সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

বিয়ানী

বিয়ানী ---------- গতকাল আমাদের দেশের কিছু নাম নিয়ে অল্প কিছু লিখেছিলাম । এতে অনেকেই রাগ করেছেন । আমি কি বুঝাতে চেয়েছিলাম তা অনেকে বুঝতেই পারেন নি । দেশপ্রেমের সঙ্গে যে নামের কোনো সম্পর্ক নেই এটা বুঝার মেধা আল্লাহ তাদের দেননি । নাম নিয়ে মানুষ কতো রকমের বিভ্রান্তিতে পড়ে তা জানতে কাইন্ডলি এই নোটটা পড়ে নেবেন । জীবন চলার পথে আমি যা শিখেছি তাই লিখি । এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সার্টিফিকেট ও মার্কশীটে রোল নাম্বার কিভাবে লিখে তা সকলের জানা আছে । পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর নাম খেয়াল করবেন । যেমন কেন্দ্রের নাম যদি হয় কুমিল্লা সদর তবে লেখা হয় কেন্দ্র-কুম । নং .........। কেন্দ্রের নাম যদি হয় বুড়িচং তবে লেখা হয় কেন্দ্র-বুড়ি । নং.........। তেমনি ছাগলনাইয়া হলে লেখা হয় কেন্দ্র-ছাগল । নং.........। বিয়ানী বাজার হলে লেখা হয় কেন্দ্র- বিয়ানী । নং......... । ছাত্র জীবনে কিছু সময় কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে চাকরি করেছিলাম । আমরাও পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর সংক্ষিপ্ত নামই বলতাম । যেমনঃ কুম, বুড়ি, ছাগল, বিয়ানী । আগে আমাদের সময় সংশ্লিস্ট বিষয়ের শিক্ষকরা খাতা দেখার পর তা শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতেন । তারপর পরীক্ষার্থীর ওই খাতার নাম্বা...

টাকা,নারী ও দুর্নীতি

টাকা,নারী ও দুর্নীতি ------------------ রহিম রংপুরের । আমার সঙ্গে তার পরিচয় নিউ ইয়র্কে । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এমএ করেছিলো । আমরা মাঝে মাঝে সময় কাটাতাম এক সঙ্গে । এক বিকেলে আমরা জাতিসংঘ সদর দপ্তরের লাগোয়া ইস্ট রিভারের (পূর্ব নদী) সিঁড়িতে বসে গল্প করছিলাম । অনেকগুলো ছোট বিমান নদীতে । পানি থেকে উড়ে যায় । নিউ ইয়র্কের এরিয়াল ভিউ(Aerial View) দেখে আবার পানিতে এসেই ল্যান্ড করে । ধনী দেশের নাগরিকদের তো আর আনন্দের সীমা নেই । যেভাবে খুশি সময় কাটায় । আমি দে ... শে ফিরে আসবো বলায়, রহিম বললো,কি করতে যাবেন ? কি আছে বাংলাদেশে ? আমিতো মরবোও আমেরিকায় । রহিম বিবাহিত ছিলো । স্ত্রী,সন্তান দেশে । আমি জানতে চাইলাম, স্ত্রীর জন্য খারাপ লাগে না ? রহিম বললো, না । মোটেও না । এখন স্ত্রীও খুব ভালোবাসে । অনেক কদর করে । আমেরিকা থেকে ডলার যায় তো । টাকা থাকলে বউও বেশি ভালোবাসে । আপনিতো বিয়ে করেননি তাই টের পান না । আমি রহিমের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, টাকা থাকলেই কি মেয়েরা ভালোবাসে ? রহিম বলেছিলো, আলবৎ । আপনি দেখি এ ব্যাপারে এখনো শিশু । আমি বললাম , কই নাতো । আমাকে তো অনেক মেয়েরাই ভালোবাসে। রহ...

নাম যন্ত্রণা

নাম যন্ত্রণা ------------ যারা বিদেশে থাকেন তাদের অনেকেই নিজের নাম নিয়ে যন্ত্রণায় ভোগেন । মধ্যপ্রাচ্যের কথা বলতে পারবো না । ইউরোপ-আমেরিকায় যারা থাকেন বা ছিলেন তারা এ বিষয়ে ভালো জানেন । অবশ্য আমাদের দেশের মানুষের নামও খুব বিচিত্র । ছেলেদের নামের মধ্যে কালা মিয়া, লাল মিয়া, সোনা মিয়া,সুন্দর আলী এসব কমন নাম । মেয়েদের নামের মধ্যে পরিষ্কার খাতুন, কলমজান বেগম, কইতরি আক্তার এসব নাম গ্রামে এখনো বেশ জনপ্রিয় । পৃথিবীতে আমরাই একমাত্র জাতি, যে জাতি নামকে বিকৃত করে বলে । কালামকে কালাইম্মা, কামালকে কামাইল্লা, জামালকে জামাইল্লা, করিমকে করিম্মা, শফিককে শফিক্কা, বাবুকে বাউব্বা । মিতুকে মিত্তা, রোজিকে রইজ্জা,জলিকে জইল্লা, লিপিকে লিপ্পা, শানুকে শাউন্না, নাজমাকে নাউজ্জা এসব খুব শোনা যায় । আমি প্রথম নাম নিয়ে যন্ত্রণায় পরেছিলাম জাপানে । ওরা আমাদের নাম ঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারে না । আগে থেকে যারা জাপানে ছিলেন তারা বুদ্ধি দিলেন- নাম বদলে একটা ইংরেজি নাম রাখতে । তখন সবেমাত্র নাকে টিপ দিয়ে বিয়ার খাওয়া শিখেছি । বিয়ারের গন্ধ প্রথম প্রথম খারাপ লাগতো । আমাদের সিনিয়ার ভাই বাকের, খুব ফানি ক্যারেক্টার । বাসা ঝাউতলা ...

ভারত চীন দ্বন্দ্ব

ভারত চীন দ্বন্দ্ব ----------------------- আমার প্রিয় স্যার, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও লেখক ড. Tareque Shamsur Rehman আমাকে বরাবরই স্নেহ করেন, ভালোবাসেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে আমার আগ্রহের কথা জানেন। আমি নিজেও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র ছিলাম ঢাবিতে। । স্যার,আগেও আমাকে দুটো বই পাঠিয়েছিলেন। গতকাল কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সার্ভিস থেকে আমাকে ফোন করেছিলো। এখন গিয়ে দেখি, স্যার তাঁর সদ্য প্রকাশিত বই ( বইমেলা ২০২০) 'ভারত চীন দ্বন্দ্ব' ... বইটি পাঠিয়েছেন আমার জন্য। আমি খুবই আশ্চর্য হয়েছি যে, স্যার বইয়ের ফরোয়ার্ডিং এর শেষ লাইনে আমার নাম লিখে আমাকে ভালোবাসা জানিয়েছেন। আমার ভাঙা ঘরে চাঁদের আলো। স্যারকে জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা । Thank you Sir. © করিম চৌধুরী ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ কুমিল্লা।

রানু

রানু ১৯৯৭ সাল । নিউ ইয়র্কে একটা অপ্রত্যাশিত চিঠি পেয়েছিলাম । আমি থাকতাম নিউ ইয়র্ক সিটিতে যাকে স্থানীয় ভাষায় ম্যানহাটন বলে । এয়ারমেইল খামের বাঁ দিকে প্রেরকের নাম লেখা; রানু চন্দ্রঘোনা । আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম । আমার চোদ্দগোষ্ঠীর কেউ কোনোকালেই চন্দ্রঘোনা ছিলো না । নিজের আত্নীয় হোক আর অপরিচিত কেউ হোক, কারো চিঠি পেলে আমি সঙ্গে সঙ্গে চিঠি খোলতাম না । আমেরিকায় আমাদের অন্যতম একটা কাজ ছিলো, প্রতিদিন কাজ শেষে বাসায় ফিরে রুমে ঢুকার আগেই লেটার বক্স খোলা । ওই দেশের বিভিন্ন কোম্পানি থেকে চিঠি আসে । ক্রেডিট কার্ডের বিল আসে । নিউজ উইক, টাইম ম্যাগাজিন এর আমি সাবস্ক্রাইবার । সে সব ম্যাগাজিনও আসে । আর বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপনে ভর্তি থাকে লেটার বক্স। লেটার বক্স থেকে চিঠি নিয়ে আগে ১০/১৫ মিনিট ভাবতাম । কি হতে পারে চিঠির ভেতরের বিষয় বস্তু । আমি খুব চিন্তায় পরে গিয়েছিলাম ওই চিঠি পেয়ে । কে এই রানু ? আমার আত্নীয়স্বজনের মাঝেও এই নামে কেউ নেই । এনি ওয়ে, ওই চিঠি খোলে পড়লাম । একটা মেয়ে লিখেছে সেই চিঠি । তার চিঠির প্রথম লাইনটি আজো মনে আছে । “প্রিয় করিম, Friendship is much more tragic than love because it l...

তোমার কাছে শুধু একটি রাত চাই

তোমার কাছে শুধু একটি রাত চাই রুমানিয়ায় বেড়াতে গিয়েছিলাম ১৯৯১ সালে । ১৯৮৯/৯০ সালে সমাজতন্ত্র ভেঙে যায়। অস্টৃয়া থেকে হাঙ্গেরি হয়ে রুমানিয়া । হাঙ্গেরি এবং রুমানিয়া দু দেশে যেতেই আমাদের ভিসা লাগে । এক রুমানিয়ান বান্ধবী সেয়া আমার সঙ্গে ম্যাকডোনাল্ডস এ কাজ করতো । ওরা ইংরেজি জানেনা বললেই চলে । শুধু রুমানিয়ান নয় । হাঙ্গেরি, চেক রিপাবলিক, স্লোভাকিয়া, পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, যুগোস্লাভিয়াসহ পূর্ব ইউরোপের তথা ইস্টার্ন ব্লক বা সাবেক সমাজতান্রিক দেশগুলোর লোকেরা একেবারেই ইংরেজি জানে না । ছাত্র জীবনে সমাজতান্ত্রিক আদর্শ ভালো লাগতো বলে লেনিন রচনাবলী, মাও সে তুং রচনাবলী , ফ্রেডারিখ এঙ্গেলস,কার্ল মার্ক্সের ‘দি ক্যাপিটাল’সহ রাহুল সাংকৃত্যায়নের অনেক বই পড়েছিলাম । এখনো আগ্রহ আছে । তাই সুযোগ পেয়ে সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো দেখার সুযোগ হাত ছাড়া করতে চাইনি । সেয়া আমাকে নিয়ে ভিয়েনাস্থ রুমানিয়ান দূতাবাসে গেলে সহজেই ভিসা পেয়ে যাই । আগেই আমার ধারণা ছিলো সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ । এর আগে আমি চেকোস্লোভাকিয়া, যুগোস্লাভিয়া ও হাঙ্গেরি ঘুরে এসেছি । যে টাকা বেতন পেতাম ঘুরাঘুরি করেই তা খরচ করে ফ...

ফাদার্স ডে-র ইতিহাস

ফাদার্স ডে-র ইতিহাস করিম চৌধুরী ( 'বাবা' নিয়ে যায়যায়দিন-এর বিশেষ সংখ্যায় এই লেখাটি লিখেছিলাম ১৯৯৭ সালে নিউ ইয়র্ক থেকে । যা ওই সংখ্যার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন লেখা বিবেচনা করে এডিটোরিয়াল বোর্ড লেখাটি কভার স্টোরি হিসেবে ছেপেছিলেন। ফেসবুকে মানুষ এগুলো পড়ে না। ) আমেরিকায় বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান পালন করা হয়। আমেরিকার মানুষদের কিছু কাজ দেখে আমরা অবাক না হয়ে পারি না । তাদের এই অবাক করে দেয়া কাজকর্ম দেখে আমরা প্রাচ্যের মানুষরা ভাবি ওরা বোধ হয় কিছুটা পাগল। ব্রেনের নাটবল্টু দুই একটা হয়তো নেই। তাদের এসব পাগলামির কিছু অংশ এবার নতুন বছরে দেশের অনেকেই দেখেছেন। সংবাদপত্রের পাঠক মাত্রই লক্ষ্য করেছেন, ইংরেজি নববর্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মি. ডেভিড এন. মেরিল তার স্ত্রীকে যাত্রী বানিয়ে নিজে রিকশাচালক সেজে ফটো তুলেছেন। আর সেই কার্ডে ‘রিকশাওয়ালা মেরিল’ নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদেরকে। রাজধানী ঢাকায় কয়েক ডজন বিদেশী রাষ্ট্রদূত থাকলেও পাগলামিটি করতে পেরেছেন শুধু আমেরিকান রাষ্ট্রদূত। তাদের এসব কান্ডকারখানা দেখে অনেকে কৌতুক করে বলেন, ওরা আসলে ফাজিল। শিক্ষিত ও আধুনিক মানুষর...