সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ওয়াকারিমাসেন

 ওয়াকারিমাসেন

************

উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে জাপান গিয়েছিলাম স্টুডেন্ট ভিসায়। রেজাল্ট ভালো ছিলো। এসএসসি, এইচএসসি দুটোই ফার্স্ট ডিভিশন। কম বয়স। দেশে থাকতে কোন কাজকর্ম করিনি। দেশ থেকে টাকা নিয়ে জাপানে পড়াশোনা করা সম্ভব ছিল না। 

টোকিও পৌঁছে শুনলাম এখানে পার্ট টাইম কাজ করতে হবে নিজের খরচ চালানোর জন্য। পরিচিতজনদের জিজ্ঞেস করে জানলাম পার্ট টাইম কাজ কি? তারা জানালো হোটেলে কাজ করতে হবে। আমি আকাশ থেকে পড়লাম। আরে কয় কি? কান্দিরপাড় বন্ধুদের নিয়ে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে চা খেতে গেলে ওয়েটারকে ধমক দিয়ে বলতাম, এই, গরম পানি দিয়ে কাপগুলো ধুয়ে চার কাপ চা দে আর চারটা খালি কাপ দে। ছাত্র জীবনে চা ভাগাভাগি করে খেতাম।  

সেই আমি এখন টোকিওতে হোটেলে কাজ করবো?! দুই তিন দিন গভীরভাবে চিন্তা করলাম। গোপনে একটু কাঁদলামও।

কয়েকদিন পর আমার কাজ হলো 'আলহাম্বরা' নামের একটা স্প্যানিশ রেস্টুরেন্ট কাম বারে (Bar)। টোকিওর গুরুত্বপূর্ণ সিটি রেলওয়ে স্টেশন UNO নেমে দুই মিনিটে হেঁটে যাওয়া যায়। রেস্টুরেন্ট কাম বারটি ছিলো ১২ তলায়।

Alhambra Spanish Bar most commonly refers to either a renowned traditional Spanish restaurant concept or iconic establishments named after the famous medieval fortress in Spain.

কাজ হলো বার টেন্ডার। অর্থাৎ অর্ডার অনুযায়ী মদ বানিয়ে দেওয়া। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এই কাজ করতে গেলে কোর্স করতে হয়। কোন মদে কি জিনিস দিতে হবে তা জানতে হয়। আমি এসবের কিছুই জানি না। আমাকে বলা হলো তারা শিখিয়ে দেবে। 

কাজের সময় রাত দশটা থেকে ভোর চারটা পর্যন্ত। অত্যন্ত অভিজাত বার। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এর শাখা আছে। বারের কোণায় একটা বড় পিয়ানো ছিল। 

একটি জাপানি মেয়ে এই পিয়ানো বাজিয়ে গান গেয়ে কাস্টমারদের বিনোদন দিতো। 

আমি যেখানে দাঁড়াতাম তার পেছনে সারি সারি মদের বোতল। ওয়েটার অর্ডারের কাগজটা দিলে আমি তা দেখে মদ বানিয়ে দিতাম। তখনো আমি ড্রিংক করতাম না । 

মাসখানেক পর রাত দেড়টা দুইটার সময় লুকিয়ে নিজেও এক দুই চুমক খেয়ে ফেলতাম। এই সময় কাস্টমার কমে যায়। 

একদিন ম্যানেজার ডেকে আমাকে ওয়াশ রুমে নিয়ে গেল। কমোডের আশেপাশে যে পানি পড়ে থাকে দুই এক ফোঁটা এগুলো মপ (Mop) দিয়ে একটু ঘষে দিতে বললো। 

আমার বিরাট প্রেস্টিজে লাগলো। চাকরি করতে আসছি ওয়াশ রুম পরিষ্কার করবো কেন? যদিও এটা খুবই স্বাভাবিক একটা কাজ। ইউরোপ আমেরিকায় এসব করা হয়। এখনো তো আমি নিজের বাথরুম নিজেই পরিষ্কার করি। তখন তো আর এত কিছু বুঝতাম না। 

আমি ম্যানেজারকে বললাম ওয়াকারিমাসেন। অর্থাৎ তুমি কি বলেছো তা আমি বুঝতে পারিনি। ম্যানেজার আবার আমাকে বুঝিয়ে বললো। এমনকি মপ (mop) নিয়ে সে নিজেই পরিষ্কার করে দেখালো। 

এরপর আমাকে বললো, ওয়াকারিমাস্তা? অর্থাৎ বুঝেছো? 

আমি আবার বললাম, ওয়াকারিমাসেন।

এবার ম্যানেজার কিছুটা রেগে আমাকে বললো, তুমি সব কথা বোঝো। ওয়াশ রুম মপ করতে বললেই তুমি বোঝনা। কারণটা কি? 

আমি আবার বললাম ওয়াকারিমাসেন। 

এবার ম্যানেজার খুবই রাগ করে বললেন, যাও তোমার এই কাজ করতে হবে না।

Karim Chowdhury 

16 October 2026


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অশ্লীল নাম

বাংলাদেশের কিছু প্রতিষ্ঠান ও স্থানের বিচিত্র বা বিকৃত অর্থের নাম যা পরিবর্তন করা উচিতঃ ১. বোদা মহিলা মহাবিদ্যালয়, বোদা, পঞ্চগড় ২. চুমাচুমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি ৩. সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খুলনা ৪. মানুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নীলফামারি ৫. সোনাকাটা ইউনিয়ন, তালতলী, বরগুনা ৬.বড়বাল ইউনিয়ন, মিঠাপুকুর, রংপুর ৭.সোনাখাড়া ইউনিয়ন, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ৮. ধনকামড়া গ্রাম, ভোদামারা, দিনাজপুর ৯.গোয়াকাটা, দোহার, ঢাকা ১০. গোয়াতলা, ময়মনসিংহ ১১.লেংটার হাট, মতলব, চাঁদপুর

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ সরকারঃ শেখ মুজিবের শাসনামল ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের মার্চে শুরু হয়ে সেই বছরেরই ডিসেম্বরের দিকে গিয়ে শেষ হয়। এই দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল। এই দুর্ভিক্ষকে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক হিসেবে গন্য করা হয়। ওই সময় আমি বুঝতাম। ক্লাশ ফোরে পড়তাম। আহারে ! কি যে অভাব ! অনেকের মতো আমরাও ভাত না খেয়ে রুটি খেয়েছি । তাও পরিমিত । কখনো জাউ খেয়েছি । শুকনো মরিচ পাওয়া যেতো না । কাঁচা মরিচের কেজি ছিলো ১৫০ টাকা । লবন ১২০ টাকা । আর সোনার ভরি ছিলো তখন ১৫০ টাকা । সোনা শুধু ওই সময় কম দাম ছিলো । চারদিকে অভাব । সারাদেশের মানুষের হাহাকার । কতো মানুষ না খেয়ে মারা গেছেন ! বিদেশি রিলিফ সব আওয়ামী লীগের লোকেরা চুরি করেছে । আর বেশিরভাগ রিলিফ সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে পাচার হয়েছিলো । তখন বর্ডার খোলা ছিলো তখন । মহিলাদের শাড়ি কাপড় ছিলো না । অনেকে মাছ ধরার জাল পরে লজ্জাস্থান ঢেকেছিলো । এসব ছবি পত্রিকায়ও ছাপা হয়েছিলো । কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাদের কোনো অভাব ছিলো না । বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র দুই বছর তিন মাসের মাথায় ...

বোতল

বোতল মানব জীবনে বোতল অপরিহার্য । বোতল অনেক অর্থেও ব্যবহার হয় । কোনো কোনো এলাকায় আনস্মার্ট, বেয়াক্কেল প্রকৃতির লোককেও বোতল বলা হয় । ইউরোপ আমেরিকায় থাকতে আমি ডৃংক করতাম । হার্ড ডৃংক কমই খেতাম । প্রতিদিনই বিয়ার খেতাম । বিয়ার স্বাস্থ্য ভালো রাখে ও কাজ করতে এনার্জি জোগায় । পরিমিত বিয়ার খেলে কেউ মাতাল হয় না । মাঝে মাঝে বিশেষ কোনো পার্টিতে হুইস্কি খাওয়া হতো । তাও দামি ব্র্যান্ডের । জনি ওয়াকার ব্ল্যাক লেবেল, টিচার্স, পাসপোর্ট, হেনেসি, শিভাস রিগাল, জ্যাক ড্যানিয়েলস । সাকুরায়ও অনেক সময় এসব ব্র্যান্ডের হুইস্কি পাওয়া যায় না । তো দেশে আসার পরও কিছু দিন ডৃংক করেছিলাম । কুমিল্লায় সরকার অনুমোদিত একটা মদের দোকান আছে চক বাজারে । নামঃ নাদের ট্রেডিং কোং । এটা প্রায় আজ ৫০ বছর । এখানে বিদেশি ব্র্যান্ডের ডৃংক পাওয়া যায় না । দেশিয় কোম্পানি ‘কেরো এন্ড কোং’ যা দর্শনায় অবস্থিত তার তৈরি ভদকা, হুইস্কি, জিন পাওয়া যায় । আমাদের সমাজতো রক্ষনশীল । তাই কান্দিরপাড় থেকে একটা স্প্রাইট কিনে অর্ধেক খেতে খেতে চক বাজার যেতাম । নাদেরে যখন পৌঁছতাম তখন স্প্রাইটের বোতল অর্ধেক খালি হয়ে যেতো । আমি বাবুল ভাইকে স্প্...