কোথাও যেতে ইচ্ছা করে না
*********************
বেশিরভাগ সময় বাসায়ই থাকি। বের হলে মেডিসিন কমপ্লেক্সে শাহ জালাল ফার্মেসির সামনে বসি। এটা কুমিল্লা জেলার সবচেয়ে বড় হোল সেল মেডিসিন মার্কেট। প্রায় ৫০০ দোকান আছে। সবই হোল সেল। ৬ তলা ভবন। ৪ টা লিফট। প্রতি তলায় ওয়াশ রুম ও অজু করার জায়গা। ৫ তলায় মসজিদ। বেইসমেন্টে পার্কিং। ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ। নিজস্ব জেনারেটর। অত্যাধুনিক মার্কেট বলাই বাহুল্য। আমার বাসা থেকে ৫ মিনিটের দুরত্ব। ঢাকা-কুমিল্লা সড়কের পাশেই। এর উল্টো দিকে কোকাকোলা প্ল্যান্ট।
কখনো সেনানিবাস মার্কেটে যাই। কোনো দিন রেলওয়ে স্টেশনে হাঁটতে যাই। প্রসস্থ প্লাটফর্ম। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন।
কখনো কান্দিরপাড় যাই। কখনো ধর্মসাগর পাড় যাই। মাঝেমধ্যে রেইস কোর্স, ঝাউতলা যাই। এর মাঝেই জীবন সীমাবদ্ধ।
কিছুদিন আগে একজন বললেন, কক্সবাজার বা রাঙামাটি ঘুরে আসেন। পত্রিকায় লেখালেখির কারনে আমার কিছু বন্ধু আছেন বিভিন্ন জেলায়। তারাও বলেছে, সময় পেলে বেড়াতে যেতে।
যিনি আমাকে বলেছেন কক্সবাজার, রাঙামাটি ঘুরে আসতে, তাকে বললাম, আমার কোথাও যেতে ইচ্ছা করে না। নতুন কিছু দেখতেও ইচ্ছা করে না। জীবনে অনেক দেখেছি।
জাপান, ফিলিপিন্স, হংকং, চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, লাওস, থাইল্যান্ড, ইন্ডিয়া, অস্ট্রিয়া, স্লোভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া, চেক রিপাবলিক,
স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, আমেরিকা।
ভিসা নিয়েও যাওয়া হয়নি নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া, ইউকে, পাকিস্তান, নেপাল, তুরস্ক।
আর কত দেখবো?
কক্সবাজার গিয়ে দেখেছি বঙ্গোপসাগরের পানি ময়লা। জাপানের কানাগাওয়া বীচে গিয়েছিলাম ৪০ বছর আগে। এখানে প্রশান্ত মহাসাগর।
প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর, মেক্সিকো উপসাগর এসবের পানি স্বচ্ছ নীল। সাঁতার কেটেছি, গোসল করেছি, স্পিডবোট চালিয়েছি। ড্যানিউব নদীতে ৬ বছর প্রতি রোববার সাঁতার কেটেছি।
নিউইয়র্কের কোনি আইল্যান্ড বীচে গিয়েছি। কোনি আইল্যান্ড বিচ (Coney Island Beach, Brooklyn) নিউইয়র্কের সবচেয়ে বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী বিচ। যেখানে অ্যামিউজমেন্ট পার্ক বা ফানফেয়ার রয়েছে। এখানে আটলান্টিক মহাসাগর।
ফ্লোরিডার বিশ্ববিখ্যাত মায়ামি বীচে গিয়েছি। এখানেও আটলান্টিক মহাসাগর। ওয়েস্ট পাম বীচ গিয়েছি। এখানেও আটলান্টিক মহাসাগর। স্যারাসোটা বীচে গিয়েছি। এখানেও আটলান্টিক মহাসাগর। কী ওয়েস্ট দ্বীপে গিয়েছি। যেখানে আমেরিকান লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ের বাড়ি। ওখান থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের বিশালত্ব দেখা যায়। শেষমেশ ছিলামই ফোর্ট মায়ার্স বীচে। বাসা থেকে ১০ মিনিটের ড্রাইভ। এখানে মেক্সিকো উপসাগর। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উপসাগর। আমাদের বঙ্গোপসাগরও উপসাগর।
কক্সবাজার রাঙ্গামাটি গিয়ে আমি কি দেখবো?
আমার কিছু বন্ধু আছে দিনাজপুর, সৈয়দপুর, ঠাকুরগাঁও, বরিশাল, ভোলা, পঞ্চগড়, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর।
সবাই দাওয়াত দিয়েছে। কোথাও যাইনি। যেতে ইচ্ছে করে না। প্রধান কারণ বাংলাদেশে জার্নি করতে আমার ভালো লাগে না। তাছাড়া শরীরও আগের মতো ফিট না। আরামদায়ক জার্নি না হলে আমার খুব কষ্ট হয়।
কয়েকমাস আগে আরেকজন বললেন৷ চলেন ঢাকা গিয়ে মেট্রোরেল চড়ে আসি। আমি বললাম, ৪০ বছর আগে জাপানে এমন ট্রেন চড়েছি। মাটির নীচের ট্রেনও চড়েছি। কুয়ালালামপুর মনোরেল চড়েছি। সিঙ্গাপুর সিটি সার্ভিস ট্রেন চড়েছি। ইউরোপের সব দেশেই সিটি সার্ভিস ট্রেন ও সাবওয়ে ট্রেন চড়েছি। নিউইয়র্কে প্রতিদিনই সাবওয়ে ট্রেন চড়েছি। আমাদের মেট্রোরেলে এমন কি আছে যে এটাতে চড়তে হবে?
উনাকে বললাম, ভাই আমার এখন ইচ্ছা করে অজপাড়াগায়ে চলে যেতে। যেখানে মাইলের পর মাইল সবুজ ধান ক্ষেত। মাঝখানে একটি বড় বটগাছ। গাছের গোড়াটা বেশ বড় করে বাঁধানো। যেখানে শুয়ে থাকা যায়। আমার ইচ্ছা করে এমন জায়গায় শুয়ে থাকতে। এমন জায়গা পেলে আমাকে বলবেন আমি যাব।আমি কাঁথা বালিশ নিয়ে যাব। আমার মোবাইল চার্জ দিয়ে দেবেন। তিন বেলা খাবার দেবেন। টাকা আমিই দেব। ওই গাছের নিচে আমি ১৫ দিন থাকবো।
Karim Chowdhury
15 October, 2026
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন