধার দিয়েছেন। সেই টাকা স্যার নিবে না। আমার ব্যবসার লভ্যাংশের যে টাকা স্যারকে দেই স্যার সেই টাকা দিয়েই চলেন। স্যার আমাকে বলে দিয়েছেন,উনি মারা গেলে যেন চার লক্ষ টাকা তোমাকে দিয়ে দেই।

তোমার যদি মাঝে মাঝে টাকা লাগে তবে আমাকে জানিও। আমি তোমার জন্য টাকা পাঠিয়ে দেবো। তোমার বাবার চার লক্ষ টাকা তো আমার কাছে আছেই। আমার দুইটা ফোন নাম্বার তুমি যত্ন করে রেখে দিও।    

তোমার বাবার সাথে যোগাযোগ করার সব রাস্তা তিনি বন্ধ করে দিয়েছেন। চাইলেও তুমি আর উনার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে না। স্যার আমাকে বলেছেন, তোমার মাকে বলে দিও, উনার যদি নূন্যতম  আত্মসম্মানবোধ থাকে তাহলে যেন স্যারের কোন আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে উনি যোগাযোগ না করে।  তোমার মা ওনাকে ডিভোর্স করে দিয়ে উনার আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করবে কেন? এটাও তো তোমার মার একটা নোংরামি মানসিকতা। 

মেসেজে লেখা বক্তব্যগুলি আমারও নয়। তোমার বাবা আমাকে যা বলেছেন আমি তাই রেখে দিয়েছি। 

আমার ফোন নাম্বার.....

গত কয়েকদিন আগে আমি বাসায় গেলে তোমার বাবা বাড়ির মালিক হাবিব সাহেবকে ডেকে আনেন। হাবিব সাহেবকে তোমার বাবা বলেছেন, উনি মারা গেলে বাসায় যা কিছু আছে সবকিছু যেন আমি নিয়ে যাই। আমি ওনার প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে পাশে থাকি বা সেবা যত্ন করি বলে তিনি সেগুলি আমাকে উপহার হিসেবে দিয়ে গেছেন বলে হাবিব সাহেবকে বলেছেন। দুটো জিনিস তো একেবারেই নতুন। ফ্রিজটা কিনেছেন গত বছর। ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে। আইপিএস কিনেছেন ৪ মাস আগে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে। আর যা যা আছে খাট, ওয়ারড্রব, টিভি, আলনা, ফ্যান অনেক দামি দামি মাল আছে। উনি বলেছেন আজকালের মধ্যে স্টাম্পেও এগুলি লিখিত দিয়ে যাবেন।

স্যারকে অনেক বুঝিয়েছিলাম। উনার এক কথা। উনি এখন খুব বাস্তবসম্মত কথা বলেন। উনি বলেছেন তুমি উনার মেয়ে থাকলেও যা না থাকলেও তা। তুমি তো মা মামা খালাদের কাছে আছো। এক গ্লাস পানি চাইলে তোমার মা মামা খালাদেরকেই এগিয়ে দাও। তোমার মায়ের পা ব্যথা করলে তুমি টিপে দাও। উনারা কেউ অসুস্থ হলে সেবা-যত্ন করলে তুমিই তাদের সেবা যত্ন করবে। তোমার বাবা আমাকে এও বলেছেন, তোমার মা মামা খালারা মিথ্যার উপরে দাঁড়িয়ে আছেন। ওনাদের জীবন নাকি মিথ্যার ভরপুর। তোমার মামা খালারা ছাড়া তোমার বান্ধবী বা অন্যরা কি জানে তোমার মা-বাবার ডিভোর্স হয়েছে? তোমার বাবা বলেছে এনাকে সবাইকে বল তোমার বাবা বিদেশে আছে। আর উনি মরে গেলে তো তোমাদের জন্য আরো বেশি সুবিধা। বলবে বাবা মারা গেছে। দাদা দাদি নেই। কিন্তু তোমার বাবা-মার ডিভোর্স হয়েছে এটা তুমি কাউকে বলবে না। 

আমি আবারও বলছি আমাকে ভুল বুঝবে না। তোমার বাবা আমাকে যা যা বলেছে আমি লিখে তোমাকে তাই জানিয়ে দিলাম।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অশ্লীল নাম

বাংলাদেশের কিছু প্রতিষ্ঠান ও স্থানের বিচিত্র বা বিকৃত অর্থের নাম যা পরিবর্তন করা উচিতঃ ১. বোদা মহিলা মহাবিদ্যালয়, বোদা, পঞ্চগড় ২. চুমাচুমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি ৩. সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খুলনা ৪. মানুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নীলফামারি ৫. সোনাকাটা ইউনিয়ন, তালতলী, বরগুনা ৬.বড়বাল ইউনিয়ন, মিঠাপুকুর, রংপুর ৭.সোনাখাড়া ইউনিয়ন, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ৮. ধনকামড়া গ্রাম, ভোদামারা, দিনাজপুর ৯.গোয়াকাটা, দোহার, ঢাকা ১০. গোয়াতলা, ময়মনসিংহ ১১.লেংটার হাট, মতলব, চাঁদপুর

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ সরকারঃ শেখ মুজিবের শাসনামল ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের মার্চে শুরু হয়ে সেই বছরেরই ডিসেম্বরের দিকে গিয়ে শেষ হয়। এই দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল। এই দুর্ভিক্ষকে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক হিসেবে গন্য করা হয়। ওই সময় আমি বুঝতাম। ক্লাশ ফোরে পড়তাম। আহারে ! কি যে অভাব ! অনেকের মতো আমরাও ভাত না খেয়ে রুটি খেয়েছি । তাও পরিমিত । কখনো জাউ খেয়েছি । শুকনো মরিচ পাওয়া যেতো না । কাঁচা মরিচের কেজি ছিলো ১৫০ টাকা । লবন ১২০ টাকা । আর সোনার ভরি ছিলো তখন ১৫০ টাকা । সোনা শুধু ওই সময় কম দাম ছিলো । চারদিকে অভাব । সারাদেশের মানুষের হাহাকার । কতো মানুষ না খেয়ে মারা গেছেন ! বিদেশি রিলিফ সব আওয়ামী লীগের লোকেরা চুরি করেছে । আর বেশিরভাগ রিলিফ সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে পাচার হয়েছিলো । তখন বর্ডার খোলা ছিলো তখন । মহিলাদের শাড়ি কাপড় ছিলো না । অনেকে মাছ ধরার জাল পরে লজ্জাস্থান ঢেকেছিলো । এসব ছবি পত্রিকায়ও ছাপা হয়েছিলো । কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাদের কোনো অভাব ছিলো না । বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র দুই বছর তিন মাসের মাথায় ...

বোতল

বোতল মানব জীবনে বোতল অপরিহার্য । বোতল অনেক অর্থেও ব্যবহার হয় । কোনো কোনো এলাকায় আনস্মার্ট, বেয়াক্কেল প্রকৃতির লোককেও বোতল বলা হয় । ইউরোপ আমেরিকায় থাকতে আমি ডৃংক করতাম । হার্ড ডৃংক কমই খেতাম । প্রতিদিনই বিয়ার খেতাম । বিয়ার স্বাস্থ্য ভালো রাখে ও কাজ করতে এনার্জি জোগায় । পরিমিত বিয়ার খেলে কেউ মাতাল হয় না । মাঝে মাঝে বিশেষ কোনো পার্টিতে হুইস্কি খাওয়া হতো । তাও দামি ব্র্যান্ডের । জনি ওয়াকার ব্ল্যাক লেবেল, টিচার্স, পাসপোর্ট, হেনেসি, শিভাস রিগাল, জ্যাক ড্যানিয়েলস । সাকুরায়ও অনেক সময় এসব ব্র্যান্ডের হুইস্কি পাওয়া যায় না । তো দেশে আসার পরও কিছু দিন ডৃংক করেছিলাম । কুমিল্লায় সরকার অনুমোদিত একটা মদের দোকান আছে চক বাজারে । নামঃ নাদের ট্রেডিং কোং । এটা প্রায় আজ ৫০ বছর । এখানে বিদেশি ব্র্যান্ডের ডৃংক পাওয়া যায় না । দেশিয় কোম্পানি ‘কেরো এন্ড কোং’ যা দর্শনায় অবস্থিত তার তৈরি ভদকা, হুইস্কি, জিন পাওয়া যায় । আমাদের সমাজতো রক্ষনশীল । তাই কান্দিরপাড় থেকে একটা স্প্রাইট কিনে অর্ধেক খেতে খেতে চক বাজার যেতাম । নাদেরে যখন পৌঁছতাম তখন স্প্রাইটের বোতল অর্ধেক খালি হয়ে যেতো । আমি বাবুল ভাইকে স্প্...