সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

চে গুয়েভারা

 চে গুয়েভারা ------------------ চিকিৎসক থেকে বলিভিয়ার আপোষহীন সংগ্রামী হয়ে ওঠা চে গুয়েভারাকে পা*শবিক হ*ত্যা করার কাহিনী যতটা নৃশংস,ঠিক ততটাই বিপ্লবীর নিজের জীবন সংগ্রামের মতোই দৃষ্টান্তকারী। সেই ৯ অক্টোবর দুপুরের কিছুটা সময় আগে চে গুয়েভারা এবং তাঁর সঙ্গীদের আটক করার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরে বলিভিয়ার সেই গ্রাম লা হিগুয়েরার ছোট স্কুল ঘরে সার্জেন্ট মারিও টেরেন ঢোকেন সরকারের নির্দেশ পালন করতে। ঘরে ঢুকে তিনি দেখতে পান,উনি দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে আছেন,অপেক্ষা করছেন। সৈনিকের ঘরে ঢোকার উদ্দেশ্য চে গুয়েভারা বুঝতে পারেন। তিনি শান্তভাবে তাঁকে উঠে দাঁড়ানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। সার্জেন্ট টেরেন ভীত হয়ে কাঁপতে থাকেন,দৌঁড়ে ঘর থেকে পালিয়ে যান ...... কিন্তু টেরেনকে ঘরে ফিরে গিয়ে আর বিলম্ব না করে চে-কে গুলি করে হত্যা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়,সৈনিকটি তখনো কাঁপছেন। স্কুল ঘরে ফিরে গিয়ে চে-র দিকে না তাঁকিয়ে তাঁর রাইফেল থেকে পরপর নয়টি গু*লি করেন চে গুয়েভারার বুকে এবং বুকের পাশে,যা তাঁর দেহ ভেদ করে দেয়ালে বড়-বড় গর্ত তৈরি করে ফেলে। তারপর তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ ভ্যালেগ্রান্দেতে নিয়ে যাওয়া হয় হেলিকপ্টারে। সেখান...

পূর্ব-পশ্চিম

 পূর্ব-পশ্চিম --------------- "বিশাল ক্যানভাসে রচিত এই উপন্যাসের ঘটনা প্রবাহ একই সঙ্গে ছুঁয়ে আছে এপার এবং ওপার বাংলা। শুরু সেই পঞ্চাশের মধ্যভাগে। দুই বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রের পালাবদলের স্রোত কিভাবে এসে মিশেছে আশির দশকের মোহনায়, এই উপন্যাস তার এক জীবন্ত দলিল। এক দিকে জওহরলাল নেহেরুর মৃত্যু, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ, লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর অকাল প্রয়াণ, ইন্দিরা গান্ধীর অভ্যুত্থান, অর্থনৈতিক ক্রমাবনতি, তরুণ সমাজের মধ্যে  জেগে ওঠা বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা-উন্মাদনা, উগ্রপন্থী রাজনীতি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ; অন্যদিকে ভাষা আন্দোলনের অব্যবহিত পরবর্তী সময় গনতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে যুব সমাজের হতাশা, শেখ মুজিবের হত্যা-এ সমস্ত কিছুকে ছুঁয়ে প্রবাহিত 'পূর্ব- পশ্চিম' এর ঘটনাস্রোত। দুই বাংলার দুই পরিবারকে কেন্দ্র করে রচিত এই উপন্যাসে বিশেষ কোনো চরিত্রকে মূল চরিত্র বলা যাবে না। একইসঙ্গে অনেকগুলো প্রধান চরিত্র। এইসব চরিত্রের কেউ কেউ আবার পূর্ব বা পশ্চিম বাংলার গণ্ডিতেই আবর্তিত নয়, ইউরোপ-আমেরিকাতেও গেছে। ফলে কলকাতার কফি হাউজের পাশাপাশি কখনো পূর্ব...

ফাদার্স ডে-র ইতিহাস

ফাদার্স ডে-র ইতিহাস  করিম চৌধুরী (আজ বাবা দিবস। তাই পুরনো লেখা আবার।) আমেরিকায় বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান পালন করা হয়। আমেরিকার মানুষদের কিছু কাজ দেখে আমরা অবাক না হয়ে পারি না। তাদের এই অবাক করে দেয়া কাজকর্ম দেখে আমরা প্রাচ্যের মানুষরা ভাবি ওরা বোধ হয় কিছুটা পাগল। ব্রেনের নাটবল্টু দুই একটা হয়তো নেই। তাদের এসব পাগলামির কিছু অংশ এবার নতুন বছরে দেশের অনেকেই দেখেছেন। সংবাদপত্রের পাঠক মাত্রই লক্ষ্য করেছেন, ইংরেজি নববর্ষে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত মি. ডেভিড এন. মেরিল তার স্ত্রীকে যাত্রী বানিয়ে নিজে রিকশাচালক সেজে ফটো তুলেছেন। আর সেই কার্ডে ‘রিকশাওয়ালা মেরিল’ নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদেরকে। রাজধানী ঢাকায় কয়েক ডজন বিদেশী রাষ্ট্রদূত থাকলেও পাগলামিটি করতে পেরেছেন শুধু আমেরিকান রাষ্ট্রদূত। তাদের এসব কান্ডকারখানা দেখে অনেকে কৌতুক করে বলেন, ওরা আসলে ফাজিল। শিক্ষিত ও আধুনিক মানুষরা অবশ্য মনে করেন আমেরিকানদের যে চমৎকার সেন্স অফ হিউমার তা দেখেই আমরা নানান যন্ত্রণার পূর্বদেশীয় মানুষরা ভাবি এসবই তাদের পাগলামি কিংবা ফাজলামি। আমাদের দেশে অনেক কিছুর অভাব থাকলেও অন্তত যন্ত্রণার অভাব নে...

বাল

 "বাল" এক অনন্য শব্দ ------------------------------ . বাল শুধু একটা শব্দ না। . বাল হচ্ছে কোটি কোটি মানুষের প্রতিবাদের অস্ত্র। "তুমি আমার বাল করতে পারবা।" . বাল হচ্ছে কোটি কোটি মানুষের হতাশার প্রতিচ্ছবি। "বালের এক জীবন পাইছি।" . বাল হচ্ছে তাচ্ছিল্যের বহিঃপ্রকাশ। "হাহ, আসছে আমার বাল।" . বাল হচ্ছে ধন্যবাদের মাধুর্যতা। "বিড়ি আনছোস?যাক বাল, জীবনটা বাঁচাইলি।" . বাল হচ্ছে প্রেরণার মন্ত্র। "কিচ্ছু হবে না বাল। প্রপোজ কইরা দে।" . বাল হচ্ছে জেলাসি। "বালডা এতো নাম্বার পায় ক্যামনে?" . বাল হচ্ছে নস্টালজিয়ার মশলা। "বাল, কি দিন ছিলো স্কুল লাইফে"। . বাল হচ্ছে টান টান উত্তেজনা। "মাইয়াটারে দেখ।পুরাই মাথা নষ্ট বাল।" . বাল হচ্ছে বন্ধুর ভালোবাসা। "বাল তুমি ফোন ধরোনা ক্যান? কই মুখ ঢুকাইছো"। . তাছাড়া বালের ফ্যান, বালের লাইট, বালের ফোন, বালের চার্জার, বালের খেলা, বালের খাওয়া, বালের দিন, বালের রাত, বালের কারেন্ট, বালের ফল, বালের টিভি, বালের ল্যাপটপ, বালের নেট, বালের সিম, বালের ওয়াইফাই, বালের কলম, বালের জুত...

রানু

 রানু ------ ১৯৯৬ সাল। নিউ ইয়র্কে একটা অপ্রত্যাশিত চিঠি পেয়েছিলাম। আমি থাকতাম নিউ ইয়র্ক মূল সিটিতে। থার্ড এভিনিউতে। জাতিসংঘ সদর দফতর আর বেলভিউ হসপিটালের মাঝামাঝি। যাকে স্থানীয় ভাষায় ম্যানহাটন(Manhattan)বলে। আমার ঠিকানা ছিলো... Karim Chowdhury  444 3rd Avenue  Apt# 09 NY 10016 USA এয়ারমেইল খামের বাঁ দিকে প্রেরকের নাম লেখা; রানু  চন্দ্রঘোনা  বাংলাদেশ  আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম। কেননা আমার চোদ্দগোষ্ঠীর কেউ কোনো কালেই চন্দ্রঘোনা ছিলো না। নিজের আত্নীয় হোক আর অপরিচিত কেউ হোক, কারো চিঠি পেলে আমি সঙ্গে সঙ্গে চিঠি খুলতাম না। আমেরিকায় আমাদের অন্যতম একটা কাজ ছিলো, প্রতিদিন কাজ শেষে বাসায় ফিরে রুমে ঢুকার আগেই লেটার বক্স খোলা। ওই দেশের বিভিন্ন কোম্পানি থেকে চিঠি আসে। ক্রেডিট কার্ডের বিল আসে। আমি আবার টাইম, নিউজউইক- এর গ্রাহক। তাই ম্যাগাজিন আসে। লেটার বক্স থেকে চিঠি নিয়ে আগে ১০/১৫ মিনিট ভাবতাম। কি হতে পারে চিঠির ভেতরের বিষয় বস্তু। ইউরোপ, আমেরিকায় যারা থাকেন তাদের বেশিরভাগ চিঠিতেই টাকা পাঠানোর কথা থাকে। আমি আবার ব্যাচেলর। খুব চিন্তায় পরে গিয়েছিলাম ওই চিঠি পেয়ে। কে এই রানু? এ...

প্রেমের চিঠি

 প্রেমের চিঠি ------------------ তখন ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়তাম। বয়সটাই উচ্ছ্বলতার। আমি সাইন্সে আর বন্ধু তাহের আর্টসে। আমি তাকে রাগাতাম, বলতাম- তোর ভেতর মানবিকতা নেই বলে তুই মানবিক বিভাগে পড়িস। তাহের ইকোনমিক্স প্রাইভেট পড়তো বাগিচাগাঁও রফিক স্যারের কাছে। স্যার এখনো আছেন। এই প্রাইভেট পড়তে গিয়ে চান্দু এক মেয়ের প্রেমে পড়ে যায়। এক বিকেলে কান্দিরপাড় (শহরের মূল কেন্দ্র) ডায়ানা রেস্টুরেন্টে চা খাওয়ার আড্ডায় তাহের অনুরোধ করলো, আমি যেনো সুন্দর করে একটা প্রেমপত্র লিখে দিই। আমি আগেই ছ্যাঁকা খেয়ে শোকাভিভূত।  শর্ত দিলাম, মাতৃ ভান্ডারে রসমালাই খাওয়াতে হবে। তাহের এক পায়ে খাড়া। আমি সুন্দর প্রেমের চিঠি লিখতে পারতাম বলে ফ্রেন্ড সার্কেলে সুনাম ছিলো। পর দিন মনের মাধুরি মিশিয়ে দুই পৃষ্ঠার এক প্রেমপত্র লিখলাম। জাহাঙ্গীর, হিরো, মিন্টু, খোকন, বাদল, ইকবাল, মুন্না, তাহের সবার সামনে চিঠি পড়লাম। সবাই রায় দিলো, এই চিঠি মেয়ে পেলে প্রেম হবেই। নিশ্চিত। মাতৃ ভান্ডারে রসমালাই খাওয়ার ধুম পরে গেলো। বিল দিলো তাহের। আমার চিঠি লেখার পারিশ্রমিক। দুই দিন পর তাহের আমার বাসায় গেলো সকাল ৯টায়। তাহের ঝাউতলা আর আমি কান্দিরপ...

ক্রোয়েশিয়া

 ক্রোয়েশিয়া ----------------- ৩২ বছর আগে ক্রোয়েশিয়া নামে কোনো দেশ পৃথিবীতে ছিলো না। ইউরোপের যে দেশটিতে আমি প্রথম গিয়েছিলাম সেই দেশটি পৃথিবী থেকে বিলিন হয়ে গেছে। নতুন প্রজন্ম সে দেশের নামই জানে না। দেশটির নাম ছিলো যুগোস্লাভিয়া। যুগোস্লাভিয়ার ইংরেজি বানান Yugoslavia. রাজধানী ছিলো বেলগ্রেড ( Belgrade)। বেলগ্রেডকে সার্বিয়ান  ভাষায় বিওগ্রাড (Beograd) বলা হতো। সার্ভিয়ানরা এখনো তাদের ভাষায় বিওগ্রাড বলে। বেলগ্রেড এয়ারপোর্ট নেমে মনে এক নতুন শিহরন অনুভব করলাম যে,আমি ইউরোপ মহাদেশে আছি এখন।  মার্শাল জোসেফ ব্রুজ টিটোর দেশ হিসেবে যুগোস্লাভিয়ার খুব পরিচয় ছিলো। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনে নেতৃত্ব  ছিলো যুগোস্লাভ প্রেসিডেন্ট মার্শাল টিটোর আমলে। ১৫ দিন যুগোস্লাভিয়া চষে বেড়িয়েছিলাম। বলতে গেলে যুগোস্লাভিয়া পুরোটাই ঘুরে বেড়িয়েছি। পরে আমি অস্টৃয়া চলে যাই।  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সালে যুগোশ্লাভিয়া গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের অস্থায়ী সরকার স্থাপন করে। সোভিয়েট ইউনিয়ন আর যুগোশ্লাভিয়ার যৌথ বাহিনী জার্মান অকুপেশন থেকে  সারা দেশকে মুক্ত করে। পরে নব্বইয়ের দশকে আমার চোখের সামনে যুগোস...