সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মেধাবী শিক্ষিতরা কেন ধর্মের প্রতি বীতশ্রদ্ধ

 মেধাবী শিক্ষিতরা কেন ধর্মের প্রতি বীতশ্রদ্ধ 

********************************

মুসলিম পরিবারের অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষিত সন্তানরা কেন ধর্মের প্রতি বীতশ্রদ্ধ? আমার মনে হয়, এর প্রধান কারণ আমাদের মুসলিম সমাজের মাথার উপর বসে থাকা আলেম নামের ধর্মগুরুদের চরম মুর্খতা। এসব মেধাবী স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া সন্তানদের মনে যখন ইসলাম সম্পর্কে মৌলিক প্রশ্ন তৈরি হয়  তখন তারা স্থানীয় মসজিদের ইমাম, মাদরাসার শিক্ষককে প্রশ্ন করে। প্রায় শতভাগ সময়ে তারা অযৌক্তিক এবং বানোয়াট উত্তর দিয়ে থাকে। কারণ এই শ্রেণীর অধিকাংশ মৌলভীদের কুরআনের সার্বিক জ্ঞান না থাকার কারণে স্বল্প জ্ঞানের ভিত্তিতে গোজামিলের আশ্রয় নেয়। এতে করে ছাত্রের অনুসন্ধিৎসু মনে ইসলাম সম্মন্ধে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। এভাবে ইসলামের প্রতি তার আগ্রহ নষ্ট হয়। অল্প শিক্ষিত বা কম মেধাবীদের ধর্মের প্রতি আগ্রহ নষ্ট হয় না কারণ তাদের মনে গভীর প্রশ্নের উদয় হয় না। মেধাবীদের বৈশিষ্ট্য‌ই হলো- কনস্ট্রাকটিভ প্রশ্ন তৈরি হবে তাদের চিন্তায়। 

আমার নিজের একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। ২০১৪ সালে তাবলীগ জামাতে গিয়েছিলাম। টানা ৪ মাস বা ১২০ দিন তাবলীগ জামাতে ছিলাম। অর্থাৎ ৩ চিল্লা। চাঁদপুর ৪০ দিন। বাগেরহাট ৬০ দিন। মুন্সিগঞ্জ ২০ দিন।

প্রতি জামাতেই একজন করে আমীর থাকেন। বাগেরহাট জামাতে আমাদের আমীর ছিলেন একজন আলেম। রানীর বাজার আলিয়া মাদ্রাসা থেকে পাস করা। কুমিল্লা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিশাল বড় ও গুরুত্বপূর্ণ এই আলিয়া মাদ্রাসা। নাম উল্লেখ করে উনাকে ছোট করতে চাই না৷ তিনি রেইস কোর্স একটি মহিলা মাদরাসার প্রিন্সিপাল। উনার স্ত্রীও একজন আলেমা। 

বাগেরহাটের এক মসজিদে আলোচনার সময় আমীর সাহেব একজন সাহাবীর নাম উল্লেখ করে বললেন, ওই সাহাবীর কবর ইস্তাম্বুলে। খুবই অল্প শিক্ষিত একজন সাথী ভাই প্রশ্ন করলেন, আমীর সাব হুজুর ইস্তাম্বুল কোথায়? আমাদের আলেম আমীর সাহেব বললেন, দামেস্কের একটা শহরের নাম ইস্তাম্বুল। সেই সাথী ভাই আবার প্রশ্ন করলেন, দামেস্ক কোথায়? আলেম আমীর সাহেব বললেন দামেস্ক একটা আরব দেশ। আমি আকাশ থেকে পড়লাম। আলোচনার মাঝেই আমি মসজিদে আপত্তি জানিয়ে বললাম, হুজুর কোন কিছু না জানা অপরাধের নয়। কিন্তু ভুল জানা বা ভুল বলাটা অপরাধ। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। ইংরেজিতে বলে দামাসকাস। Damascus. 

আর ইস্তাম্বুল (Istanbul) হলো তুরস্কের সবচেয়ে বড় শহর এবং দেশের প্রধান অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক কেন্দ্র। এটি বিশ্বের অন্যতম একটি আকর্ষণীয় পর্যটন শহর। 

উনার জ্ঞান নিয়ে আমার মনে তখনই সন্দেহ জাগলো। 

আমাদের নবীজী খাদিজার (রা:) ব্যবসায়িক  প্রয়োজনে বহুবার দামেস্ক  গিয়েছেন। ইসলামের ইতিহাসের দামেস্কের কথা বারবার এসেছে। 

ইসলাম ধর্মের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা:)এর

ঘনিষ্ঠ আত্নীয় মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান

দামেস্কের গভর্নর ছিলেন।

মুআবিয়ার মৃত্যুর পর তার পুত্র ইয়াজিদ ৬৮০ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে খলিফা হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং দামেস্ককে কেন্দ্র করেই তিনি পুরো উমাইয়া সাম্রাজ্য শাসন করেছিলেন। 

তুরস্কও মুসলিম বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। 

একজন আলেম সাহেবের আরব দেশ সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞানের এই অভাব দেখে তার ইসলামিক জ্ঞান নিয়েও আমার মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছিলো। 

পরদিন আবার আলোচনার সময় তিনি বললেন, টেলিভিশন একটা শয়তানের বাক্স। আমি আবার আপত্তি জানিয়ে বললাম,কি সব উল্টাপাল্টা কথা বলেন আপনারা?  

এখন রাত ১১টা ৪৫ মিনিট। আমি আল জাজিরা দেখছি টেলিভিশনে। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাক্ষাৎকার শেষ হলো মাত্র। 

শয়তানের বাক্সের সামনে বসে আছি। এইসব আলেমদের কথা শুনে আমরা কি ইসলামী শিক্ষা গ্রহণ করবো? 

আজ রাত ৮ টায় কুমিল্লা মেডিসিন কমপ্লেক্সে আমার জুনিয়র বন্ধু শাহজালাল ফার্মেসির মালিক ইকবালের সাথে আমেরিকা, ইসরাইল, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে রাজতন্ত্র শাসিত আমেরিকা ও ইসরাইলের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে আমি কিছু কথা বলছিলাম। ইকবাল আমাকে পরামর্শ দিয়ে বললো, এসব লেইখেন না। সব তো মূর্খ বোঝে না। উল্টো আপনাকেই ভুল বুঝবে। 

Karim Chowdhury

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অশ্লীল নাম

বাংলাদেশের কিছু প্রতিষ্ঠান ও স্থানের বিচিত্র বা বিকৃত অর্থের নাম যা পরিবর্তন করা উচিতঃ ১. বোদা মহিলা মহাবিদ্যালয়, বোদা, পঞ্চগড় ২. চুমাচুমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি ৩. সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খুলনা ৪. মানুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নীলফামারি ৫. সোনাকাটা ইউনিয়ন, তালতলী, বরগুনা ৬.বড়বাল ইউনিয়ন, মিঠাপুকুর, রংপুর ৭.সোনাখাড়া ইউনিয়ন, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ৮. ধনকামড়া গ্রাম, ভোদামারা, দিনাজপুর ৯.গোয়াকাটা, দোহার, ঢাকা ১০. গোয়াতলা, ময়মনসিংহ ১১.লেংটার হাট, মতলব, চাঁদপুর

বোতল

বোতল মানব জীবনে বোতল অপরিহার্য । বোতল অনেক অর্থেও ব্যবহার হয় । কোনো কোনো এলাকায় আনস্মার্ট, বেয়াক্কেল প্রকৃতির লোককেও বোতল বলা হয় । ইউরোপ আমেরিকায় থাকতে আমি ডৃংক করতাম । হার্ড ডৃংক কমই খেতাম । প্রতিদিনই বিয়ার খেতাম । বিয়ার স্বাস্থ্য ভালো রাখে ও কাজ করতে এনার্জি জোগায় । পরিমিত বিয়ার খেলে কেউ মাতাল হয় না । মাঝে মাঝে বিশেষ কোনো পার্টিতে হুইস্কি খাওয়া হতো । তাও দামি ব্র্যান্ডের । জনি ওয়াকার ব্ল্যাক লেবেল, টিচার্স, পাসপোর্ট, হেনেসি, শিভাস রিগাল, জ্যাক ড্যানিয়েলস । সাকুরায়ও অনেক সময় এসব ব্র্যান্ডের হুইস্কি পাওয়া যায় না । তো দেশে আসার পরও কিছু দিন ডৃংক করেছিলাম । কুমিল্লায় সরকার অনুমোদিত একটা মদের দোকান আছে চক বাজারে । নামঃ নাদের ট্রেডিং কোং । এটা প্রায় আজ ৫০ বছর । এখানে বিদেশি ব্র্যান্ডের ডৃংক পাওয়া যায় না । দেশিয় কোম্পানি ‘কেরো এন্ড কোং’ যা দর্শনায় অবস্থিত তার তৈরি ভদকা, হুইস্কি, জিন পাওয়া যায় । আমাদের সমাজতো রক্ষনশীল । তাই কান্দিরপাড় থেকে একটা স্প্রাইট কিনে অর্ধেক খেতে খেতে চক বাজার যেতাম । নাদেরে যখন পৌঁছতাম তখন স্প্রাইটের বোতল অর্ধেক খালি হয়ে যেতো । আমি বাবুল ভাইকে স্প্...

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ

আমার দেখা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ সরকারঃ শেখ মুজিবের শাসনামল ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের মার্চে শুরু হয়ে সেই বছরেরই ডিসেম্বরের দিকে গিয়ে শেষ হয়। এই দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল। এই দুর্ভিক্ষকে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক হিসেবে গন্য করা হয়। ওই সময় আমি বুঝতাম। ক্লাশ ফোরে পড়তাম। আহারে ! কি যে অভাব ! অনেকের মতো আমরাও ভাত না খেয়ে রুটি খেয়েছি । তাও পরিমিত । কখনো জাউ খেয়েছি । শুকনো মরিচ পাওয়া যেতো না । কাঁচা মরিচের কেজি ছিলো ১৫০ টাকা । লবন ১২০ টাকা । আর সোনার ভরি ছিলো তখন ১৫০ টাকা । সোনা শুধু ওই সময় কম দাম ছিলো । চারদিকে অভাব । সারাদেশের মানুষের হাহাকার । কতো মানুষ না খেয়ে মারা গেছেন ! বিদেশি রিলিফ সব আওয়ামী লীগের লোকেরা চুরি করেছে । আর বেশিরভাগ রিলিফ সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে পাচার হয়েছিলো । তখন বর্ডার খোলা ছিলো তখন । মহিলাদের শাড়ি কাপড় ছিলো না । অনেকে মাছ ধরার জাল পরে লজ্জাস্থান ঢেকেছিলো । এসব ছবি পত্রিকায়ও ছাপা হয়েছিলো । কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাদের কোনো অভাব ছিলো না । বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র দুই বছর তিন মাসের মাথায় ...