সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

পরজন্মে

🌏 🌋 🌏 পরজন্মে ***************** পরজন্মে আমায় তোমার সঙ্গে নেবে? যেখানে বড় সবুজ মাঠ, দিগন্ত জুড়ে ঘাস, নীল আকাশ, সাদা মেঘের ছোটাছুটি, নীল, সবুজ এর মেলা। পড়ন্ত বিকেল তবু নেই তাড়া, সন্ধ্যায় তোমার সঙ্গে ঘরে ফেরা। নেবে বন্ধু! নেবে সেথায় আরেক জন্মে আমায়? যেথা নেই কোন কোলাহল, লোকালয়ের যান্ত্রিক শব্দ, আছে পাখির ডাক, বাতাসের মাতাল করা গান, মিষ্টি রোদ আর চাঁদের আলো। কেউ সুধাবে না ঘরে ফেরো! দিবে না পায়ে সামাজিক শৃঙ্খল, বলবে না এ নয় ভালো।। নেবে বন্ধু! নেবে সেথায় তোমার সঙ্গে ফের জন্মে আমায়? সেখানে শুধু তুমি আর আমি, কথা হবে চিৎকার করে নয়, চুপি চুপি। ভালোবাসবে তুমি, ভালোবাসবো আমি, বলো উচ্চস্বরে, নয় লুকোচুরি। সাক্ষী হবে সেথা সৃষ্টি বিধাতা, নেবে বন্ধু! নেবে তোমার সঙ্গে পরজন্মে আমায়?   November 24 at 2:06 PM ·

আমেরিকায় এক শ্রেণির মানুষ বিশেষজ্ঞ

আ মেরিকায় এক শ্রেণির মানুষ বিশেষজ্ঞ আমেরিকায় এক শ্রেণির মানুষ বিশেষজ্ঞ, আর বেশিরভাগ মানুষই নানান বিষয়ে অজ্ঞ ।আমাদের দেশের গরীব, অল্প শিক্ষিত মানুষেরা বাইরের পৃথিবীর খবর বিশেষ রাখে না । অল্প শিক্ষিতইবা বলি কেন ? বছর দুয়েক স্কুলে ইংরেজি পড়িয়ে দেখেছি বিএ, এমএ পাশ শিক্ষকরাও বাইরের পৃথিবী সম্পর্কে অনেক কিছুই জানে না । এরা কিভাবে বিএ, এমএ পাশ করেছে এ এক বিস্ময় ! আমার সাবজেক্ট ছিলো ইংরেজি । একদিন সহকারি প্রধান শিক্ষক আমাকে বললেন, করিম সাহেব, ক্লাশ টেনে ইংরেজির পাশাপাশি ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ সাবজেক্টটার একটা ক্লাশ নিতে পারবেন ? আমি বললাম, দেখি বইটা একটু । সহকারি প্রধান শিক্ষক আমাকে বইটা দিলেন । আমি ১ ঘন্টা বইটার বিভিন্ন চ্যাপ্টার দেখলাম । এরপর হেসে বললাম, আপনারাতো ক্লাশে বই খোলে চ্যাপ্টার দেখে পড়ে পড়ান । আমি ক্লাশ নিতে পারি । তবে যেদিন যে চ্যাপ্টার পড়াবো সেদিন আমি শুধু ক্লাশে গিয়ে চ্যাপ্টারটা দেখবো । বই দেখে আমাকে পড়াতে হবে না । এই শর্তে হলে আমি ক্লাশ নিতে পারি । সহকারি প্রধান শিক্ষক মি.আবুল কালাম ভুঁইয়া বললেন, আপনি স্কুলে আসছেন কি করতে ? আপনি পড়াবেন ভার্সিটিতে । আমি ব...

খেলা

খেলা ছোটবেলা তো কতো রকমের খেলা খেলেছি। প্রাইমারী পর্যন্ত আমি গ্রামে ছিলাম। শহরে আমার তিন বড় বোন। আমাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা মুল শহর থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার। হাই স্কুল থেকে বোনেরা মাকে বুঝিয়ে আমাকে শহরে নিয়ে যায়। গ্রামে থাকলে লেখাপড়া হবে না তাই। ভালো ছাত্র ছিলাম । ফার্স্ট বয়। ওই সময় গ্রামে লেখাপড়া খুব একটা ছিলো না। এরপর থেকেই আমার শহুরে জীবন শুরু । রেইস কোর্স বড় আপা, কান্দিরপাড় মেজো আপা, গাংচর ছোট আপা। পুরো কুমিল্লা শহরেই আমার আত্নীয়স্বজন। ইন্টারমেডিয়েটের পর চট্ট গ্রাম ও ঢাকা ভার্সিটি । এরপর জাপান,ইউরোপ, আমেরিকা। ছোটবেলা গ্রামে ডাংগুলি, হাডুডু, হাইড এন্ড সিক, দাড়িয়া বাধা, ফুটবল, ঘুড়ি উড়ানো মানে কাইট ফ্লাইয়িং, মাটিতে দাগ দিয়ে ঘর করে কুতকুত খেলা মেয়েদের সঙ্গে, দড়ি লাফানি, পুকুরে ডুবিয়ে এক ধরনের লেখা ছিলো, এটাকে আমরা 'লাই' খেলা বলতাম। আমি কিছু একটা বলে ডুব দেবো আর অন্যরা আমাকে পানির নিচে ধরবে। যে ধরবে তাকে আবার অন্যরা ধরবো। আরো অনেক খেলা ছিলো। মেয়েদের সঙ্গে জামাই বউ খেলেছি অনেক। অনেক মেয়েদের জামাই হয়েছিলাম ওই খেলায়। কিন্তু ওই মেয়েগুলোকে তো তালাক দিই নি। এই...

জেমিমার ভর্তি

জেমিমার ভর্তি আজ সারাদিন জেমিমার মায়ের সঙ্গে অনেকবার কথা বলতে হয়েছে। জেমিমার পিএসসি পরীক্ষা শেষ হলো গতকাল। আমরা চাচ্ছি, মেয়ে সিক্সে এমন স্কুলে পড়ুক যেটাতে ইন্টারমেডিয়েট পর্যন্ত আছে। হারমান মেইনার এ সিক্সে কোনো সীট নেই। এটাতে ওয়ান থেকে ভর্তি করা হয়। মাঝে মাঝে সিক্সে ৪/৫ টা সীট খালি হয়। এবার খালি হয়নি। এখন আমাদের সিদ্ধান্ত হলিক্রস, শহীদ লেফটেন্যান্ট আনোয়ার বীর উত্তম স্কুল এন্ড কলেজ। এটা নৌ বাহিনীর স্কুল। বেশ ভালো। মিরপুর ক্যাম্পাস আছে। আর আছে মনিপুর স্কুল । এই তিনটাই আমাদের চয়েস। বাসার লোকেশন অনুযায়ী। ভিকারুননিসা ভালো স্কুল হলেও এর পরিবেশ ভালো না বলে জেমিমার মা জানালো। আমিসহ জেমিমার মা কনফিডেন্ট আমাদের মেয়ে তিনটাতেই টিকবে। এই বয়সেই জেমিমা ইংরেজিতে বেশ ভালো। প্রথম ছয় বছর আমি জেমিমার সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলাম। দেড় বছর বয়স থেকেই আমি ওকে ইংরেজি শেখাতাম। আমি জেমিমাকে একটু আগে ফোনে বলে দিয়েছি, তোমাকে ঢাকা ভার্সিটিতেই পড়তে হবে। সেভাবে এখন থেকে প্রস্তুতি নাও। তোমার আব্বু ঢাবির ছাত্র। কোনো প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে তোমাকে পড়তে দেয়া হবে না। ওইসব ভার্সিটির বেশির...

হাই

হাই ইউরোপীয়দের মতো আমেরিকানরা ফর্মাল নয়,বাসে ট্রেনে খুব কাছাকাছি কেউ বসলে নিজে থেকে কথা বলতে শুরু করে । ওদের সামাজিকতার আরেকটা সুন্দর দিক আছে । পথে ঘাটে যে কো নো লোকের সঙ্গে চোখাচোখি হলেই কেউ মুখ ফিরিয়ে নেয় না, সেটা অভদ্রতা, বরং হাসি মুখে বলে, হাই ! অর্থাৎ এই যে ! আমি প্রথম প্রথম হকচকিয়ে যেতাম । কয়েকদিন পরেই আমার এটা বেশ ভালোই লাগতো । সকালে কাজে যাওয়ার সময় যতোজনের সঙ্গে চোখাচোখি হতো ততোবারই 'হাই' বলা হতো । একটু পর পরই 'হাই' 'হাই' । আর ছিলো 'গুড মর্নিং' । সকালে শত শতবার 'গুড মর্নিং' বলতে হতো । ওরাও ওটাকে সংক্ষেপ করে শুধু 'মর্নিং' বলতো । ফেসবুকে এসে দেখি, চিনি না,জানি না,ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা অনেকেই ইনবক্সে Hi লিখে । আমি একটা উত্তরই কপি করে ওই 'হাই'ওয়ালা, 'হাই'ওয়ালিদের বলি, আমার সঙ্গে হাইগিরি করবা না । জীবনে কোটি কোটি বার হাই বলেছি । কোনো কথা থাকলে বলো। খবরদার, Hi বলে আর কোনো ম্যাসেজ দিবা না ।   November 28, 2016 ·

সুইজারল্যান্ড

  সুইজারল্যান্ড আমাদের দেশে তরুণ তরুণীদের মাঝে একটা ভুল ধারণা আছে যে, সুইজারল্যান্ড পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দেশ । অনেক বড়রাও তাই মনে করে । এই কথা তারা কোথায় পেয়েছে তা আজো বুঝতে প ারি নি । অনেকে আমাকে এই প্রশ্নটি করেছেও । উত্তরে বলেছি, একেকটা দেশ একেক রকম সুন্দর । কেউ কারো মতো নয় । প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব সৌন্দর্য আছে । অস্টৃয়ার প্রতিবেশি বেশ কয়েকটি দেশ । জার্মানি,সুইজারল্যান্ড,ইটালি,চেক রিপাবলিক,স্লোভাকিয়া,হাঙ্গেরি, স্লোভেনিয়া, লিখতেনস্টাইন( Liechtenstein) নামে আরেকটি ছোট দেশ আছে অস্টৃয়ার প্রতিবেশি । যার নাম অনেকেই জানেন না । রাজতন্ত্রে শাসিত লিখতেনস্টাইন । রাজধানী ভাদুজ (Vaduz) । ৬২ বর্গমাইল আয়তনের এই দেশটির লোকসংখ্যা ৩৭ হাজার । অস্টৃয়ার চারপাশে এই আটটি দেশ । ইচ্ছা করলেই ঘুরে আসা যায় । আমি প্রতিবেশি ছয়টি দেশেই গিয়েছিলাম । তরুণ বয়সের উচ্ছলতা । অনেকেই জানতে চান এতো টাকা আমি কি করেছি ? জাপান, ইউরোপ, আমেরিকায় ১৮ বছর কাটিয়েছি । যারা আমাকে অপছন্দ করে তারা পেছনে বদনাম করে । আজে বাজে কথা বলে । টাকা রোজগার করে জমানোই কি মানুষের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ? জমিয়ে রাখার চেয়ে খরচ ক...

শীত: দেশে দেশে

শীত: দেশে দেশে করিম চৌধুরী লেডিস এন্ড জেন্টলম্যান, ইউর অ্যাটেনশন প্লিজ। উই আর এপ্রোচিং টু নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, টোকিও। টুয়েনটি মিনিটস টু ল্যান্ডিং। প্লিজ ডু নট স্মোক। প্যাসেঞ্জারস আর রিকোয়েষ্টেড টু ফ্যাসেন (Fasten) দেয়ার সিট বেল্ট । লোকাল টাইম ইন টোকিও ইজ টুয়েলভ টুয়েনটি এন্ড টেমপারেচার ইজ মাইনাস থৃ ডিগ্রি সেলসিয়াস । থ্যাংক ইউ । ভদ্র মহিলা ও ভদ্র মহোদয়গন, আপনাদের মনোযোগ আর্কষণ করছি । আমরা টোকিওর নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের দিকে অভিগমন করছি । বিশ মিনিটের মধ্যেই আমরা অবতরণ করবো । দয়া করে ধূমপান করবেন না । যাত্রীদরে সিট বেল্ট বেঁধে নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে । এখন টোকিওর স্থানীয় সময় দুপুর ১২ টা ২০ মিনিট এবং বাইরের তাপমাত্রা মাইনাস ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস । ধন্যবাদ । ইজিপ্ট এয়ারের টোকিও বাউন্ড এম এস ৬০৩ ফ্লাইটে ঘোষণা এলো । যাত্রীরা নড়েচড়ে বসলো । সিট বেল্ট বাধার খুট খাট আওয়াজ শুরু হলো । কেবিন ক্রুদের ব্যস্ততা বেড়ে গেলো । যাত্রীদের গান শোনার জন্য দেয়া হেডফোন কালেকশান এবং যারা সিট বেল্ট বাঁধেনি তাদের তাদের সিট বেল্ট বাঁধতে সাহায্য করলো এবং মাথার...